হিদমাঃ ছত্তিসগড়ের ‘রবিনহুড’

image (1)

হিদমাই এখন ছত্তীসগঢ়ের জঙ্গলে পুলিশের কাছে ত্রাস, আদিবাসীদের কাছে ‘রবিনহুড’। যার হাতে সব সময় থাকে ‘একে-৪৭’ রাইফেল। শোনা যায়, ঘুমোনোর সময় হিদমার একটা হাতে ধরা থাকে কালাশনিকভ।

পুলিশ আর নিরাপত্তা বাহিনী মাওবাদী হিদমাকে তন্নতন্ন খুঁজছে গত ৫/৬ বছর ধরে। কিন্তু হিদমা এখনও পর্যন্ত ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গিয়েছেন।

হিদমার ‘একশো একটা’ ছবি রয়েছে ছত্তীসগঢ়ের পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে। কিন্তু তার মধ্যে কোনটা হিদমার আদত ছবি, এখনও তা জানা সম্ভব হয়নি। সুকমার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দাদের জেরা করে পুলিশ কানাঘুষো যেটুকু শুনেছে, তাতে মাওবাদী হিদমা বেশ বেঁটেখাটো, অনেকটা মাও জে দঙের মতোই। তবে চেহারায় বেশ খানিকটা রোগাই। তাঁর জন্ম সম্ভবত সুকমার জাগরগুন্ডা এলাকায়। বয়সটা ৫১-র আশপাশে।

গোটা বস্তার জেলায় মাওবাদী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এই হিদমাই। সুকমা, বস্তারে আরও একটি নামে হিদমাকে চেনে লোকজন। ‘দেবা’। তবে কবে তাঁর হাতে বন্দুক উঠল আর কবে তিনি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা শুরু করলেন, এখনও পর্যন্ত তার কিছুই ছত্তীসগঢ়ের পুলিশের জানা নেই। এও জানা যায়নি, স্ত্রী ছাড়া হিদমার পরিবারে আর কে কে আছেন, তাঁরা কোথায় থাকেন।

ছত্তীসগঢ়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা হলেই হিদমার নাম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যায়।

এই হিদমার নাম প্রথম জোরালো ভাবে ছত্তীসগঢ় পুলিশের কানে আসে আজ থেকে ৫ বছর আগে, ২০১৩-য়। ওই সময় মাওবাদীদের আক্রমণে ঝিরাম উপত্যকায় নিহত হয় ২৭ জন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তদানীন্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিদ্যাচরণ শুক্ল, প্রদেশ কংগ্রেসের তদানীন্তন সভাপতি নন্দকুমার পটেল, তাঁর ছেলে দীনেশ, প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা মহেন্দ্র কর্মা ও ছত্তীসগঢ়ের তদানীন্তন বিধায়ক উদয় মুদালিয়র। গত বছরের এপ্রিলে বারকাপালে মাওবাদীদের সঙ্গে গুলিযুদ্ধে সিআরপিএফের ২৪ জন জওয়ানের মৃত্যুর ঘটনাতেও হিদমা জড়িত ছিলেন বলে ছত্তীসগঢ় পুলিশের একাংশের ধারণা।

পুলিশ শুধু এইটুকুই জানতে পেরেছে, সুকমার জাগরগুন্ডা এলাকায় জন্ম হিদমার। একটি আদিবাসী পরিবারে। হিদমা এখন মাওবাদী সংগঠন পিপলস লিবারেশন-এর ‘গেরিলা সেনাবাহিনী’র এক নম্বর ব্যাটেলিয়নের প্রধান নেতৃত্ব। আর মাওবাদীদের ‘সাউথ সাব-জোনাল কমান্ডে’র প্রধান। সংগঠনের ক্যাডারদের কাছে হিদমা এখন কার্যত ‘হিরো’।

হিদমাকে সব সময় ঘিরে রাখে তাঁর খুব বিশ্বস্ত লোকজনের চার-চারটি ‘বলয়’। সুকমা, বস্তারের যেখানেই যান হিদমা, তাঁর সঙ্গে যায় ওই চারটি ‘বলয়’। পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হলে বাইরের ‘বলয়’-এর অনেকের মৃত্যু হয়। কিন্তু হিদমা’র বলয়টি অক্ষত থাকে। নেতৃত্বকে রক্ষা করতে এটাই গেরিলা যুদ্ধের রণকৌশল।

