ভারতঃ সরকারের কাছে আত্মহত্যার অনুমতি চাইলেন কৃষকেরা

farmer-655x360

নাগপুর: দেনায় জর্জরিত কৃষকেরা আত্মহত্যার অনুমতি চাইলেন সরকারের কাছে। মহারাষ্ট্রের ঘটনা। জেলা প্রশাসনকে গিয়ে সাতজন কৃষক জিজ্ঞাসা করলেন, ”আমরা কি আমাদের জীবন শেষ করে দিতে পারি?” এদের মধ্যে তিনজন মহিলা। দেনার দায়ে এতটাই খারাপ অবস্থা হয়েছে তাঁদের।
কিশোর ইংগালে, ভানুদাস ওয়াদাদকর, পঙ্কজ গাওয়ান্ডে, শঙ্কর খাদসে, কুন্দাবাই লোংকার, কমলা ওয়ারহাদে ও বসন্ত গিংগাভকর- ওয়াদাদ গ্রামের বাসিন্দা এই কৃষকেরা এদিন প্রশাসনের কাছে গিয়ে আবেদন করেন। লিখিতভাবে এই আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। কালেকটরের অফিসে সেই আবেদনপত্র জমা দেন তিনি।
নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক চাষিকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪,০০০ টাকা দেওয়ার কথা। যা তাঁরা পাননি। এছাড়া চলতি বছরেও ৭০ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে। তার জন্যই তাঁদের এই আবেদন।

সূত্রঃ http://www.bengali.kolkata24x7.com/can-we-commit-suicide-3-women-farmers-ask-maharashtra-government.html

Advertisements

মোদীর সফরে মাওবাদী হাতে আটক ২৫০, মুক্তি, জনতার আদালতে ১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

2afeab2c-6f96-4d23-8a29-b70f89aa5714wallpaper1

কথিত উন্নয়নের বার্তা নিয়ে এ বারে মাওবাদীদের গড়ে পৌঁছে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু তিনি গিয়ে ওঠার আগে রাত থেকেই কমপক্ষে দু’‌শো জন গ্রামবাসীকে আটক করে রেখে মাওবাদীরা বুঝিয়ে দিল, কেন্দ্র ও রাজ্যের বিজেপি সরকারের উপরে তাদের আদৌ আস্থা নেই। মাওবাদীদের দাবি, এলাকার ভূ-সম্পদ লুঠ করে কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়াই এই দুই সরকারের মূল লক্ষ্য। এ দিন রাতে ওই গ্রামবাসীদের ছেড়ে দিলেও, মাওবাদীরা ‘জন আদালত’-এ বিচার করে এক জনকে হত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মোদীর সভাস্থল থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে জিরম উপত্যকায়। দু’বছর আগে ঠিক এখানেই কংগ্রেসের কনভয়ে বড়সড় হামলা চালিয়ে বেশ কয়েক জন নেতাকে হত্যা করেছিল মাওবাদীরা।

ছত্তীসগঢ়ের মাওবাদী অধ্যুষিত দন্তেওয়াড়ায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেষ গিয়েছিলেন রাজীব গাঁধী। এর তিন দশক পরে গেলেন মোদী। কলকাতায় যাওয়ার আগে তাঁর এই সফরের লক্ষ্য ছিল দুটি: এক, মাওবাদী অধ্যুষিত এই একটি জেলাতেই ২৪ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প পৌঁছে দেওয়া। যে প্রকল্পে ইস্পাত কারখানা থেকে রেল লাইন পাতা হবে। দুই,  মাওবাদীদের সুস্থ জীবনে ফেরার বার্তা দেওয়া।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগেই মাওবাদীরা বয়কটের ডাক দেয়। শুধু তাই নয়, সুকমা জেলার বিভিন্ন গ্রামের অন্তত দু’‌শো জন গ্রামবাসীকে আটক করে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, শুধুই দেশি-বিদেশি কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই প্রধানমন্ত্রী মোদী ও ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী রমন সিংহ এই সব প্রকল্প ঘোষণা করছেন। প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করাই তাঁদের উদ্দেশ্য। সেই কারণেই কেন্দ্র জমি বিল আনতে চাইছে। বস্তারে হচ্ছে সেনা প্রশিক্ষণ স্কুলও। কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (মাওবাদী) দণ্ডকারণ্য বিশেষ জোনাল কমিটি তাই কেন্দ্রের ‘ফ্যাসিবাদী হিন্দুত্বের সরকার’-এর বিরুদ্ধে সংগঠিত জঙ্গি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

