অধ্যাপক জি এন সাইবাবাঃ বন্দীশালার না বলা গল্প

বন্দীশালার না বলা গল্পঃ গত ২৬শে মে বিকেল ৫টায় হায়দ্রাবাদের লামাকানে অধ্যাপক জি এন সাইবাবা, আদিবাসীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের নৃশংসতার বিরোধিতার জন্য জেলখানায় যে কষ্টকর সময় পার করেন, সেই বোধ থেকে না বলা কথাগুলো তুলে ধরেন।


৯০ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধী জেএন সাইবাবাকে জামিন দিল সুপ্রিম কোর্ট

freesaibabaredstar

মাওবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগে জেলবন্দি জেএন সাইবাবাকে জামিন দিল সুপ্রিম কোর্ট। এর আগে শর্তসাপেক্ষে কয়েক মাসের জন্য জামিন পেলেও সেই জামিন বাতিল করে দেয় বোম্বে হাইকোর্টের নাগপুর বেঞ্চ। গত বছরের  ২৫ ডিসেম্বর ,৯০ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে নাগপুর জেলের কুখ্যাত আন্ডা সেলে ফেরত পাঠান হয় সাইবাবাকে। প্রায় ১৪ মাস জেলে থাকার পর চিকিত্সার জন্য গতবছরের  ৩ জুলাই সাইবাবাকে জামিন দিয়েছিল বোম্বে হাইকোর্ট। ২০১৪ সালের মে মাসে কার্যত অপহরণ করে পরে গ্রেফতার দেখান হয় তত্কালীন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপককে।

(অনূদিত)


ডঃ জি এন সাইবাবাকে অবিলম্বে মুক্তি দিন!

12647395_1223921767624042_3750894634389210048_n


ভারতঃ অধ্যাপক সাইবাবার জামিনের মেয়াদ বাড়ল ৩ মাস

gn_saibaba_20150518.jpg

আরো ৩ মাসের জন্য জেএন সাইবাবার জামিনের মেয়াদ বাড়িয়ে দিল বোম্বে হাইকোর্ট। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপকের জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। মাওবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সন্দেহে ১ বছরের বেশি সময় জেলে বন্দি থাকার পর অবশেষে ৩০ জুন চিকিত্সার জন্য ৩ মাসের জামিন পান জেএন সাইবাবা।গত বছর মে মাসে দিল্লির ফ্ল্যাট থেকে কার্যত অপহরণের কায়দায় ৯০ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধী সাইবাবাকে গ্রেফতার করে মহারাষ্ট্রের পুলিস। এর পর তাঁকে রাখা হয় নাগপুরের কুখ্যাত আন্ডা সেলে। সাইবাবার মুক্তির দাবিতে সরব হন বহু বিশিষ্টজন। কিন্তু আজও সারাদেশে অসংখ্য গরীব মানুষ বিনা বিচারে বা জামিনের অর্থ জোগার করতে না পেরে পেটি কেসে জেলেই থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

সূত্রঃ http://satdin.in/?p=4619


ভারতঃ ‘আমাকে থামাতেই জেলে বন্দি করে রাখা হয়েছিল’ : সাইবাবা

11695888_1669679173255477_4070666266946316980_n

১৪ মাস কুখ্যাত আন্ডা সেলে থাকার পর চিকিত্সার জন্য আপাতত ৩ মাস জামিনে মুক্ত অধ্যাপক জিএন সাইবাবা। দ্য হিন্দু সংবাদপত্রকে(৬ জুলাই) দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে সাইবাবা জানিয়েছেন আদিবাসী এলাকার খনি লুটের জন্য সেই সমস্ত এলাকা থেকে আদিবাসীদের উচ্ছেদ করার  বিরুদ্ধে জনমত সংগঠিত করছিলেন তিনি। তাতে বিদেশি বিনিয়োগ কিছুটা হলেও ফিরে যায়। এর জন্যই তাঁকে জেলে আটকে রাখা হয়েছিল। ৯০ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধী এই অধ্যাপককে ৯ মে ২০১৪ সালে বাড়ি ফেরার সময় গাড়ি  থেকে ড্রাইভারকে নামিয়ে দিয়ে কার্যত অপহরণ করা হয়। পরে জানা যায় তাঁকে গ্রেফতার করেছে মহারাষ্ট্রের পুলিস। অভিযোগ মাওবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার।