সূত্রঃ https://www.anandabazar.com/national/who-is-hidma-why-he-is-most-wanted-dgtl-1.865247

Advertisements

‘জেএনইউ’ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সম্মিলিত বাম মোর্চা’র বিপুল জয়

WhatsApp_Image_2018-09-16_at_14.11.04

টানটান লড়াইয়ের অবসান। দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদে নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখল বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। চারটি শীর্ষ আসনই তাঁদের দখলে গিয়েছে। ফলাফলে কার্যত একচ্ছত্র প্রভাব দেখিয়েছে চার বাম সংগঠন এসএফআই, আইসা, ডিএসএফ ও এআইএসএফ৷

জেএনইউতে বাম ছাত্র সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে বিজেপির ছাত্র সংগঠন বার বার প্রশ্ন তুলেছে, বার বার বলতে চেযেছে ক্ষমতাসীন বাম ছাত্র সংগঠন এ দেশের জাতীয়তাবাদী ভাবধারায় বিশ্বাস রাখে না। জেএনইউর ছাত্র নেতাদের পুলিশ দিয়ে হেনস্তার অভিযোগও একাধিক বার উঠেছে। সেদিক থেকে এবার জেএনইউর ছাত্র সংসদের নির্বাচন ঘিরে টান টান উত্তেজনা ছিল সম্মিলিত বাম মোর্চা ও বিজেপির ছাত্র সংগঠন এভিবিপির মধ্যে।তবে শনিবার বিকেলের পরেই পরিষ্কার হয়ে যায় এবারও জেএনইউতে বাম ছাত্র সংগঠনের প্রাধান্যই বজায় থাকবে,এবং শেষ পর্যন্ত সভাপতি,সহ সভাপতি,সাধারণ সম্পাদক ও সহকারী সম্পাদক সব কটি পদেই বাম প্রার্থীরা জয়ী হয়। এসএফআই,এআইএসএফ,আইসা ও ডিএসএফ যৌথভাবে প্রার্থী দেয়।বামেরা জয়ী হওয়ায় জেএনইউতে রবিবার সকাল থেকেই চলছে লাল আবিরেরে হোলি। তবে উত্সব মত্ততায় না ভেসে দেশের কঠিন সময়ে ছাত্রদের চেতনায় শান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিরা।খোদ দিল্লির বুকে বিজেপি ছাত্র সংগঠনের এই পরাজয় গেরুয়া বাহিনীর বড় ধাক্কা বলেই মনে করা হচ্ছে।

সূত্রঃ satdin.in


‘সাম্রাজ্যবাদী’ চীন দুনিয়ার নির্যাতিত মানুষের শত্রুঃ সিপিআই(মাওবাদী)

Communist_Party_of_Bhutan_Flag.svg

‘সাম্রাজ্যবাদী’ চীনকে দুনিয়ার নির্যাতিত মানুষের শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে ৭৬ পৃষ্ঠার দলিল প্রকাশ করেছে সিপিআই(মাওবাদী)।

দলিলে চিনকে ‘একটি নয়া সামাজিক সাম্রাজ্যবাদী শক্তি’ আখ্যা দিয়েছে সিপিআই(মাওবাদী)। ওই ৭৬ পৃষ্ঠার দলিলের শিরোনামে লেখা হয়েছে, চিন ‘বিশ্বের পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থারই অংশ’। ভারতের বুর্জোয়া ও এর দ্বারা প্রভাবিত রাজনৈতিক শিবিরের একটি বড় অংশ অবশ্য মনে করে, বিশ্বের বাণিজ্যে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে চিন মাও জে দঙের পথ ছেড়ে ঠিকই করেছে। এর ফলেই মার্কিন শক্তির চোখে চোখ রেখে কথা বলার মতো অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক শক্তি অর্জন করতে পেরেছে তারা। তবু বামপন্থী আদর্শগত দৃষ্টিকোণ থেকে মাওবাদীদের চিন সম্পর্কিত মূল্যায়ন তাৎপর্যপূর্ণ বৈকি!