দন্তেওয়াড়ায় শান্তি-বার্তা দিয়ে মোদী কলকাতায় পৌঁছে গেলেও রমন সরকারের মাথাব্যথা হয়ে ওঠে আটক করে রাখা গ্রামবাসীদের মুক্তির বিষয়টি। আলোচনার পথেই তাঁদের মুক্ত করার চেষ্টা চালাতে থাকে রাজ্য প্রশাসন। রাতে এক জন বাদে সবাইকেই ছেড়ে দেয় মাওবাদীরা। সদারাম নাগ এক জন শুধু জীবিত ফেরেননি। ‘জন আদালতে দোষী’ হওয়ায় মাওবাদীরা তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।

images (2)

মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মাওবাদী মোকাবিলার পথ নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছে। ইউপিএ আমলের এই নীতি থেকে অনেকটাই সরে এসে রাজনাথ সিংহের অধীনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি খসড়া নীতিও তৈরি করে। যেখানে বলা হয়, দরকারে স্থলসেনা ও বায়ুসেনাকেও মাওবাদী মোকাবিলায় কাজে লাগানো হবে। এই খসড়া সমালোচনার ঝড় তোলে। দেশের সেনাকে দেশের মানুষের বিরুদ্ধে বন্দুক তুলতে নির্দেশ দেওয়া যায় কি না, এ নিয়ে বিতর্ক হয় বিস্তর। এই পরিস্থিতিতে মোদী আজ মাওবাদী গড়ে গিয়ে যে ভাবে উন্নয়নের কথা বললেন, সেখানকার মানুষের দুঃখ-বেদনা বোঝার কথা বললেন, তাতে স্পষ্ট, কেন্দ্র এখন দ্বিমুখী রণকৌশল নিয়েই এগোতে চাইছে। এক দিকে কড়া হাতে মাওবাদী মোকাবিলার প্রস্তুতি চালানো। এর পাশাপাশি, উন্নয়নের মাধ্যমে মাওবাদীদের থেকে সাধারণ মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা।

মোদী এই সফরে দু’টি কাজই করতে চাইলেন। চলতি বছরে এপ্রিল পর্যন্ত ছত্তীসগঢ়ে ১৮৮টি মাওবাদী হামলা হয়েছে। নিহত ৪৬ জন। এই অবস্থায় মাওবাদীদের গড়ে পৌঁছে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ান ও গ্রামবাসীদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করলেন। আর তাঁর বক্তব্যে জোর পেল দ্বিতীয় পথটি।

সূত্রঃ

http://www.hindustantimes.com/india-news/pm-modi-to-visit-dantewada-today-maoists-call-for-bandh/article1-1345390.aspx


ভারতঃ “চলে যাও অথবা মর” -বস্তারের পুলিশদের সতর্ক করে দিল মাওবাদীরা

police_2388621f

কনস্টেবলকে অপহরণ ও খতমের দায়িত্ব স্বীকার করল মাওবাদীরা

ছত্তিসগড়ের বস্তার অঞ্চলের নিম্নস্তরের পুলিশদের চাকরী ছেড়ে দেয়ার অথবা “পিএলজিএ (People’s Liberation Guerrilla Army) এর গেরিলাদের হাতে মৃত্যুর” হুমকি দিয়েছে সিপিআই (মাওবাদী)।

মাওবাদীদের পশ্চিম বস্তার বিভাগীয় কমিটির সেক্রেটারি মাধভী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান,  অপহরণকৃত কনস্টেবল বীরা বসন্তকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে মাওবাদীরা । ৭ই এপ্রিল তাকে অপহরণ করা হয় ও দুই সপ্তাহ পর বিজাপুর জেলায় তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিরস্ত্র বীরা তার পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করতে গ্রামে যাচ্ছিলেন। কনস্টেবল বীরার অপহরণ বিজাপুরের স্থানীয় অধিবাসী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের “নীরব প্রতিবাদের” দিকে ঠেলে দিয়েছে। তার মুক্তির জন্য স্কুলের বাচ্চারা প্রতিবাদ র‍্যালীর আয়োজন করেছে।

