আসামে উচ্চ শিক্ষিত তরুণদের সশস্ত্র আন্দোলনে যোগদান বাড়ছে

ULFA-2

বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম প্রথম আলো জানাচ্ছে, রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা তৈরি হওয়ায় ভারতের আসাম রাজ্যে সশস্ত্র আন্দোলনে তরুণদের যোগদান বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকেরা অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। তরুণ প্রজন্মের এভাবে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হওয়ায় উদ্বিগ্ন পুলিশ, প্রশাসন।

আসামের স্বাধীন গোষ্ঠীর (উলফা আই) স্বঘোষিত সর্বাধিনায়ক পরেশ বড়ুয়ার ভাইয়ের ছেলে মুন্না বড়ুয়া সম্প্রতি বাড়ি থেকে পালিয়ে জঙ্গি দলে যোগ দিয়েছেন।

ছেলের সশস্ত্র আন্দোলনে যোগদানকে স্বাগত জানিয়েছেন পরেশ বড়ুয়ার ভাই বিমল বড়ুয়া।

সাংবাদিকদের কাছে বিমল বড়ুয়া বলেন, ‘ছেলে জেনেবুঝেই স্বজাতিকে রক্ষা করার কাজে গিয়েছে। বিন্দুমাত্র দুঃখ নেই।’

আসামের গণমাধ্যম উলফা আই নেতা পরেশ বড়ুয়াকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, তাঁর ভাইয়ের ছেলে স্বেচ্ছায় সশস্ত্র আন্দোলনে নাম লেখানোয় তিনি খুশি। আসাম জাতির জন্য এই আত্মত্যাগ তাঁকে গর্বিত করেছে বলেও নাকি পরেশ মন্তব্য করেছেন।

শুধু মুন্না বড়ুয়াই নন, রাজ্যে নতুন করে সশস্ত্র আন্দোলনে তরুণদের যোগদান বাড়ছে। উচ্চশিক্ষিত তরুণেরা নিজেদের পেশা ভুলে যোগ দিচ্ছেন জঙ্গলের জীবনে। এই প্রবণতায় বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক কুলধর শইকিয়া গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের সশস্ত্র আন্দোলনে যোগদান বন্ধে সব রকম তৎপরতা শুরু করেছে রাজ্য পুলিশ। সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

প্রতিবেশী রাজ্যগুলোকে সতর্ক করে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন আসামের পুলিশপ্রধান। সেই সঙ্গে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে।

এমনকি আসামের পুলিশপ্রধান তরুণদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন, বন্দুকের নল দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে এই মত মানতে নারাজ উলফার আলোচনাপন্থী নেতা অনুপ চেটিয়া। তাঁর ভাষ্য, আসামের নাগরিকেরা আজ অস্তিত্বের সংকটে। নাগরিকত্ব বিল পাস হলে অনুপ্রবেশকারীতে ভরে যাবে আসাম। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রতি তাই আস্থা নেই তরুণদের। এ কারণে তাঁরা হাতে অস্ত্র তুলে নিচ্ছেন।

বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান অনুপ্রবেশকারীদের নাগরিকত্ব দিতে চায় ভারত সরকার। এ জন্য বিল আনা হয়েছে পার্লামেন্টে। বিলটি বর্তমানে যৌথ সংসদীয় কমিটির বিবেচনাধীন।

অনুপ চেটিয়াদের মতে, বিলটি পাস হলে সমস্যায় পড়বে আসামের নাগরিকেরা। তাই তাঁরা ‘বিদেশি অনুপ্রবেশ’ ঠেকাতে প্রতিবাদ করতে এগিয়ে আসছেন।

Advertisements

পশ্চিমবঙ্গে ‘মাওবাদী সাহিত্য’ পাওয়ার অভিযোগে গণ ও রাজ‌নৈ‌তিক আন্দোল‌নের কর্মী গ্রেফতার

