ভিডিওঃ ফিলিপিনের কমিউনিস্ট পার্টি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন

গত ২৬শে ডিসেম্বর ২০১৬, ফিলিপিনের কমিউনিস্ট পার্টি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন হয়েছে। এতে নেতৃত্ব দেয় পার্টির সশস্ত্র শাখা ‘নিউ পিপলস আর্মি’র পুলাং বাগানি ব্যাটেলিয়ন।

Advertisements

ফিলিপাইনের রাজধানীতে শতশত মাওবাদী গেরিলা, জনগণকে বিপ্লবে যোগ দেয়ার আহবান

গত ২৭শে মার্চ ২০১৭, ফিলিপাইনের কমিউনিস্ট পার্টি’র এর সশস্ত্র শাখা ‘নিউ পিপলস আর্মি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পার্টির রাজনৈতিক সংগঠন ‘ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’ এর বিপ্লবী মাওবাদী গেরিলা কর্মীরা রাজধানীতে সমাবেশ ও র‍্যালি বের করে। এসময় শতশত মাওবাদী বিপ্লবীরা- মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী, আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ ও সামন্তবাদ বিরোধী বিপ্লবে অংশ নিতে ও ‘নিউ পিপলস আর্মি’তে যোগ দেয়ার জন্যে জনগণের প্রতি আহবান জানান।


ফিলিপাইনঃ প্রতিক্রিয়াশীল সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মাওবাদীদের গেরিলা অ্যাকশন চলমান রয়েছে

ফিলিপাইনের মাওবাদী গেরিলারা

ফিলিপাইনের মাওবাদী NEP / NPA এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তাদের গেরিলারা গত ২৩, ২৪, ২৫ মার্চ প্রতিক্রিয়াশীল সেনাবাহিনী ও বহুজাতিক কোম্পানি Dole-Stanfilco frutera এর বিরুদ্ধে তাদের সশস্ত্র অ্যাকশন অব্যাহত রেখেছে।

মান্দায়া’তে কৃষক জনগণের উপর সেনাবাহিনীর বিমান ও হেলিকপ্টার যোগে সন্ত্রাসী বোমা বর্ষণের প্রত্যুত্তরে মাওবাদী গেরিলারা সেনাবাহিনীর ৬৬তম ইনফান্ট্রি ব্যাটেলিয়নের উপর গেরিলা হামলা চালিয়ে ৫ সেনাকে খতম করে ও অস্ত্রসহ অন্যান্য সামগ্রী জব্দ করে।

অন্যদিকে, কায়াগা, সান ফেরনান্দো ও বুকিদননে সেনাবাহিনীর ৬০তম ইনফান্ট্রি ব্যাটেলিয়নের উপর গেরিলা অ্যাকশন চালিয়ে ২ সেনাকে খতম ও ২ জনকে গুরুতর জখম করে।

২৫শে মার্চ, শ্রমিকদের চাকরি থেকে ছাঁটাই এবং শোষণের প্রতিবাদে মাওবাদী গেরিলারা বহুজাতিক ফল কোম্পানি Dole-Stanfilco frutera এর ৩টি যানবাহন ধ্বংস করে দিয়েছে।


ফিলিপাইনে মাওবাদী গেরিলাদের হামলায় ৭ মেরিন সেনা নিহত

ফিলিপাইনের মাওবাদী ‘নিউ পিপলস আর্মি'(NPA)

গত ২১শে মার্চ মঙ্গলবার ফিলিপাইনের সুলতান কুদরাতের কালামান্সিগ শহরে ফিলিপাইনের মাওবাদী নিউ পিপলস আর্মি’র(NPA) সাথে সরকারী সেনাদের এক বন্দুকযুদ্ধে ৭ মেরিন সেনা নিহত হয়েছে।

এ বিষয়ে NPA মুখপাত্র ‘কা দেঞ্চিও মাদ্রিগাল’ এক বিবৃতিতে বলেন,  এই আক্রমণটি মেরিন ব্যাটেলিয়ন ল্যান্ডিং টিমের ২য় মেরিন কোম্পানির বিরুদ্ধে মাওবাদীদের একটি ‘শাস্তিমূলক ব্যবস্থা’।

David M. Consunji, Inc. কর্তৃক উন্মুক্ত কয়লা খনি উত্তোলনের রক্ষায় নিয়োজিত মেরিন সেনাদের ‘পাহারাদার কুকুর’ হিসেবে অভিযুক্ত করেন মুখপাত্র মাদ্রিগাল। এ ছাড়াও তিনি এই যুদ্ধে আর্টিলারি গোলাবর্ষণে ৬ মাওবাদী গেরিলা নিহত হওয়ার দাবী করে সেনাবাহিনীর দেয়া মিথ্যা বিবৃতিকে অস্বীকার করেন।

সূত্রঃ http://davaotoday.com/main/politics/npa-kills-7-marines-in-sultan-kudarat-clash/

 


ফিলিপাইন সরকার ও মাওবাদীদের অস্ত্রবিরতি চুক্তি

e23aac650d4cd8d5b65a1674463e0cad-57c1673fc345c

শান্তি আলোচনার পথ সুগম করতে ফিলিপাইন সরকার ও মাওবাদীদের মধ্যে একটি অনির্দিষ্টকালীন অস্ত্রবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। শুক্রবার নরওয়েতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। নরওয়েই মূলত এ চুক্তির ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে কাজ করেছে।
উল্লেখ্য, অনির্দিষ্টকালীন অস্ত্র্র বিরতি চুক্তিতে উপনীত হতে সোমবার থেকে অসলোতে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। শুক্রবার চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আপাতত আলোচনার সমাপ্তি হয়েছে। আগামী ৮-১২ অক্টোবর আবারও দুই পক্ষের আলোচনায় বসার কথা রয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তের শান্তিবিষয়ক উপদেষ্টা জেসুস দুরেজা বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন ঘটনা।’ প্রেসিডেন্ট দুয়ার্তে নিজেও এ চুক্তির প্রশংসা করেছেন বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শান্তি প্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে এবং ছয় মাসের মধ্যে অর্থনেতিক ও সামাজিক সংস্কার নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে কাজ করার জন্য দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে।’
কমিউনিস্ট পার্টি অব ফিলিপাইন ১৯৬৮ সালে ফিলিপাইন সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। সরকারি হিসেবে মতে, এ পর্যন্ত দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৩০ হাজার লোকের প্রাণহানি হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা


ফিলিপাইন কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান বেনিতো তিয়ামজোন ও তার স্ত্রী উলিমা অস্ট্রিয়া মুক্তি পেয়েছেন

Tiamzons-781x445

ফিলিপাইন কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিপি) চেয়ারম্যান বেনিতো তিয়ামজোন ও তার স্ত্রী কমিউনিস্ট পার্টির অপর নেতা উলিমা অস্ট্রিয়া তিয়ামজোনকে মুক্তি দিয়েছে দেশটির সরকার।

গত ১৯শে আগস্ট ক্রেম বিচারিক কেন্দ্র থেকে তাদের মুক্তি দেয়া হয়।

নিউ পিপলস আর্মি’র এই কমিউনিস্ট দম্পতি উচ্চ ঝুঁকির বন্দী হিসেবে সরকারের কাছে বিবেচিত ছিলেন।

তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে চলমান মামলার জামিন দেয়ার পরেই তাদের মুক্তি দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ২২শে মার্চ দুটি গাড়িতে করে যাওয়ার সময় সেবুর কারকার থেকে ফিলিপাইন কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিপি) চেয়ারম্যান বেনিতো তিয়ামজোন ও তার স্ত্রী কমিউনিস্ট পার্টির অপর নেতা উলিমা অস্ট্রিয়া তিয়ামজোনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

সূত্রঃ http://www.philstar.com/headlines/2016/08/20/1615240/tiamzons-released-crame


ফিলিপাইনে ৭ দিনের অস্ত্রবিরতি পালন করবে মাওবাদী কমিউনিস্টরা

1471690733

শান্তি আলোচনাকে সামনে রেখে নতুন করে অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দিয়েছে ফিলিপাইনের সরকার এবং কমিউনিস্ট পার্টি। চলতি মাসের ২২ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত নরওয়েতে ওই শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা।  ফিলিপাইনের কমিউনিস্ট পার্টি সাত দিনব্যাপী অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করার পর ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তেও নতুন করে অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দেন।  এর আগে মাওবাদী গেরিলাদের হাতে সরকারের মিলিশিয়া বাহিনীর একজন সদস্য নিহত হলে প্রেসিডেন্ট ঘোষিত ওই অস্ত্রবিরতি ভেস্তে যায়।
উল্লেখ্য নিউ পিপলস আর্মি-র দুইটি ফ্রন্ট। এর প্রকাশ্য রাজনৈতিক সংগঠন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট। অপর ফ্রন্ট নিউ পিপলস আর্মি আন্ডারগ্রাউন্ডে মাওবাদী ধারায় গেরিলাযুদ্ধ করে থাকে।
এক বিবৃতিতে কমিউনিস্ট পার্টি জানিয়েছে, ‘আমরা আশা করি অস্ত্রবিরতির ঘোষণা সরকারের পক্ষ থেকেও আসবে। যা শান্তি আলোচনার প্রতি সরকারের আস্থাকে নির্দেশ করবে।’ সেখানে আরও বলা হয়, ‘শান্তি আলোচনা আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য পার্টি এবং তার সশস্ত্র ইউনিট (নিউ পিপল’স আর্মি) দীর্ঘমেয়াদী অস্ত্রবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।’ পার্টির প্রকাশ্য সংগঠন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট জানিয়েছে, তারা শান্তি আলোচনার জন্য তৈরি।
এর আগে প্রেসিডেন্ট দুয়ার্তে ২৫ জুলাই মাওবাদীদের প্রতি অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করেন। তবে তা টিকেছিল মাত্র পাঁচ দিন। মাওবাদীদের সঙ্গে সংঘর্ষে সরকারি বাহিনীর এক কর্মকর্তা নিহত হলে ওই অস্ত্রবিরতি ভেঙে পড়ে। এবার সরকারের পক্ষ থেকে নতুন অস্ত্র বিরতির ঘোষণা দিয়ে শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা জেস দুরেজা বলেন, ‘এই ভূখণ্ডে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যা দরকার, তা-ই করা হচ্ছে। বন্দুকের মুখ বন্ধ করে আমরা নিজেদের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে আনতে পারবো।’

এর আগে শুক্রবার দুয়ার্তে দুই জ্যেষ্ঠ কমিউনিস্ট নেতাকে মুক্তি দেন। তারা শান্তি আলোচনার জন্য নরওয়ের অসলোর জন্য যাত্রা শুরু করেছেন।

ফিলিপাইনে ১৯৬৯ সাল থেকে সশস্ত্র কমিউনিস্টদের সঙ্গে সরকারের চলমান বিরোধের বলি হয়েছেন অন্তত ৩০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। ৩০ বছর ধরে চলছে আলোচনা। কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি।

সর্বশেষ ২০১২ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বেনিগনো অ্যাকিনোর সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেঙে পড়ে। ধারণা করা হয়, এখন প্রায় চার হাজার সশস্ত্র যোদ্ধা রয়েছে মাওবাদীদের।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, আল-জাজিরা।