মাওবাদী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বিশ্লেষণের ফসল ওই দলিল তৈরি হয়েছে গত বছর, অর্থাৎ ২০১৭ সালে। ঘটনাচক্রে, যে বছর নকশালবাড়ি আন্দোলনের সুবর্ণ জয়ন্তী হয়েছে। তবে এত দিন তেলুগু ছাড়া অন্য কোনও ভাষায় তা প্রকাশ করা হয়নি। অতি সম্প্রতি নিজেদের এই বিশ্লেষণ সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছে সিপিআই (মাওবাদী)।

দলিলের মুখবন্ধে মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় কমিটি জানিয়েছে, ‘সাম্রাজ্যবাদী’ চিন দুনিয়ার নির্যাতিত মানুষের শত্রু। বলা হয়েছে, বিশ্ব জুড়ে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের লক্ষ্যে যারা লড়ছে, সেই মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী এবং মাওবাদী দলগুলির যুদ্ধের নিশানা হবে এই চিন। মাওবাদীদের মতে, ‘সাম্রাজ্যবাদী’ চিন  পিছিয়ে পড়া এবং অন্যান্য দেশে যুদ্ধাস্ত্র ও পুঁজি রফতানি এবং অসম বাণিজ্য চাপিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে সেই দেশগুলির প্রাকৃতিক সম্পদকে গ্রাস করছে। ওই সব দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়েও নাক গলাচ্ছে তারা। এমনকি, ওই সব দেশে সামরিক ঘাঁটি গড়ে তোলার জন্য উপযুক্ত সুযোগেরও অপেক্ষা করছে। বস্তুত, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে চিন।

বস্তুত, চিনকে আর সমাজতান্ত্রিক বলা যায় কি না, তা নিয়ে সিপিএম-সহ ভারতের সব কমিউনিস্ট দলগুলির মধ্যেই বিতর্ক আছে। তবে সিপিএমের ঘোষিত মতে এখনও চিন সমাজতান্ত্রিকই। চিনা কমিউনিস্ট পার্টি অবশ্য তাদের দেশকে ‘চৈনিক বৈশিষ্ট্য সমেত সমাজতান্ত্রিক’ আখ্যা দিয়েছে। কিন্তু মাওবাদী তাত্ত্বিকেরা ওই অভিধা নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেছেন তাঁদের দলিলে।


ভারতের অনেক জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে মাওবাদীরাঃ গোয়েন্দা রিপোর্ট

Naxal-800x445

Times of India এর রিপোর্ট জানাচ্ছে, সিপিআই(মাওবাদী) -এর পশ্চিমঘাটের বিশেষ জোনাল কমিটি (WGSZC) রাজ্যের পাঁচ জেলায় তার সশস্ত্র শাখা পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি (পিএলজিএ) এর শক্তি বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে, রাজ্য পুলিশের নক্সাল বিরোধী স্কোয়াডের গোয়েন্দা বিভাগের একটি রিপোর্ট।

সরকারের কাছে উপস্থাপন করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই বছর আগে নিলাম্বুরের বনভূমিতে এনকাউন্টারে দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের মৃত্যুর পর এই অঞ্চলগুলিতে পিএলজিএ সদস্যের সংখ্যা বেড়েছে। অগাস্টের শেষ সপ্তাহে ওয়ানাদ-কোজিকোডের বনভূমিতে অনুষ্ঠিত একটি শহীদ স্মৃতিসৌধ অনুষ্ঠানে প্রায়  ৪৫ জন পিএলজিএ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও দণ্ডকারণ্য বিশেষ জোন কমিটির সদস্যগণ (ডিস্কজিসি) উপস্থিত ছিলেন, অনুষ্ঠানে কানুর, কোজিকোড, পাল্ককাদ, ওয়ায়ানাদ ও মালাপ্পুরমে পাঁচটি শাখা কমিটিকে শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেইয়া হয়। গত সপ্তাহে নীলাম্বুরের বনভূমিতে মাওবাদী নেতার দানিশ, গণেশ ও প্রশান্তের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে গোয়েন্দা স্কোয়াড।