404_09_06_13_ATS_arrests_7_suspected_Maoists_in_Mumbai_H@@IGHT_510_W@@IDTH_680

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পশ্চিম মেদিনীপুরের মাকলি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার জঙ্গল লাগোয়া একটি ফুটবল মাঠে অভিযান চালিয়ে গণআ‌ন্দোলন ও রাজ‌নৈ‌তিক আন্দোল‌নের কর্মী টিপু সুলতান ওরফে স্বপন, অর্কদীপ গোস্বামী, সঞ্জীব মজুমদার ও সব্যসাচী গোস্বামী‌কে গ্রেপ্তার ক‌রে‌ছে পু‌লিশ। ওদের কা‌ছে “মাও‌য়িস্ট লিটা‌রেচার” পাওয়া গে‌ছে ব‌লে পু‌লি‌শের অভি‌যোগ। 

সব্যসাচী ও সঞ্জীব সোদপুরের বাসিন্দা। অর্কদীপ ওরফে বিজয়ের বাড়ির কলকাতার পর্ণশ্রী এলকায়। টিপু সুলতানের বাড়ি বীরভূমে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের কাছ থেকে বেশ কিছু লিফলেট ও প্রচার পুস্তিকা উদ্ধার হয়েছে। তাতে মাওবাদী রাজ্য কমিটির সম্পাদক আকাশের নাম রয়েছে। শুধু তাই নয়, জঙ্গলমহলের আদিবাসীদের সশস্ত্র লড়াইয়ের ডাক দেওয়ার কথা লেখা রয়েছে ওই প্রচার পুস্তিকা ও লিফলেটগুলিতে। ধৃতদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৯, ১২০, ১২১, ১২২, ১২৩, ১২৪এ-সহ বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এ দিন ধৃতদের গড়বেতা আদালতে তোলা হবে।

ধৃতদের সঙ্গে মাওবাদী যোগের কথা অস্বীকার করেছে এপিডিআর। সংগঠনের পক্ষ থেকে রঞ্জিত শূর বলেন, “আমরা ওঁদের পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলেছি। আদিবাসীদের উন্নয়ন ও কয়েকটি সমীক্ষার কাজে গতকালই জঙ্গলমহলে গিয়েছিলেন সব্যসাচী-অর্কদীপরা। পুলিশ ওঁদের গ্রেফতার করেছে।” অবিলম্বে ধৃতদের মুক্তির দাবিও জানান তিনি।

সব্যসাচীর নাম এর আগেও কয়েক বার প্রকাশ্যে এসেছে। শীর্ষ মাওবাদী নেতা হিসেবে পরিচিত। অর্কদীপ বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে পড়েছেন। অন্য দিকে, বিশ্বভারতীতে স্নাতকোত্তর শেষ করে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি হয়েছেন টিপু ওরফে স্বপন।

সূত্রঃ https://www.anandabazar.com/state/four-suspected-maoist-arrested-from-goaltore-dgtl-1.897719


কমিউনিস্ট বিপ্লবী নেতা কমরেড অজয় ভট্টাচার্য স্মরণে

22490195_491992164512352_6170092800779996947_n

কমরেড অজয় ভট্টাচার্য বিপ্লবী, সাম্যবাদী রাজনীতিক, ইতিহাসকার, সাহিত্যিক। নানকার বিদ্রোহে (১৯৪৫-৪৮) নেতৃত্ব প্রদান এবং এর প্রামাণ্য গ্রন্থ রচনা তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ অবদান। ১৯১৪ সালের ১০ জানুয়ারি অবিভক্ত ভারতের আসাম প্রদেশের অন্তর্গত সিলেট জেলার পঞ্চখন্ড পরগনার লাউতা গ্রামে এক সামন্ত পরিবারে অজয় ভট্টাচার্যের জন্ম। তাঁর পিতা উপেন্দ্রকুমার ভট্টাচার্য এবং মাতা কৃপাময়ী ভট্টাচার্য। উপেন্দ্রকুমার ভট্টাচার্য জমিদার সমিতির এবং সিলেট জেলা কংগ্রেসের নেতা ছিলেন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী মনোভাব ছিল অজয় ভট্টাচার্যের গোটা পরিবারে। গোপন রাজনীতির কারণে তিনি দেওয়ানভাই, কাসেম, অনিল ছদ্মনামে পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক সাহিত্য ও প্রবন্ধ রচনায় তিনি যাত্রিক, সাজ্জাদ জহির প্রভৃতি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।

