শান্তিচুক্তির শর্ত বারবার লঙ্ঘন : কলম্বিয়া সরকারের সমালোচনা মার্কসবাদী ফার্কের

farc_tropa_tres

কলম্বিয়া সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে মার্কসবাদী গেরিলা দল ‘ফার্ক’। তাদের সাথে করা শান্তিচুক্তির শর্ত বারবার লঙ্ঘন করায় সরকারকে অভিযুক্ত করে অস্ত্র পরিত্যাগ বিলম্ব করার হুমকি দিয়েছে ফার্ক।

গত নভেম্বরে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তির শর্ত সরকার বারবার লঙ্ঘন করায় তারা এ হুমকি দিয়েছে। খবর এএফপি’র। এক বিবৃতিতে ফার্কের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারের এই ধরণের দীর্ঘসূত্রিতা চলতে থাকলে তারা অস্ত্র পরিত্যাগের ক্ষেত্রে বিলম্ব করবে।

দলটির গেরিলা নেতা রদ্রিগো লন্ডনো এক টুইটার বার্তায় বলেন, সরকারের এমন আচরণের কারণে ফার্ক আন্তর্জাতিক মনিটরিংয়ের দাবি জানাতে যাচ্ছে। এর আগে তিনি গেরিলাদের অস্ত্র ত্যাগ স্থগিতের কথা বিবেচনা করেছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী কলম্বিয়ার ২৬টি অঞ্চলের ৭ হাজার বিদ্রোহীর জাতিসংঘের কাছে অস্ত্র সমর্পণের কথা রয়েছে।


কলম্বিয়ায় মার্কসবাদী গেরিলা দল ‘ফার্ক ও সরকার’ এর যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই

cuba-s-president-raul20160624022235

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) যুদ্ধবিরতি বিষয়ক এক ঐতিহাসিক চুক্তিতে সই করেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়েল স্যান্টোস ও ফার্কের নেতা টিমোচেনকো।

বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, কলম্বিয়া সরকার ও ফার্কের মধ্যকার যুদ্ধের অবসান ঘটতে এখন মাত্র আর কিছুটা পথ বাকি।  হয়তো তা এক সপ্তাহের মধ্যে হতে পারে।  এই এক সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে সই করবে উভয়পক্ষ।

প্রায় তিন বছর আগে ২০১২ সালের নভেম্বরে শান্তিচুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়।  এরপর গত বুধবার কিউবার রাজধানী হাভানায় একটি ইশতেহার ঘোষণা করেছে দুই পক্ষই।  নানা কারণে বিষয়টি সাফল্যের মুখ না দেখলেও সম্প্রতি দেশটির সরকার ও ফার্ক একটি সমঝোতায় আসে।


শান্তি চুক্তি সই হলে প্রকাশ্য রাজনীতিতে প্রবেশ করবে মার্কসবাদী গেরিলা দল ‘ফার্ক’

রোডিগো লন্ডোনো

রোডিগো লন্ডোনো

কলম্বিয়ার বামপন্থী ফার্ক গেরিলা দল ‘ফার্ক’ বলেছে, শান্তি চুক্তি সই হলে তারা দেশটির প্রকাশ্য রাজনীতিতে প্রবেশ করবে এবং অন্যান্য দলের সঙ্গে জোট গঠন করবে। বোগোটা সরকারের সঙ্গে চুক্তি করতে রাজি হওয়ার পর এ ঘোষণা দেন ফার্কের প্রধান রোডিগো লন্ডোনো। কলাম্বিয়ার স্থানীয় সাময়িকী সেমানা’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অস্ত্র তুলে রেখে প্রকাশ্য রাজনীতিতে ঢুকবে ফার্ক। চুক্তি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য দেশটির সর্বাধিক সংখ্যক দলকে একত্রিত করার বিষয়টি মৌলিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়াবে বলেও জানান তিনি

লন্ডেনো আরো বলেন, চুক্তি সই হওয়ার পর অস্ত্র নামিয়ে রাজনৈতিক সংগ্রামে নামবে ফার্ক। এ ছাড়া, ২০১৮ সালে অনুষ্ঠেয় কলাম্বিয়ার সংসদ এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও হয়ত অংশ গ্রহণ নেবে তার সংগঠন।

