ভিডিওঃ ফিলিপিনের কমিউনিস্ট পার্টি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন

গত ২৬শে ডিসেম্বর ২০১৬, ফিলিপিনের কমিউনিস্ট পার্টি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন হয়েছে। এতে নেতৃত্ব দেয় পার্টির সশস্ত্র শাখা ‘নিউ পিপলস আর্মি’র পুলাং বাগানি ব্যাটেলিয়ন।


ফিলিপাইন সরকার ও মাওবাদীদের অস্ত্রবিরতি চুক্তি

e23aac650d4cd8d5b65a1674463e0cad-57c1673fc345c

শান্তি আলোচনার পথ সুগম করতে ফিলিপাইন সরকার ও মাওবাদীদের মধ্যে একটি অনির্দিষ্টকালীন অস্ত্রবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। শুক্রবার নরওয়েতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। নরওয়েই মূলত এ চুক্তির ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে কাজ করেছে।
উল্লেখ্য, অনির্দিষ্টকালীন অস্ত্র্র বিরতি চুক্তিতে উপনীত হতে সোমবার থেকে অসলোতে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। শুক্রবার চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আপাতত আলোচনার সমাপ্তি হয়েছে। আগামী ৮-১২ অক্টোবর আবারও দুই পক্ষের আলোচনায় বসার কথা রয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তের শান্তিবিষয়ক উপদেষ্টা জেসুস দুরেজা বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন ঘটনা।’ প্রেসিডেন্ট দুয়ার্তে নিজেও এ চুক্তির প্রশংসা করেছেন বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শান্তি প্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে এবং ছয় মাসের মধ্যে অর্থনেতিক ও সামাজিক সংস্কার নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে কাজ করার জন্য দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে।’
কমিউনিস্ট পার্টি অব ফিলিপাইন ১৯৬৮ সালে ফিলিপাইন সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। সরকারি হিসেবে মতে, এ পর্যন্ত দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৩০ হাজার লোকের প্রাণহানি হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা


ফিলিপাইনে ৭ দিনের অস্ত্রবিরতি পালন করবে মাওবাদী কমিউনিস্টরা

1471690733

শান্তি আলোচনাকে সামনে রেখে নতুন করে অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দিয়েছে ফিলিপাইনের সরকার এবং কমিউনিস্ট পার্টি। চলতি মাসের ২২ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত নরওয়েতে ওই শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা।  ফিলিপাইনের কমিউনিস্ট পার্টি সাত দিনব্যাপী অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করার পর ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তেও নতুন করে অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দেন।  এর আগে মাওবাদী গেরিলাদের হাতে সরকারের মিলিশিয়া বাহিনীর একজন সদস্য নিহত হলে প্রেসিডেন্ট ঘোষিত ওই অস্ত্রবিরতি ভেস্তে যায়।
উল্লেখ্য নিউ পিপলস আর্মি-র দুইটি ফ্রন্ট। এর প্রকাশ্য রাজনৈতিক সংগঠন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট। অপর ফ্রন্ট নিউ পিপলস আর্মি আন্ডারগ্রাউন্ডে মাওবাদী ধারায় গেরিলাযুদ্ধ করে থাকে।
এক বিবৃতিতে কমিউনিস্ট পার্টি জানিয়েছে, ‘আমরা আশা করি অস্ত্রবিরতির ঘোষণা সরকারের পক্ষ থেকেও আসবে। যা শান্তি আলোচনার প্রতি সরকারের আস্থাকে নির্দেশ করবে।’ সেখানে আরও বলা হয়, ‘শান্তি আলোচনা আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য পার্টি এবং তার সশস্ত্র ইউনিট (নিউ পিপল’স আর্মি) দীর্ঘমেয়াদী অস্ত্রবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।’ পার্টির প্রকাশ্য সংগঠন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট জানিয়েছে, তারা শান্তি আলোচনার জন্য তৈরি।
এর আগে প্রেসিডেন্ট দুয়ার্তে ২৫ জুলাই মাওবাদীদের প্রতি অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করেন। তবে তা টিকেছিল মাত্র পাঁচ দিন। মাওবাদীদের সঙ্গে সংঘর্ষে সরকারি বাহিনীর এক কর্মকর্তা নিহত হলে ওই অস্ত্রবিরতি ভেঙে পড়ে। এবার সরকারের পক্ষ থেকে নতুন অস্ত্র বিরতির ঘোষণা দিয়ে শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা জেস দুরেজা বলেন, ‘এই ভূখণ্ডে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যা দরকার, তা-ই করা হচ্ছে। বন্দুকের মুখ বন্ধ করে আমরা নিজেদের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে আনতে পারবো।’