অজয় ভট্টাচার্য লাউতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা এবং লাউতা এম.ই স্কুল ও বিয়ানীবাজার হরগোবিন্দ স্কুলে মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি করিমগঞ্জ পাবলিক হাইস্কুল থেকে ১৯৩৭ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর ১৯৩৯ সালে আসামের কাছাড় জেলার শিলচর গুরুচরণ কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে আই.এ পাশ করেন। তিনি ১৯৪১ সালে সিলেট মুরারী চাঁদ কলেজ (এম.সি)-এ বি.এ শ্রেণিতে ভর্তি হন। কিন্তু ছাত্র ও কৃষক আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ায় তাঁর পক্ষে পড়ালেখা অব্যাহত রাখা সম্ভব হয় নি। কিশোর বয়সে অজয় ভট্টাচার্য ‘তরুণ সংঘ’ নামে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী বিপ্লবী সংগঠনে যোগ দেন এবং লাউতা শাখার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রাবস্থায় অজয় ভট্টাচার্য কুলাউড়া কৃষক বিদ্রোহ এবং ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৩৫-৩৬ সালে ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের সংস্পর্শে আসেন। ১৯৩৬ সালে সিলেটে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির শাখা গঠিত হলে তিনি পার্টির রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিচালিত সর্বভারতীয় ছাত্র ফেডারেশনের সুরমা উপত্যকা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কৃষক সভা কাছাড় জেলার সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৩৭ সালে অজয় ভট্টাচার্য ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। ১৯৪০ সাল থেকে তিনি পার্টির সার্বক্ষণিক কর্মী হিসেবে আত্মগোপনে থেকে বিপ্লবী কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। ১৯৪১ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টি সিলেট জেলা কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৪৮ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির দ্বিতীয় কংগ্রেসের ডেলিগেট নির্বাচিত হন। অজয় ভট্টাচার্য সিলেটের ঐতিহাসিক নানকার বিদ্রোহে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী নানকার বিদ্রোহের প্রাণকেন্দ্র ছিল লাউতা বাহাদুরপুর। ১৯৪৮ সালের মে মাসে গ্রেফতারের পূর্ব পর্যন্ত লাউতা বাহাদুরপুর কেন্দ্রিক পঁয়তাল্লিশ সদস্য বিশিষ্ট নানকার আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালনা কমিটির সম্পাদক ছিলেন তিনি।

ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে তিনি মোট সাতবার কারাবন্দি হন। পাকিস্তান আমলে ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত তিনি বিশ বছর জেলে কাটান। পূর্ব পাকিস্তানের নূরুল আমিন সরকার কারামুক্তির বিনিময়ে অজয় ভট্টাচার্যকে চিরতরে দেশত্যাগ করে ভারতে চলে যাবার প্রস্তাব দেয়। তিনি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে তিনি কারাগারে থেকেই কমরেড আব্দুল হকের সাথে সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা ক্রুশ্চেভ সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেন। বিশ শতকের ষাটের দশকে আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনে ক্রুশ্চেভতত্ত্ব কেন্দ্রিক মহাবিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি বিভক্ত হয়। ১৯৬৭ সালে পার্টির চতুর্থ কংগ্রেসে গড়ে ওঠে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) [ইপিসিপি(এম-এল)]। তিনি এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে শ্রেণিভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বিপ্লবী যুদ্ধ পরিচালনা করে।
১৯৭৫ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অজয় ভট্টাচার্য কমরেড আব্দুল হকের সাথে সমন্বিতভাবে তাঁদের ভাষায় এসব ‘শ্রেণি সমন্বয়বাদী’, ‘বিলোপবাদী’, ‘আত্মসমর্পণবাদী’, লেজুড়বৃত্তির প্রতিবিপ্লবী লাইনের বিরুদ্ধে আদর্শগত সংগ্রাম পরিচালনা করেন। ১৯৮৩ সালে তিনি পার্টির কেন্দ্রীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করেন। তবে একজন পার্টিসভ্য ও অভিজ্ঞ প্রবীণ বিপ্লবী নেতা হিসেবে তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা, জ্ঞান, পরামর্শ, মতামত ও সহযোগিতা দিয়ে আমৃত্যু পার্টিতে ভূমিকা পালন করেন। বিশ শতকের নববইয়ের দশকের শুরুতে সোভিয়েত রাশিয়া ও পূর্ব-ইউরোপের দেশসমূহের পতনের সময় তিনি সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি ছদ্মনাম পরিত্যাগ করে স্বনামে লিখতে শুরু করেন।
ব্রিটিশ আমলে সিলেট থেকে প্রকাশিত ও জ্যোতির্ময় নন্দী সম্পাদিত সাপ্তাহিক নয়া দুনিয়া, সংহতি এবং কালিপ্রসন্ন দাস সম্পাদিত মাসিক বলাকা পত্রিকার মাধ্যমে তাঁর লেখক জীবনের সূত্রপাত হলেও দীর্ঘ কারাজীবনই তাঁর লেখক জীবনের রচনাস্থল। এক্ষেত্রে সত্যেন সেন, রণেশ দাশগুপ্ত, সরদার ফজলুল করিম, আব্দুল হকের মতো সহবন্দিদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা তাঁকে কলম সৈনিকে পরিণত করে। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো: উপন্যাস: এঘর-ওঘর (১৯৬৮), কুলিমেম (১৯৯৫), অরণ্যানী (১৯৮৩), বাতাসির মা (১৯৮৫), রাজনগর (১৯৯৫), গল্পগ্রন্থ: নীড় (১৯৬৯), সুবল মাঝির ঘাট (১৯৯৭); ইতিহাস গ্রন্থ: নানকার বিদ্রোহ (অখন্ড ১৯৯৯), অর্ধ শতাব্দী আগে গণ আন্দোলন এদেশে কেমন ছিল (১৯৯০)। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত ও অগ্রন্থিত তাঁর শতাধিক প্রবন্ধ এবং গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধের পান্ডুলিপি অপ্রকাশিত অবস্থায় রয়ে গেছে। তাঁর সৃষ্টিশীল লেখায় ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষে সামন্ত শোষণ এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মানুষের জীবন সংগ্রামের কথা প্রাধান্য পেয়েছে। তাঁর নানকারবিষয়ক দুটি গ্রন্থ এদেশের কৃষক-আন্দোলনের এক ঐতিহাসিক দলিল।

১৯৯৯ সালের ১৩ অক্টোবর ৮৫ বছর বয়সে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।


গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের প্রতি মাওবাদীদের বার্তা

gorkha-protests

পাহাড়ের আন্দোলনকারীদের বিভক্ত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে জোটবদ্ধ হওয়ার ডাকের পাশাপাশি ‘সত্যিকারের শত্রু’কে চিহ্নিত করা এবং সঠিক বন্ধুদের সঙ্গে হাত মেলানোর কথা জানিয়েছে মাওবাদীরা। দলের ইস্টার্ন রিজিওনাল ব্যুরোর শীর্ষনেতা কিসানদা ওরফে প্রশান্ত বসুর বিবৃতিতে মাওবাদীরা তাদের পরবর্তী পরিকল্পনা প্রসঙ্গে এ কথাই উল্লেখ করেছে। ২০১৭-র জুন মাসে পাহাড় জুড়ে বিমল গুরুংদের গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন শুরুর পর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, এই আন্দোলনে মাওবাদীদের মদত রয়েছে। যদিও পাহাড়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতারা তা মানতে চাননি। বর্তমানে বিমল গুরুংদের ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে আসা জিজেএমের নেতা বিনয় তামাং দাবি করেছিলেন, তাঁদের আন্দোলনে মাওবাদীরা নেই। এটা স্বতঃস্ফূর্ত গণ-আন্দোলন। এ সব বিতর্ক চলতে থাকলেও পাহাড়ের টানা বনধ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের একটি নির্দেশের প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের তরফে আগেই দাবি করা হয়েছিল, বাইরে থেকে মাওবাদীরা এসে পাহাড়ে ঘাঁটি তৈরি করেছে। তারা এই আন্দোলনে মদত দিচ্ছে। ঠিক এর পরেই পাহাড়ে চকবাজারের কাছে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। যার প্রেক্ষিতে মোর্চা নেতা বিমল গুরুংয়ের বিরুদ্ধে ইউএপিএ ধারায় মামলা রুজু করা হয়। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের রিপোর্ট বলছে, ২০০৮ সালেই মাওবাদীদের ফ্রন্টাল অর্গানাইজেশন গণপ্রতিরোধ মঞ্চের তিন সদস্য রাজা সরখেল, প্রসূন চট্টোপাধ্যায় এবং গৌর চক্রবর্তী পাহাড়ে গিয়ে সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন। অন্য দিকে, ২০০৯-এর ফেব্রুয়ারি মাসে লালগড়ের খাসজঙ্গলে সিপিএম কর্মীদের গুলিতে তিন আদিবাসীর হত্যার প্রতিবাদে পুলিশি সন্ত্রাস বিরোধী জনসাধারণের কমিটি যে বিক্ষোভ সভার ডাক দেয়, সেখানে রোশন গিরি, বিনয় তামাংরা হাজির হয়েছিলেন। কিসানদা ঝাড়খণ্ড থেকে পাঠানো তাঁর বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আলাদা রাজ্যের দাবি, নাগরিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং বাংলা ভাষা জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে বহু বছর আগে গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন শুরু হয়। কিন্তু সুবাস ঘিসিংয়ের বিশ্বাসঘাতকতায় এই আন্দোলন তার লক্ষ্য থেকে সরে যায়। তবু পাহাড়ের সাধারণ মানুষের কথা ভেবে আমরা এই আন্দোলনের প্রতি আমাদের সহানুভূতি এবং সমর্থন এখনও জারি রেখেছি। ওখানকার বাসিন্দাদের সব কিছু সহ্য করেই পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে মুক্তি না পেলে কোনও আন্দোলন সম্পূর্ণ হয় না। পাহাড়ের আন্দোলনকারীদের প্রতি বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের শোষণ-নিপীড়নে ইতি টানতে সেনাবাহিনীকে নির্মূল করা জরুরি। সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে সশস্ত্র সংগ্রামের রাস্তা থেকে সরে আসা যাবে না। এ জন্য প্রথমে গ্রাম, তার পর শহরের দিকে এগোতে হবে। গোর্খল্যান্ড নিয়ে মাওবাদীদের সমর্থন নতুন কোনও বিষয় নয়। কিন্তু দার্জিলিং নিয়ে আচমকা প্রশান্ত বসুর এই বিবৃতি চিন্তায় ফেলেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের। কারণ, প্রায় বছরখানেক আগে বিমল শিবির থেকে বেরিয়ে এসে বিনয় তামাং দলের নতুন নেতা হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। এমনকি তিনি জিটিএ-র দায়িত্ব নিয়েছেন। ইউএপিএ-সহ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত বিমল গুরুং আত্মগোপন করে রয়েছেন। পাহাড়ের এই আপাত ঠান্ডা বাতাবরণেই মাওবাদীদের বিবৃতি নতুন করে ভাবাচ্ছে গোয়েন্দাদের।

সূত্রঃ https://eisamay.indiatimes.com/west-bengal-news/kolkata-news/the-maoists-call-back-the-cold-hills-again/articleshow/65876490.cms


বিশাখাপত্তনমে TDP বিধায়ক ও প্রাক্তন বিধায়ককে গুলি করে হত্যা মাওবাদীদের

six-suspectsmaoistupats

অারাকুর TDP বিধায়ক সর্বেশ্বরা রাও ও প্রাক্তন বিধায়ক এস সোমান্নাকে রবিবার গুলি করে হত্যা করলো বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন মাওবাদী। প্রায় ৬০জন মাওবাদী এই হামলায় অংশ নেয়, এর মধ্যে ৪০জনই নারী গেরিলা ছিল। দ্য হিন্দুর রিপোর্ট অনুযায়ী, রবিবার সকালে ওই ২ নেতা যখন সভা করতে বিশাখাপত্তনমের কাছে একটি গ্রামে যাচ্ছিলেন সেই সময় তাদের গাড়ি অাটকায় ৫০-৬০জনের সশস্ত্র মাওবাদীদের একটি দল। পরে তথাকথিত গণঅাদালতে দোষী সাব্যস্ত করে ওই ২ টিডিপি নেতাকে গুলি করে হত্যা করে তারা। অন্যদিকে পিটিঅাই জানাচ্ছে গাড়ি থেকে ওই ২ নেতাকে নামিয়ে গুলি করে মাওবাদীরা। খননের বিষয় নিয়ে বিধায়কের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ ছিল তারা। বিশাখাপত্তনম এলাকায় যথেচ্ছভাবে খননের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পরিবেশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষতি হলেও প্রশাসন তা নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ। ২০১৪ সালে ysr কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হন সর্বেশ্বর। সম্প্রতি হাওয়া বুঝে TDPতে যোগ দেন তিনি।