গোয়েন্দা বিভাগ থেকে আশা করা হয়েছিল যে, ২০১৬ সালের ২৪ শে নভেম্বর নিলম্বুরের পুলিশের সাথে কথিত সংঘর্ষে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কুপ্পু দেবরাজ ও তার সহযোগী অজিথাকে মৃত্যুর ঘটনায় এই অঞ্চলে নকশাল বাহিনীর কর্মকান্ডে একটি বড় বাধা হতে পারে। তবে সর্বশেষ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কেরলায় পিএলজিএ সদস্যদের সংখ্যা ২৫-২৮ থেকে ৪৫ পর্যন্ত বেড়েছে, যাদের বেশিরভাগই অপরিচিত, এখনো তাদের সনাক্ত করা যায়নি। কেরালা, তামিলনাড়ু এবং কর্ণাটকের ত্রি-জংশনের কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে উত্তর ভারতীয় রাজ্যগুলির ক্যাডাররা সম্প্রতি এই গ্রুপে যোগদান করেছে।

নকশাল-বিরোধী গোয়েন্দা স্কোয়াডের সূত্রে জানা যায়, কেরালা, কর্ণাটক ও তামিলনাডুর কর্মীরা আগেই এই অঞ্চলের গোষ্ঠীর জন্য কাজ করেন, কিন্তু অন্ধ্রপ্রদেশ, ছত্তিশগড় ও ঝাড়খন্ডের কর্মীদের কেরালার বনাঞ্চলে উপস্থিতি নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য একটি প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, প্রান্তিক কোজিকোডের বিভিন্ন অংশে সিপিআই(মাওবাদী) নামে পোস্টারগুলিতে সাম্প্রতিক বন্যার বিপর্যয়ের জন্য রাজ্য সরকারকে দায়ী করা হয়েছে। কাবানী এলাকার কমিটির নামে একটি পোস্টারেও অভিযোগ করা হয় যে, সরকার, ভারী বৃষ্টি এবং বন্যার উপর সঠিক সতর্কবার্তা পাওয়ার পরেও নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে জনগণকে নিরাপদে স্থানে সরিয়ে নেয়ার সঠিক পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।


বাম বুদ্ধিজীবী গ্রেফতারের প্রমাণে ধরা পড়ল বড়োসড়ো অসঙ্গতি!

Maoist1

এটাও একটা ষড়যন্ত্রের চিঠি

মাওবাদীদের সঙ্গে সম্পর্কের জোরালো প্রমাণ হিসাবে ব্যবহৃত তথাকথিত উদ্ধার হওয়া চিঠি এবং ই-মেলগুলিতে প্রচুর অসঙ্গতি এবং দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে বলে জানাল এনডিটিভির একটি বিশ্লেষণ এর সুত্র উল্লেখ করেছে খবর অনলাইন। উল্লেখ্য, ওই চিঠি ও ই-মেলগুলিকে হাতিয়ার করেই পুণে পুলিশ ১০ জন বিদ্বজ্জন, আইনজীবী এবং সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে।

গত জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যেই বামপন্থী মনোভাবাপন্ন ওই ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে মাওবাদীদের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা পালনের অপরাধে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে হত্যার মতো বড়োসড়ো ষড়ষন্ত্রের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, তাদের হাতে এসেছে এই সম্পর্কিত ১৩টি চিঠি। সংবাদ মাধ্যমের কাছে সেই চিঠির কথা জানিয়ে পুলিশ দাবি করেছে,  এর মধ্যে ৬টি চিঠির দিনাঙ্গ গত জুলাই থেকে আগস্টের মধ্যে। এগুলির মধ্যে পাঁচটি হিন্দিতে এবং বাকি আটটি ইংরাজিতে লেখা।

পুলিশের দাবি, চিঠিগুলি উদ্ধার করা হয়েছে ল্যাপটপ বা অন্য কোনো বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম থেকে। ফলে সেখানে প্রেরকের স্বাক্ষর অনুপস্থিত। বিশ্লেষকদের যুক্তি, ওই চিঠিগুলিতে গোপনীয়তা রক্ষার তাগিদে সাংকেতিক শব্দের অভাব রয়েছে। বিষয়টি যেথানে জড়িয়ে রয়েছে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সেখানে কেন ষড়যন্ত্রকারীরা সরাসরি মত আদানপ্রদান করবেন?