বীরার মৃত্যুর জন্য রাজ্য সরকার ও বিজাপুর পুলিশকে দায়ী করে মাওবাদী নেতা দাবী করেছেন, তার মুক্তির জন্য জেলা পুলিশ কোনরকম সংলাপে বসেনি। “তার বদলে, আমাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ র‍্যালি আয়োজন করার জন্য পুলিশ স্থানীয় অধিবাসী ও স্কুলের বাচ্চাদেরকে চাপ দেয়। আমাদের পার্টির নীতিমালায় নিরস্ত্র পুলিশদের হত্যা করার কোন বিধান নেই। আমরা অনেক জওয়ানকে মুক্তি দিয়েছি যারা নিরস্ত্র ছিল। তবে আমরা তাদের ছেড়ে দিতে পারিনা যারা জেনেশুনে জনগণের উপর নিষ্ঠুরতা চালায়। মাধভী বলেন, বীরা ছিল সেই ধরনের একজন পুলিশ”।

তিনি আরো বলেন, “সে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে গণ আন্দোলনের বিরুদ্ধে কাজ করে আসছিল এবং অসংখ্য সাজানো এনকাউন্টার ও বিজাপুরের আদিবাসীদের গ্রামে হামলার নেতৃত্বে সে ছিল। সে গ্রামবাসীদের থেকে অর্থও আদায় করত”।

“বীরা তার পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করতে গ্রামে যাচ্ছিল”- পুলিশের এ দাবীকেও অস্বীকার করেছেন মাওবাদী নেতা। মাধভীর দাবী, “সে আওয়াপল্লী এলাকায় আমাদের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করে বিজাপুরের এসপির অফিসের দিকে যাচ্ছিল। সে জানত সে কী করছিল এবং তার মত একজন গণশত্রুকে ছেড়ে দেয়া আমাদের পক্ষে অসম্ভব ছিল”।

মাওবাদী নেতা সতর্ক করে দিয়ে জানান, “বিরার এই খতম বস্তারের সকল নিম্নস্তরের পুলিশদের প্রতি একটি সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে। কর্পোরেটদের জন্য যুদ্ধ করা বন্ধ কর, -যারা আদিবাসী ভূমি দখল করার জন্য এখানে এসেছে। পুলিশের চাকরী বাদ দিয়ে অন্য কোন চাকরী যোগাড় কর যদি বস্তারে থাকতে চাও। তা না হলে PLGA এর হাতে মৃত্যুর জন্য তৈরী হও”।

সূত্রঃ http://www.thehindu.com/news/national/other-states/quit-or-die-maoists-warn-policemen-in-bastar/article7151053.ece


ভারত- পুলিশ বনাম মাওবাদীঃ মাওবাদীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী কি শক্তিশালী?

images

এসটিএফ (STF) এর প্লাটুন কমান্ডার শংকর রাওয়ের জন্য ১১ই এপ্রিল শনিবার ছিল একটি রক্তাক্ত দিন। এই দিন তিনি তার ৬১ জন সদস্যের সশস্ত্র দল নিয়ে মাওবাদী দমন অপারেশনের জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন। এসময় তারা ছত্তিসগড়ের সুকমা জেলার পিদমেল-পলামপল্লী এলাকায় একটি উন্মুক্ত ত্রিভূজ এমবুশের মুখে পড়ে যায়। তিন দিক থেকে চালানো এ অতর্কিত হামলায় পড়ে এসটিএফ জওয়ানরা এমবুশ থেকে বের হয়ে আসার যথাসাধ্য চেষ্টা চালায়; অন্যদিকে মাওবাদীরা বেশ ভালরকম ক্ষয়ক্ষতি সাধন করতে সক্ষম হয়। তারা সাতজন জওয়ান খতম করে ও এগারো জনকে আহত করে। এ ছিল কেবল শুরু। পরবর্তী তিন দিনে ভারতের সর্বোচ্চ আভ্যন্তরীণ হুমকি হিসেবে বিবেচিত মাওবাদীরা চারটি বড় ধরনের হামলা চালায়। এতে রাজ্যের আরো চারজন পুলিশ ও একজন বিএসএফ জওয়ান খতম হয়। এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দিল যে প্রতিদিনকার রাজনৈতিক বুলি সত্ত্বেও মাওবাদীরা এখনো আঘাত করার ক্ষমতা রাখে এবং তারা চাইলে আঘাত করতে পারে।