এর আগে শুক্রবার দুয়ার্তে দুই জ্যেষ্ঠ কমিউনিস্ট নেতাকে মুক্তি দেন। তারা শান্তি আলোচনার জন্য নরওয়ের অসলোর জন্য যাত্রা শুরু করেছেন।

ফিলিপাইনে ১৯৬৯ সাল থেকে সশস্ত্র কমিউনিস্টদের সঙ্গে সরকারের চলমান বিরোধের বলি হয়েছেন অন্তত ৩০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। ৩০ বছর ধরে চলছে আলোচনা। কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি।

সর্বশেষ ২০১২ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বেনিগনো অ্যাকিনোর সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেঙে পড়ে। ধারণা করা হয়, এখন প্রায় চার হাজার সশস্ত্র যোদ্ধা রয়েছে মাওবাদীদের।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, আল-জাজিরা।


রিপোর্টঃ বিশ্বের সবচাইতে দ্রুততম ও সফল গেরিলা অপারেশনটি মাওবাদীদের

maxresdefault

অনূদিতঃ

বিশ্বের সবচাইতে দ্রুততম ও সফল গেরিলা অপারেশনটি ফিলিপাইনের মাওবাদীদের ।  ফিলিপাইনের কমিউনিস্ট পার্টির(CPP) সশস্ত্র শাখা নিউ পিপলস আর্মির(NPA) মাওবাদী দশজন গেরিলা ২০০৮ সালের ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে ফিলিপাইনের কুইজন প্রাদেশিক কারাগারে প্রবেশ করে।   এসময় তারা ফিলিপাইন ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির পোশাক পরা ছিল।  কুইজন কারাগারের কর্মকর্তারা গেরিলাদের ছদ্মবেশি ফাঁদে পা দেয়।  গেরিলারা ভেতরে ঢুকেই কারারক্ষীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে।  ঘটনার আকস্মিকতায় বোকা বনে যাওয়া ২৪জন কারারক্ষী ও প্রহরীরা কোনো প্রকার বাঁধা না দিয়েই আত্মসমর্পন করে। বাকি ২৬জন কারারক্ষী ও ডেপুটি প্রহরী তখন ম্যানিলায় একটি সেমিনারে অংশগ্রহণ করছিল।  স্বশস্ত্র নিউ পিউপলস আর্মি গেলিরারা কারারক্ষী ও প্রহরীদের একটি সেলে বন্ধী করে রাখে।  এরপর তারা কারাগারের বিভিন্ন অংশ থেকে তাদের ৭জন নেতাকে খুঁজে বের করে যারা এই কারাগারে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ভোগ করছিল। এরপর আগে থেকেই প্রস্তুত চারটি ভ্যানে গেলিরারা তাদের নেতাদের নিয়ে পালিয়ে যায়।

নিউ পিপলস আর্মির এই অপারেশনটি মাত্র ১৫মিনিট স্থায়ী হয়েছিল।  এই অপারেশনে কোনো গুলিবর্ষন ও রক্তপাত হয়নি।  কারাগার থেকে মাওবাদী বন্দী উদ্ধার করা অপারেশন এর থেকে দ্রুত গতিতে ও সার্থক ভাবে বিশ্বের কোন গেরিলা দল আগে করতে পারেনি।