মামুলি নাশকতা মূলক কাজে ব্যবহৃত হয় সাংকেতিক শব্দ। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে কেই-বা স্পষ্ট ভাষায় ই-মেল পাঠাবেন? এমন প্রশ্নও হেলাফেলার নয়।

ইনস্টিটিউট অব কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্টের এগ্‌জিকিউটিভ ডিরেক্টর অজয় সাহনি দাবি করেছেন, “চিঠিগুলিতে স্পষ্ট জালিয়াতি ধরা পড়ছে”। তিনি বলেছেন, গত ১৫ বছরে মাওবাদীদের কোনো চিঠি এমন ‘অসুরক্ষিত’ ভাবে লেখা হয়নি।

collage5-1200x480


নেতৃত্বে তরুণ বুদ্ধিজীবীদের খুঁজছে মাওবাদীরা

MAOIST

সিপিআই(মাওবাদী) তাদের নেতৃত্বের সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে এবং নিম্ন স্তরের-কর্মীদের শিক্ষিত করতে(যাদের মধ্যে আদিবাসী ও দলিত রয়েছে) শহুরে ও বুদ্ধিবৃত্তিক তরুণদের সন্ধান করছে।

সিপিআই (মাওবাদী) পলিটব্যুরোর সদস্য প্রশান্ত বসু ওরফে কিষেণদা পার্টির প্রকাশনা ‘লাল চিংড়ী প্রকাশন(Lal Chingari Prakhashan)’ এ জানালেন, সংগঠনে শিক্ষিত তরুণ ক্যাডারের অভাব তাঁদের ভোগাচ্ছে। তাই শহরের বিভিন্ন এলাকার ‘বিপ্লবী ভাবধারায় বিশ্বাসী শিক্ষিত ছাত্র ও বুদ্ধিদীপ্ত কমরেডদের’ পাঠানোর জন্য মাওবাদীদের সমস্ত কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষিত যুবকদের অভাবের কারণে দ্বিতীয় স্তরের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে পার্টি। যুদ্ধক্ষেত্রে শিক্ষিত সংখ্যক ক্যাডারের সংখ্যা খুবই কম, এই সব ক্যাডারদের রাজনীতিকরণ করা সংগঠনটির রাজনৈতিক কর্মসূচির একটা প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবে, আমরা নিশ্চিত যে আমরা খুব শিগগির এই ধরনের শিক্ষিত, তরুণ ও গতিশীল কমরেড পেতে সক্ষম হব, যারা আমাদের দলের তৃতীয় এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের নেতৃত্ব শুরু করতে সক্ষম হবে, যদিও পার্টি পরবর্তী প্রজন্মের নেতাদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল সহ সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক দলিল তৈরি করেছে, কিন্তু পার্টি তা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়নি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত শিক্ষাদানের মাধ্যমে ও জঙ্গল যুদ্ধের অভিজ্ঞতার মাধ্যমেে একজন গ্রামীণ স্তরের ক্যাডারের মাওবাদী নেতা হয়ে উঠার জন্য কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ বছর সময় লাগে। তিনি আরো বলেন, মাওবাদীদের অধিকাংশ কর্মী অশিক্ষিত বা কম শিক্ষিত, তাই তাদের নেতৃত্বে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই তাদের শিক্ষিত করতে ও নেতৃত্ব প্রদানে সক্ষমতা আনার জন্যে তরুণ বুদ্ধিজীবীদের প্রয়োজন।