jawans-2

রক্তাক্ত রণক্ষেত্র

ছত্তিসগড়ের এই হামলা গুলো নিরাপত্তা বাহিনীর ভেতর বিতর্কের ঝড় তুলেছে আর বিতর্কের বিষয়বস্তু হল মাওবাদী দমন অপারেশন একটি বিশাল ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে কিনা এবং ১০টি রাজ্য জুড়ে ৭৬টি জেলায় পরিচালিত রাজ্য পুলিশ ও সিআরপিএফ এর যৌথ বাহিনী মাওবাদীদের মোকাবেলা করার মতো পরিস্থিতিতে রয়েছে কিনা। কিছু তথ্যের দিকে নজর দেয়া যাক। ভারত রাষ্ট্রের মাওবাদী দমন অপারেশন বিষয়ে বিগত দশকের (২০০৫-২০১৫) সরকারী ডাটায় ভয়ংকর তথ্য পাওয়া যায়ঃ মোট ৪,৫১০ জন -১৭৫৩ জন জওয়ান ও ২৭৫৭ জন সাধারণ মানুষ মাওবাদীদের হাতে নিহত হয়েছে। একই সময়ে নিরাপত্তা বাহিনী ২১৯৩ জন মাওবাদীকে হত্যা করেছে।

এর মানে দাঁড়ায়, মাওবাদীরা যুদ্ধে নিজেদের একজনকে হারানোর বিনিময়ে গড়ে দুইজনকে খতম করেছে। তারা নিরাপত্তা বাহিনীর থেকে ৫৩৬টি অত্যাধুনিক অস্ত্রও কেড়ে নিয়েছে। যেটি উদ্বেগগজনক তা হল পুলিশের গুপ্তচরদেরকে হত্যা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের প্রথম তিন মাসে প্রায় ১৯ জন পুলিশের গুপ্তচর খতম হয়েছে। ২০১০ থেকে ২০১৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৮৭৯। এ তথ্য থেকেই বিষয়টির ব্যাখ্যা পাওয়া যায় এবং একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন চলে আসে আর তা হলঃ মাওবাদী আন্দোলনের উপর রাষ্ট্র কি কোন আঘাত হানতে পেরেছে?

একজন উর্ধ্বতন আইপিএস  (IPS) কর্মকর্তা তার বইয়ে লিখেছেনঃ “আমরা যুদ্ধটা করছি তাদের (মাওবাদীদের) মতো করে, আমাদের মতো করে নয়”। ব্যাপক আকারে বিনিয়োগ ও বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা সত্ত্বেও মাওবাদী দমন অপারেশন ফলপ্রসূ না হওয়ার পিছনে কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, “ট্রাজেডি হল, এত বিশাল সম্পদ তাদের দায়িত্বে দেয়া হয়েছে যাদের কমান্ড দেয়ার যোগ্যতা নেই, যাদের যুদ্ধ সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই”। যদিও মাওবাদী দমন অপারেশন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পুলিশের সম্মিলিত কার্যক্রম, এ কার্যক্রমে মোট ১০৮ টির বেশি ব্যাটেলিয়নকে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। ১০৮ টি ব্যাটেলিয়নের মধ্যে (প্রায় ১৩৪,৬৬৭ জন সদস্য) সিআরপিএফ এর ৮৩টি ব্যাটেলিয়ন, বিএসএফ এর ১৫টি ব্যাটেলিয়ন, আইটিবিপি (Indo-Tibetan Border Police) ও সশস্ত্র সীমা বল (SSB) এর প্রতিটি বাহিনীর রয়েছে ৫টি করে ব্যাটেলিয়ন। রাজ্যগুলো তিরিশ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে। পুরো শক্তিকে যদি একত্রিত করা হয়, তাহলে দেখা যাচ্ছে, আনুমানিক ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ সশস্ত্র মাওবাদীদের দমন করার জন্য মাটির উপর ১৬৪,৬৬৭ জোড়া বুট মোতায়েন করা হয়েছে- একজন মাওবাদীকে হত্যা করার জন্য আছে ১০ জন জওয়ান।