১৯৬০ দশকে ফিলিপাইনসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তরুণ ও ছাত্রদের মধ্যে জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের একটি জোয়ার দেখা যায়।  ওই রেঁনেসা বা জোয়ারের অংশ হিসেবে নিউ পিপলস আর্মি ১৯৬৯ সালের মার্চ মাসে গঠিত হয় যাদের উদ্দেশ্য ছিল মাওবাদী গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে সেই সময়ের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস শাসিত সরকারের পতন ঘটানো ও দেশে কমিউনিজম প্রতিষ্ঠা করা।  মার্কসবাদী আদর্শ ও মাওবাদী লাইন নিয়ে এই গ্রুপটি গঠন করা হয়।  ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত চীনের সরকার নিউ পিপলস আর্মিদের বিভিন্ন ধরণের সহযোগিতা দিয়েছিল।  এই সময়ে দলটি প্রচুর গেরিলা নিবন্ধন করে এবং বেশ কিছু বড় অপারেশন পরিচালনা করে।  কিন্তু ১৯৭৬ সালে চীন সরকার তাদের সব ধরণের সাহায্য-সহযোগিতা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।  চীনের সমর্থন হারানোর পর নিউ পিপলস আর্মি বেশ খারাপ কয়েকটি বছর অতিক্রম করে। ১৯৮০ সালের মাঝামাঝিতে নিউ পিপলস আর্মির নেতারা পশ্চিমা কমিউনিস্ট পার্টি বিশেষ করে কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের কাছ থেকে সাহায্য-সহযোগিতা পাওয়ার নতুন উৎস তৈরি করে।  একই সময়ে তারা ফিলিপাইনের ধনীব্যক্তি ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ‘বিপ্লবী কর’ হিসেবে টাকা-পয়সা সংগ্রহ করতে শুরু করে।

নিউ পিপলস আর্মি তাদের অপারেশনে এম-১৬, এম-১৪, এম১ গারান্ডস, কার্বিনেস ও স্প্রিংফিল্ড রাইফেল, সি৪ এক্সপ্লোসিভ, বি৪০ এন্টি ট্যাংক রকেট এবং হাতে তৈরি গ্রেনেড ব্যবহার করে।

যদিও নিউ পিপলস আর্মিরা প্রাথমিকভাবে একটি গ্রাম্যভিত্তিক গেরিলা দল, কিন্তু তারা শহুরে অবকাঠামোর মধ্যেও কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকে।  ১৯৮৫ সালে তারা শহর ভিত্তিক গেরিলা স্কোয়াড তৈরি করে।  নিরাপত্তা বাহিনী, রাজনীতিবিদ, বিচারক, সরকারি কর্মকর্তা ও অভিযুক্ত অপরাধীদের টার্গেট করা হয়।  নিউ পিপলস আর্মি মাওবাদী আদর্শের অনুসারী হওয়ায় শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ছিল তাদের অবস্থান। তাই ফিলিপাইনে যুক্তরাষ্ট্রের খবরদারির বিরুদ্ধে তারা অবস্থান নেয় এবং আমেরিকার সামরিক ব্যক্তিদের তাদের প্রধান টার্গেট হিসেবে নেয়।  এক সময় তারা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহীনির মেজর জেমস রোকে গুলি করে হত্যা করে যিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ‘সার্ভাইভাল, এভাসন, রেসিস্ট্যান্ট ও এস্কেপ স্কোয়াড প্রতিষ্ঠাতা।  ২০০২ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ২০০৫ সালের নভেম্বরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন মাওবাদীদের বৈদেশিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে।

বর্তমানে নিউ পিপলস আর্মির প্রতিষ্ঠাতা হোসে মারিয়া সিসন সহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তরা আত্মগোপনে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করেন।  এখন তাদের কার্যক্রম ফিলিপাইনের ৬০টি প্রদেশে রয়েছে।

 

সূত্রঃ https://page11.wordpress.com/2014/07/09/the-story-of-new-peoples-army/


যুদ্ধবন্দী ৫ পুলিশ অফিসারকে মুক্তি দিলেন ফিলিপাইনের মাওবাদী গেরিলারা (ভিডিওসহ)

যুদ্ধবন্দীদের মুক্তি অনুষ্ঠান

যুদ্ধবন্দীদের মুক্তি অনুষ্ঠান

অনূদিতঃ

গত ২৫শে এপ্রিল ফিলিপিনের বারাঙ্গায় লিমিয়াদ এ একটি জনাকীর্ণ ব্যায়ামাগারে ফিলিপিনের মাওবাদী NPA-নিউ পিপলস আর্মি’র সদস্যরা গত ১৬ই এপ্রিল তাদের হাতে ৫ পুলিশ কর্মকর্তা আটক হওয়ার পর হেফাজতে থাকা যুদ্ধবন্দী এই ৫ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মেয়র রডরিগো দুতেরতে’র কাছে হস্তান্তর করেছে।  এসময় মাওবাদীদের ১ম পুলাং বাগানি ব্যাটেলিয়ন যুদ্ধবন্দীদের প্রহরারত ছিল।