কিউবার রাজধানী হাভানায় কলম্বিয়া সরকার এবং ফার্ক প্রতিনিধি দল শান্তি আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ আলোচনায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। আগামী ২৩ মার্চের মধ্যে চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে দু’পক্ষ।

১৯৬০-এর দশক থেকে ল্যাতিন আমেরিকার এ দেশটির বুর্জোয়া সরকারের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ চালিয়ে আসছে মার্কসবাদী ফার্ক গেরিলারা।

অনুবাদ সূত্রঃ http://www.semana.com/nacion/articulo/timochenko-vamos-a-hacer-politica-sin-armas/458573


চলচ্চিত্রঃ কলম্বিয়ার মার্কসবাদী নারী গেরিলাদের নিয়ে তথ্যচিত্র ‘গোলাপ এবং রাইফেল’

এই পুঁজিবাদী বাস্তবতায় কলম্বিয়ার নারীরা অর্থনৈতিক, যৌন, মেধা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সব ধরণের নারী নির্যাতনের সম্মুখীন হচ্ছে। বিভিন্ন সরকারী স্তরে নারীদের অংশগ্রহণ প্রায় নেই বললেই চলে এবং বাম থেকে আইনি রাজনীতি করতে যাওয়া নারীদের জন্য এটা প্রায়ই অসম্ভব। প্রতিদিন অনেক নারীরা কেন লাতিন আমেরিকার প্রাচীনতম গেরিলা দলে যোগ দিচ্ছেন? তারা নিজেদের মুক্তির জন্য সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ একটি সমাজ নির্মাণের আদর্শে থেকে একটি সমাজতান্ত্রিক সমাজের জন্য সংগ্রাম করার সিদ্ধান্ত নেন। কলম্বিয়ার বুর্জোয়াদের নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া, এসব সত্য গোপন করে। এই সকল মিডিয়া কোম্পানিগুলো প্রচার করে থাকে যে, ফার্কের নারী গেরিলারা তাদের কমান্ডারদের যৌন দাসী হিসেবে ব্যবহৃত হন।

জনগণের কাছে বুর্জোয়া মিডিয়ার এই সব মিথ্যে প্রোপাগান্ডার বিপরীতে আসল সত্যতা তুলে ধরার জন্যেই ফার্কের বিপ্লবী নারীদের প্রকৃত জীবন নিয়ে এই তথ্যচিত্রটি নির্মিত হয়েছে।


মার্কসবাদী ফার্ক গেরিলাদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের

farc members

কলম্বিয়ায় দেশটির বামপন্থী মার্কসবাদী ফার্ক গেরিলাদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সানটোস।

আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন তিনি। সেই সঙ্গে, যুদ্ধবিরতির এই প্রস্তাব মেনে নেয়ার মাধ্যমে ফার্ক গেরিলাদের সঙ্গে ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের অবসান হবে বলেও এসময় আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রায় তিন বছর ধরে চলা কলম্বিয়া সরকারের সঙ্গে ফার্ক গেরিলাদের ছয় ধাপের শান্তি আলোচনার চূড়ান্ত ধাপে এসে যৃদ্ধবিরতির এই প্রস্তাব দিল দেশটির সরকার।

গত জুলাইয়ে গেরিলাদের পক্ষ থেকে কলম্বিয়া সরকারকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও তাদের ওপর স্থল অভিযান অব্যাহত রাখে দেশটির সেনাবাহিনী। যদিও, ওই প্রস্তাবের পর বিমান হামলা বন্ধ রাখে দেশটির সরকার।


কলম্বিয়ার ফার্ক গেরিলাদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি জনসম্মুখে প্রকাশের উদ্যোগ

news_img

কলম্বিয়ার মার্কসবাদী ফার্ক গেরিলাদের সঙ্গে শান্তিচুক্তির বিস্তারিত জনসম্মুখে প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