সূত্রঃ

http://www.newindianexpress.com/magazine/Police-vs-Maoists-Are-Indian-Security-Forces-Strong-Against-Naxals/2015/04/25/article2779418.ece


প্রতি তিন দিনে একজন সিআরপিএফ জওয়ান আত্মহত্যা করে বলে পরিসংখ্যানে প্রকাশ

09Fir06.qxp

 

 

ভারত

মাওবাদীদের বুলেটে ভারত যত না মিলিটারি জওয়ান হারাচ্ছে তার চেয়ে বেশী হারাচ্ছে কর্মক্ষেত্রে দরিদ্র অবস্থা ও উচ্চ মানসিক চাপের কারণে। আশংকাজনক এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় প্রতি তিন দিনে একজন প্যারামিলিটারি জওয়ান আত্মহত্যা করে। মাওবাদীদের সাথে যুদ্ধরত সিআরপিএফ জওয়ানরা অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করে থাকে।

হৃদরোগ, ম্যালেরিয়া ও এইচআইভি র মত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সিআরপিএফ বাহিনীর জওয়ানরা। গত পাঁচ বছরে এই তিনটি রোগে ১,১৩১ জন জওয়ান মৃত্যবরণ করেছে অথচ মাওবাদীদের হাতে মৃত্যুবরণ করেছে মাত্র ৩২৩ জন। দেশটির বৃহত্তম প্যারামিলিটারি বাহিনী সিআরপিএফ এ তিন লাখের বেশি জওয়ান রয়েছে যারা প্রতিকূল পরিবেশে যুদ্ধরত। জঙ্গলে মাওবাদীদের সাথে, জম্মু ও কাশ্মীরে, উত্তর পূর্ব অঞ্চলে সর্বত্র জওয়ানদের পরিস্থিতি শোচনীয়। ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে প্যারামিলিটারি বাহিনীর ৩৭০ জন জওয়ান আত্মহত্যা করে। প্যারামিলিটারি বাহিনীর ভেতরে সিআরপিএফ এ জওয়ানদের ঝরে পড়ার হার সবচেয়ে বেশী। অন্যান্য বাহিনীর ভেতরে এ হার সীমিত অথচ সিআরপিএফ ঝরে পড়ার হার অনেক বেশী। ২০১৪ সালে প্রতিদিন গড়ে ২০ জন জওয়ানকে হারায় এ বাহিনী। ২০১৪ সালে পরিণত হবার আগেই ছয় হাজারের বেশী জওয়ান বাহিনী ত্যাগ করে। অপরদিকে ২০১৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪১৮৬। টয়লেটের অভাব সহ বিভিন্ন মৌলিক সুযোগ সুবিধার অভাবে মাওবাদী অধ্যুষিত জঙ্গলগুলোতে বাহিনীর জওয়ানরা রোগাক্রান্ত হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানা যায়, মানবেতর অবস্থার কারণে সিআরপিএফ এর জওয়ানরা বাহিনী ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

সূত্রঃ dailymail.co.uk


ভারতে নকশালরা ২০শে ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ রাজ্যে বন্ধ ডেকেছে …

বিশাখাপত্তনম : রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের জন বিরোধী কার্যক্রমের প্রতিবাদে সিপিআই (মাওবাদী) ফেব্রুয়ারীর ২০ তারিখ থেকে অন্ধ্র প্রদেশ ও তেলেঙ্গানা সহ পাঁচ রাজ্যে বন্ধ ডেকেছে। বৃহস্পতিবার টিওআই পাঠানো একটি প্রেস রিলিজে মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় আঞ্চলিক ব্যুরো (CRb) মুখপাত্র প্রতাপ- ছত্তিশগড়, উড়িষ্যা এবং মহারাষ্ট্রে ধ্বংসাত্মক এবং গণবিরোধী নীতি বাস্তবায়নকারী হিসেবে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি , পি মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু, তেলেঙ্গানা মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাও কে দায়ী করেন। 

Source – http://timesofindia.indiatimes.com/city/visakhapatnam/Naxals-call-for-5-state-bandh-on-Feb-20/articleshow/46224136.cms