সূত্রঃ http://satdin.in/?p=3017


ভারতঃ নাগপুর কারাগার আবু গারিব কারাগারের মতঃ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক জি এন সাইবাবা

11668060_1465745373739655_1604000832_n

সিপিআই (মাওবাদী) এর শীর্ষ মাওবাদী নেতা হিসেবে অভিযুক্ত ও গ্রেফতারকৃত দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জি এন সাইবাবাকে ৫৯ সপ্তাহ ৬ দিন পর গত শুক্রবার নাগপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়।

মেরুদণ্ডের সমস্যা ও অন্যান্য নিউরোলজিকাল ব্যাধির চিকিৎসার জন্য শারীরিকভাবে ৯০ ভাগ পঙ্গুত্ব বরণ করা সাইবাবাকে মুম্বাই হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ জামিন মঞ্জুর করে।

দিল্লি গামী ফ্লাইটে চড়ার আগে সাইবাবা, তার স্ত্রী বসন্ত ও তাদের আইনজীবীরা স্থানীয় এক কর্মীর বাড়িতে কিছু সময়ের জন্য বিরতি নেন। কারাগারের অন্যান্য বন্দীদের উপর নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে তিনি নাগপুর কেন্দ্রীয় কারাগারকে ইরাকের আবু গারিব কারাগারের সাথে তুলনা করেন।

সাইবাবা বলেন, শিক্ষিত লোকেরা গণ মানুষ ও তাদের দুঃখ-দুর্দশা থেকে দূরে সরে গেছে আর মাওবাদী মতাদর্শে এ কথাই বলা আছে।

সাইবাবা বলেন, “আমার শিক্ষা ও পড়াশোনা আমার ভেতরে আমাকে সমাজের দুর্বল অংশের জন্য কাজ করার, গণমানুষের জন্য সংগ্রাম করার ও দরিদ্র মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্ন তৈরী করেছে । এর জন্য সমাজ আমাকে একজন সন্ত্রাসীর সাথে তুলনা করতে পারে না কিংবা এ জাতীয় অপমানজনক কোন তকমা এঁটে দিতে পারে না।” তিনি বলেন, “১৪ মাস পর কারাগার থেকে বের হয়ে এসে স্বাধীনতার মূল্য আমি অনেক বেশি অনুভব করতে পারছি।”

মামলা সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন তার আইনজীবীরা আদালতে তার পক্ষে উপস্থাপন করবে। তিনি বলেন, “আমাকে চিকিৎসার জন্য জামিন মঞ্জুর করা হয়েছ, মামলার ব্যাপারে আমি কোন মন্তব্য করতে পারব না।”

সাইবাবা বলেন, “রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়মিত সহিংসতা বেড়েই চলেছে। কোন একটি গোষ্ঠী কর্তৃক সহিংসতা হল রাষ্ট্র ব্যবস্থার ভেতরেই নিহিত আগ্রাসনের বহিঃপ্রকাশ। নিয়মতান্ত্রিক সহিংসতা না থামলে কোন সহিংসতাই থামবে না। আমি এই সহিংসতার ইতি টানতে চাই।”

নিজের শ্রেণীকক্ষ ও ছাত্রছাত্রীদের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, কারাগারে বন্দীদের মধ্যে অধিকাংশ দলিত, মুসলমান ও অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষ যাদের তুচ্ছ অপরাধে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে।

কারাগারে অল্প কয়েকজন গ্যাংস্টার ও উচ্চ শ্রেণীর গুটিকয়েক কয়েদী রয়েছে।

সাইবাবা বলেন, “অনেক আদিবাসী লোককে মাওবাদী আখ্যা দিয়ে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। তারা বিনা বিচারে ও অধিকার বঞ্চিত হয়ে কারাগারে ধুঁকে ধুঁকে মরছে।”

gn_saibaba_20150518.jpg

সূত্রঃ http://epaperbeta.timesofindia.com/Article.aspx?eid=31804&articlexml=Nagpur-jail-like-Abu-Ghraib-DU-prof-04072015015040