শুক্রবার কলম্বিয়ার সরকার ও গেরিলাদের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারী একথা জানান।

এ চুক্তির প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সাবেক মার্কসবাদী গেরিলা, সরকারি সৈন্য এবং ডানপন্থী আধা-সামরিক সৈন্যদের বিচারে একটি বিশেষ আদালত প্রতিষ্ঠায় সম্মত হয় সরকার এবং গেরিলারা। তবে কিছু অস্পষ্টতা ও অসম্পূর্ণতার কারণে সমগ্র শান্তিচুক্তিটি এখনি প্রকাশ করা হবে না।

উল্লেখ্য, আগামী ছয় মাসের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে ফার্ক গেরিলাদের আহ্বান জানানো হয়। এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়াল স্যান্টোস এবং ফার্ক নেতা রদ্রিগোর উপস্থিতিতে কিউবার রাজধানী হাভানায় এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাউল কাস্ত্রো।

প্রসঙ্গত, পঞ্চাশ বছর মেয়াদী এ যুদ্ধে প্রায় ২ লক্ষ বিশ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেন।

তবে চুক্তিটি আদৌ বাস্তবায়িত হবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে ।


যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায় চার মার্কসবাদী ‘ফার্ক’ সদস্য

_85234022_028355187-1

কলম্বিয়ার মার্কসবাদী গেরিলা দল ফার্ক এর চার সদস্যকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট থেকে বলা হয়েছে, এই চারজন সুইজারল্যান্ডের জুরিখে একটি বিপণী ব্যবহার করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি ছোট দল গঠন করেছে। মার্কসবাদী ফার্ক বিদ্রোহীরা তাদের ‘কর্মকাণ্ড’ চালানোর লক্ষ্যে সেখানে বসে বিভিন্ন দেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে।

১৯৯৯ সালের কিংপিন ধারা অনুযায়ী, এই চার মার্কসবাদী ফার্ক সদস্যের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সব ধরনের সম্পদ বাজেয়াপ্ত হতে পারে। একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে যুক্তাষ্ট্রের যে কোনো প্রতিষ্ঠান বা নাগরিকের ব্যবসায়ী সম্পর্ক নিষেধ করা হয়েছে।

কালো তালিকাভুক্ত এই চার মার্কসবাদী ফার্ক সদস্য হলেন, জোসে ভিসেন্টে পেনা পাচেকো, অ্যাডলফো ফনেগ্রা এসপেজো, আইভান গনজালেস জামোরানো ও ক্রিশ্চিয়ান ডেভিড গনজালেস মেজিলা।
তারা বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে বসবাস করছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির প্রধান অ্যানথনি মারোত্তা বলেন, ফার্ক আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তালিকাভুক্ত। তাদের যে কোনো ধরনের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র সজাগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, মার্কসপন্থী ফার্ক গেরিলারা ল্যাটিন আমেরিকার মধ্যে সবচেয়ে বড় গেরিলা গ্রুপ; এবং ১৯৬৪ সাল থেকে তারা সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে আসছে।দলটি ক্ষমতাসীন বুর্জোয়া, মার্কিন মদদপুষ্ট কলম্বিয়া সরকার, বহুজাতিক কোম্পানি ও নয়া উপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে গরীব মানুষদের অধিকার আদায়ের জন্যে সংগ্রাম করে যাচ্ছে।

২০০৮ সালে হুগো শ্যাভেজ ফার্ককে একটি সঠিক পথের জনগণের আর্মি বলে মন্তব্য করেন। কলম্বিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চিলি, নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ফার্ককে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দিলেও ব্রাজিল, ভেনিজুয়েলা, আর্জেন্টিনা, নিকারাগুয়া ও ইকুয়েডর সরকার ফার্ককে গেরিলা সংগঠনের স্বীকৃতি দেয়।

সাম্প্রতিক সময়ে কিউবাতে কলম্বিয়া সরকারের সাথে তাদের যুদ্ধ বিরতি ও শান্তি আলোচনা চলছে।

সূত্রঃ http://www.bbc.com/news/world-latin-america-34082252