মাওবাদী NPA এর কম্যান্ডার কা ইয়াঞ্চ্য বলেন, পাঁচ পুলিশকে তাদের স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতির অংশ হিসেবে আটক করা হয়েছে।  “সামরিক, আধা-সামরিক বা পুলিশ, যারা আমাদের এলাকায় প্রবেশ করবে তারা সবাই ধরা পড়বে ও জনগণের আদালতে তাদের বিচার করা হবে” বলে জানান কা ইয়াঞ্চ্য।

এসময় যুদ্ধবন্দী পুলিশ কর্মকর্তা আলী জুনিয়র বলেন যে, “তার জন্যে শুয়োরের মাংস ছাড়া খাবার প্রস্তুত করে তাকে সম্মানিত করায় তিনি মাওবাদীদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞ।”

আরেক যুদ্ধবন্দী পুলিশ প্রধান তারঙ্গয় বলেন, “মাওবাদীরা আমাদের সাথে যা করেছেন, তা আমাদের কাছে অপ্রত্যাশিত, যা আমাদের পুলিশ ইউনিটে হয় না, মাওবাদীরা আমাদের সাথে ভাল ব্যবহার করেছেন, খাবার দিয়েছেন, শোবার জায়গা দিয়েছেন, চিকিৎসা করিয়েছেন, এমনকি যে সব পুলিশ সদস্যরা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তাদের ঔষধ দিয়েছেন, তারা খুবই শৃঙ্খলাবদ্ধ, আমরা খুব উঁচু সম্মান পেয়েছি তাদের কাছ থেকে, বুঝেছি এটা তাদের মানবাধিকার বোধ থেকেই আসে।  আমাদের বন্দী করার পর প্রথমেই খাবার দেয়া হয়েছিল, এক পর্যায়ে অনুভব করতে পারি যে আমরা নিজেরা তাদের উপর বোঝা হয়ে পরেছি।  তাদের ধন্যবাদ জানাই “।

উপস্থিত মেয়র দুতেরতে ও যাজক জেইমি যুদ্ধবন্দীদের সুশৃঙ্খল মুক্তি বাস্তবায়নে মাওবাদী এনপিএ-র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সূত্রঃ  http://davaotoday.com/main/politics/duterte-receives-npas-prisoners-of-war/


ফিলিপিনে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে টার্গেট করেছে মাওবাদীরা

y101predicts_042611main

অনুদিতঃ  খুব শীঘ্রই ফিলিপিনের অন্তত পাঁচটি অবস্থানে গড়ে উঠবে এমন মার্কিন সামরিক ঘাঁটির বিরুদ্ধে কৌশলী অভিযান পরিচালনা করতে ফিলিপাইনের কমিউনিস্ট পার্টি(CPP), তার সশস্ত্র শাখা নিউ পিপলস আর্মি(NPA)কে নির্দেশ দিয়েছে।

৪ঠা এপ্রিল ২০১৬তে দেয়া এক বিবৃতিতে CPP জানায়, “বালিকাতানে শুরু হওয়া ফিলিপিন-মার্কিন যৌথ সামরিক মহড়ায় ৫০০০ মার্কিন সৈন্য, যুদ্ধের যানবাহন ও যন্ত্রপাতির প্রবেশ ও ব্যবহার হয়েছে। মহড়াটি ১৫ই এপ্রিল শেষ হয়। মার্কিন-ফিলিপিন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি (Edca) এর আওতায় এ সব সেনা ফিলিপাইনে মোতায়েন করবে আমেরিকা। পাম্পাঙ্গা’র সাবেক ক্লারক বিমান ঘাঁটিতে এ সব সেনা অবস্থান করবে। মাওবাদীরা এই অঞ্চলে সকল মার্কিন কার্যকলাপ ও সামরিক অবস্থান ও তাদের দেশীয় বিশ্বাসঘাতক বাহিনীর বিরোধিতা করবে এবং এর বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেবে।”

গত ২৫ বছরের মধ্যে এই প্রথম ফিলিপাইনে সেনা মোতায়েন করতে চলেছে আমেরিকা। ওয়াশিংটনের ফিলিপাইনের দূতাবাস মার্কিন সেনা মোতায়েন সংক্রান্ত এ ঘোষণা দিয়েছে।ভবিষ্যতে আরো কয়েকটি ঘাঁটির বিষয়ে চুক্তি হতে পারে। ফিলিপাইন আসার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশ কার্টার এমন আভাস দেন।কার্টার ঘোষণা করেন, ফিলিপাইনে শত শত মার্কিন সেনা এবং পাঁচটি রণতরী মোতায়েন করা হবে । ১১ দিনের এই মহড়ায় ৫হাজার মার্কিন এবং ৪ হাজার ফিলিপিন সেনা অংশগ্রহণ করেছে। এ ছাড়া, অস্ট্রেলিয়ারও ৮০ সেনা এ মহড়ায় অংশ নিয়েছে।

এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফিলিপাইনের যৌথ সামরিক মহড়ার প্রতিবাদে রাজধানী ম্যানিলায় বিক্ষোভ করেছে দেশটির ছাত্ররা। ফিলিপাইনের ভূখণ্ডে মার্কিন সেনাদের অবস্থান ও যৌথ মহড়ায় অংশ নেয়ার বিরুদ্ধে ছাত্ররা নিন্দা জানিয়েছে এবং একে তারা দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কথিত কৌশলগত ভারসাম্য পুন প্রতিষ্ঠার অজুহাতে ফিলিপাইনে সেনা পাঠানোর এই পরিকল্পনা নিয়েছে আমেরিকা। এর আগে, একই পরিকল্পনার আওতায় অস্ট্রেলিয়া এবং সিঙ্গাপুরেও মার্কিন সেনা মোতায়েনের কাজে এগিয়ে চলেছে। মার্কিন সাবেক উপনিবেশ ফিলিপাইনে অতীতে আমেরিকার কয়েকটি ঘাটি ছিল। এ সব ঘাটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঘাটিগুলোর অন্যতম হিসেবে গণ্য করা হতো।

সূত্রঃ bulatlat


‘যুদ্ধবন্দীদের বিষয়ে আলোচনার পথ খোলা’ – ফিলিপিনের মাওবাদী NDFP

comval46-7

ফিলিপিন কমিউনিস্ট পার্টির রাজনৈতিক শাখা ফিলিপাইন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (NDFP) গত ১২ই এপ্রিল, মঙ্গলবার, ঘোষণা দিয়েছে যে মাওবাদী নিউ পিপলস আর্মি (NPA) এর হেফাজতে থাকা পুলিশ ও সৈন্যদের মুক্তির জন্য তারা আলোচনার পথ খোলা রাখবে।
গত ৩রা এপ্রিল, মিন্দানাওয়ের ৭টি অঞ্চলে চেকপয়েন্ট বসিয়ে মাওবাদী NPA’র সদস্যরা তিন পুলিশ কর্মকর্তা ও দুই সৈন্যকে যুদ্ধবন্দী হিসেবে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

বন্দীদের চূড়ান্ত মুক্তির জন্যে নিরাপত্তা সম্পন্ন অঞ্চলেই আলোচনা হতে হবে,-  NDFP-মিন্দানাও মুখপাত্র সেজার রেনেরিও,  এক বিবৃতিতে এ খবর জানায়।

সেজার রেনেরিও বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের হেফাজতে থাকা বন্দীদের একটি ভিডিও বার্তা তাদের প্রিয়জনদের জন্য প্রকাশ করবে বলে পরিবারকে আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন,  তাদের পরিবারদের দেশে “গৃহযুদ্ধের বাস্তবতা” বুঝতে হবে। কারণ তারা শাসক শ্রেণীর সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য বলেই তাদের বন্দী করে নিয়ে যাওয়া হয়।

সশস্ত্র বাহিনী, প্রতিক্রিয়াশীল আইন এবং আদালত ও কারাগার ব্যবহার করে শাসকশ্রেণী আধিপত্য চালাচ্ছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, “তা সত্ত্বেও বিপ্লবী আন্দোলন বন্দীদের ‘নিপীড়িত অংশ’ হিসাবেই মূল্যায়ন করে”। কিন্তু যুদ্ধের কারণে, বন্দীদের আপনাদের(পরিবার) কাছে মুক্তি দেয়ার আগে কিছু বিপ্লবী নীতি আছে যা আমরা পালন করে থাকি। আশা করি আপনারা তা বুঝবেন। যদি বন্দীরা জনগণের বিরুদ্ধে কোন গুরুতর অপরাধ না করে থাকে, তবে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের আটকে রাখার কোন প্রয়োজন নেই। তবে, বন্দীদের মুক্তির জন্য একটি অনুকূল অবস্থা থাকা উচিত এবং সরকারী বাহিনীর উপরই তা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

অনুবাদ সূত্রঃ davaotoday