ভারতঃ মাওবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগে বন্দি অধ্যাপক সাইবাবার স্বল্প মেয়াদের জামিন হয়েছে

gn_saibaba_20150518.jpg

১ বছরের বেশি সময় জেলে বন্দি থাকার পর অবশেষে বোম্বে হাইকোর্ট থেকে মাত্র ৩ মাসের জন্য জামিন পেলেন দিল্লির অধ্যাপক জে এন সাইবাবা। চিকিত্সার জন্যই স্বল্প মেয়াদের জামিন সাইবাবাকে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে আদালত। মাওবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সন্দেহে বন্দি অধ্যাপক জিএন সাইবাবাকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন দেওয়ার ভাবনার  কথা  কিছু দিন আগে রাজ্য সরকারকে জানায় বোম্বে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মোহিত শা ও একে মেননের ডিভিশন বেঞ্চ। এর আগে বেসরকারি হাসপাতলে  সাইবাবার চিকিত্সা  করানোর অনুমতি দিয়েছিল বোম্বে হাইকোর্ট। বন্দি অধ্যাপকের শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখেই জামিনের আবেদনের পুনর্বিবেচনা করল হাইকোর্ট।

(মুম্বই: তিন মাসের সাময়িক জামিন পেলেন মাওবাদীদের সঙ্গে যোগসূত্র থাকার অভিযোগে সাসপেন্ড হওয়া দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর জি এন সাইবাবা। তাঁর স্বাস্থ্যের ক্রমাবনতি হতে থাকায় জামিন মঞ্জুর করল প্রধান বিচারপতি মোহিত শা ও বিচারপতি এসবি শুকরেকে নিয়ে গঠিত বম্বে হাইকোর্টের ডিভিশন  বেঞ্চ। মহারাষ্ট্র পুলিশ গত বছর গ্রেফতার করে সাইবাবাকে। তারপর থেকে তিনি নাগপুর জেলেই রয়েছেন। শারীরিক অক্ষমতার জন্য হুইলচেয়ারেই পড়ে থাকেন। ৫০ হাজার টাকার বন্ডে তাঁকে জামিনে ছেড়ে দিতে এদিন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় বেঞ্চ। বিচারপতিরা বলেছেন, সাইবাবাকে চিকিত্সার জন্য সাময়িক জামিনে ছেড়ে না দেওয়া হলে তাঁর যে প্রাণ সংশয় হতে পারে, সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত। সাইবাবার মৌলিক অধিকার রক্ষায় সতর্ক রয়েছে এই আদালত।

পুর্ণিমা উপাধ্যায় নামে জনৈক সমাজকর্মীর লেখা চিঠি ও সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন পড়ে স্বতঃপ্রনোদিত হয়ে সাইবাবার বিষয়টি হাতে নেয় হাইকোর্ট। এর আগে আদালত ডাক্তারের রিপোর্টও খতিয়ে দেখে। সাইবাবা এমন এক অসুখে ভুগছেন যার ফলে তাঁর মেরুদণ্ড ধীরে ধীরে ক্ষয় হচ্ছে, এমনটাই বলা হয়েছে সেই রিপোর্টে। সেই প্র্রেক্ষাপটে বেঞ্চ বলেছে, সাইবাবার থেরাপি চাই, ব্যাথা-যন্ত্রণা লাঘবের চিকিত্সা দরকার। সর্বোপরি, পরিবার, প্রিয়জনেদের সেবাযত্নও চাই। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যানেলভুক্ত যে কোনও হাসপাতালে তাঁর চিকিত্সা হতে পারে।

তবে তিনি পালিয়ে গা ঢাকা দিতে পারেন বা তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করে ফেলতে পারেন, এই যুক্তি দিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে সাইবাবাকে জামিন দেওয়ার বিরোধিতা করা হয়। সরকারি কৌঁসুলির দাবি, সাইবাবার বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য। তাঁর ল্যাপটপ, বাড়ি থেকে মাওবাদী যোগসূত্রের একাধিক প্রমাণ মিলেছে।)

গত বছর মে মাসে দিল্লির ফ্ল্যাট  থেকে কার্যত অপহরণের কায়দায় ৯০ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধী সাইবাবাকে  গ্রেফতার করে মহারাষ্ট্রের পুলিস। এর পর তাঁকে রাখা হয়েছে নাগপুরের কুখ্যাত আন্ডা সেলে। সাইবাবার মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছেন বহু বিশিষ্টজন। কিন্তু সারাদেশে অসংখ্য গরীব মানুষ বিনা বিচারে বা জামিনের অর্থ জোগার করতে না পেরে জেলেই থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

সূত্রঃ http://satdin.in/?p=2795