দলীয় মুখপত্রে প্রশান্তবাবু বলেছেন, ‘‘দ্বিতীয় স্তরের নেতৃত্ব তৈরি করাটাই এখন সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া অন্যান্য রাজ্যে— অসম, বিহার, ঝাড়খণ্ডে আমরা দলিত, আদিবাসী, গরিবদের মধ্যে ভিত তৈরি করেছি। শিক্ষার হার সেখানে কম। কাজেই তাদের মার্ক্সবাদের প্রকৃত অর্থ শেখানো কঠিন। এদের শিক্ষিত করে তুলতে শিক্ষিত, বুদ্ধিদীপ্ত বিপ্লবীদের প্রয়োজন।’’ মাওবাদীদের শীর্ষ নেতাদের প্রায় প্রত্যেকেই ষাটোর্ধ্ব। প্রবীণ ক্যাডারদের জন্য অবসর প্রকল্প চালু করেছে তারা।

সূত্রঃ https://economictimes.indiatimes.com/news/defence/cpi-maoist-scouting-for-urban-and-intellectual-youth-to-fill-ranks/articleshow/65740929.cms


মধ্যপ্রদেশ-ছত্তিশগড়-মহারাষ্ট্র সীমান্তে মাওবাদীদের ‘নতুন যুদ্ধ অঞ্চল’ নির্মাণ চলছে – RAW এর রিপোর্ট

naxal-sukma-story_647_042517110749_0

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইটিক্যাল উইং -RAW’ এর সূত্র উল্লেখ করে sentinelassam.com জানাচ্ছে, ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান দমন অপারেশনগুলির মধ্যেও ভারতের শীর্ষ কমিউনিষ্ট পার্টি (সিপিআই-মাওবাদী) একটি নতুন গেরিলা জোন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মধ্যপ্রদেশ-ছত্তিশগড়-মহারাষ্ট্র (MMC) ত্রি-জংশন সীমান্তে একটি নতুন যুদ্ধক্ষেত্র ‘নির্মাণের জন্য কঠোর চেষ্টা করছে।

গোপন গোয়েন্দা তথ্য মতে, মাওবাদীরা এখন তাদের বিভিন্ন এলাকার যুদ্ধ অঞ্চল থেকে নিরাপত্তা বাহিনী (এসএফএস)’কে লক্ষ্য করার পরিকল্পনা করছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, মাওবাদীরা উত্তর ও পূর্ব দিকে তাদের যুদ্ধ অঞ্চল প্রসারিত করতে চায় এবং বালাগাট-রাজনন্দগাঁও-কাবরিধাম-গণ্ডিয়া মধ্যে একটি সংযোগ করিডোর নির্মাণ করতে চায়।

MMC এলাকায় বৃহত্তর পর্যায়ে মাওবাদীদের সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তটি অনেক আগেই গ্রহণ করা হয়েছিল বলে গোয়েন্দা সূত্র জানায়, এবং এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে মাওবাদীদের একটি বিভাগ মধ্য প্রদেশের বালাগাটের সীমান্ত এলাকায় ছত্তিশগড়ের রাজনান্দগাঁও এবং মহারাষ্ট্রের গণ্ডিয়াতে সক্রিয় রয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, মাওবাদী ক্যাডাররা ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র ও উড়িষ্যাতে সরকারের স্পেশাল ফোর্স-এসএফের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা করছে। মাওবাদীদের এলাকা কমিটির সিনিয়র সদস্যরা- বিশেষ করে পুলিশের বিশেষ পুলিশ অফিসার (এসপিওএস) এবং গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের-এসএফএস এবং ‘পুলিশ ইনফরমার্স’দের চিহ্নিত ও হত্যা করার জন্য তাদের ছোট কর্মী দলকে নির্দেশ দিয়েছেন।

এই অঞ্চলে মাওবাদীরা সরকারের কথিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে আসছে। ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলায় সক্রিয় মাওবাদী কমান্ডাররা, গ্রামবাসীদের সঙ্গে একটি বৈঠক করে এবং পেন্তা গ্রামে অবস্থিত বিদ্যুৎ প্লান্ট ধ্বংস করার চিন্তা করছে। এসময় মাওবাদীরা সড়ক নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ করা এবং সরকারী সম্পত্তি আটক করার জন্য গ্রামীণ জনগণদের প্রতি আহ্বান জানান।

সূত্রঃ https://www.sentinelassam.com/news/intel-reports-suggest-maoists-building-new-battle-zone-on-madhya-pradesh-chhattisgarh-maharashtra-border/