সূত্রঃ satdin.in


হিদমাঃ ছত্তিসগড়ের ‘রবিনহুড’

image (1)

হিদমাই এখন ছত্তীসগঢ়ের জঙ্গলে পুলিশের কাছে ত্রাস, আদিবাসীদের কাছে ‘রবিনহুড’। যার হাতে সব সময় থাকে ‘একে-৪৭’ রাইফেল। শোনা যায়, ঘুমোনোর সময় হিদমার একটা হাতে ধরা থাকে কালাশনিকভ।

পুলিশ আর নিরাপত্তা বাহিনী মাওবাদী হিদমাকে তন্নতন্ন খুঁজছে গত ৫/৬ বছর ধরে। কিন্তু হিদমা এখনও পর্যন্ত ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গিয়েছেন।

হিদমার ‘একশো একটা’ ছবি রয়েছে ছত্তীসগঢ়ের পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে। কিন্তু তার মধ্যে কোনটা হিদমার আদত ছবি, এখনও তা জানা সম্ভব হয়নি। সুকমার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দাদের জেরা করে পুলিশ কানাঘুষো যেটুকু শুনেছে, তাতে মাওবাদী হিদমা বেশ বেঁটেখাটো, অনেকটা মাও জে দঙের মতোই। তবে চেহারায় বেশ খানিকটা রোগাই। তাঁর জন্ম সম্ভবত সুকমার জাগরগুন্ডা এলাকায়। বয়সটা ৫১-র আশপাশে।

গোটা বস্তার জেলায় মাওবাদী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এই হিদমাই। সুকমা, বস্তারে আরও একটি নামে হিদমাকে চেনে লোকজন। ‘দেবা’। তবে কবে তাঁর হাতে বন্দুক উঠল আর কবে তিনি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা শুরু করলেন, এখনও পর্যন্ত তার কিছুই ছত্তীসগঢ়ের পুলিশের জানা নেই। এও জানা যায়নি, স্ত্রী ছাড়া হিদমার পরিবারে আর কে কে আছেন, তাঁরা কোথায় থাকেন।

ছত্তীসগঢ়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা হলেই হিদমার নাম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যায়।

এই হিদমার নাম প্রথম জোরালো ভাবে ছত্তীসগঢ় পুলিশের কানে আসে আজ থেকে ৫ বছর আগে, ২০১৩-য়। ওই সময় মাওবাদীদের আক্রমণে ঝিরাম উপত্যকায় নিহত হয় ২৭ জন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তদানীন্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিদ্যাচরণ শুক্ল, প্রদেশ কংগ্রেসের তদানীন্তন সভাপতি নন্দকুমার পটেল, তাঁর ছেলে দীনেশ, প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা মহেন্দ্র কর্মা ও ছত্তীসগঢ়ের তদানীন্তন বিধায়ক উদয় মুদালিয়র। গত বছরের এপ্রিলে বারকাপালে মাওবাদীদের সঙ্গে গুলিযুদ্ধে সিআরপিএফের ২৪ জন জওয়ানের মৃত্যুর ঘটনাতেও হিদমা জড়িত ছিলেন বলে ছত্তীসগঢ় পুলিশের একাংশের ধারণা।

পুলিশ শুধু এইটুকুই জানতে পেরেছে, সুকমার জাগরগুন্ডা এলাকায় জন্ম হিদমার। একটি আদিবাসী পরিবারে। হিদমা এখন মাওবাদী সংগঠন পিপলস লিবারেশন-এর ‘গেরিলা সেনাবাহিনী’র এক নম্বর ব্যাটেলিয়নের প্রধান নেতৃত্ব। আর মাওবাদীদের ‘সাউথ সাব-জোনাল কমান্ডে’র প্রধান। সংগঠনের ক্যাডারদের কাছে হিদমা এখন কার্যত ‘হিরো’।

হিদমাকে সব সময় ঘিরে রাখে তাঁর খুব বিশ্বস্ত লোকজনের চার-চারটি ‘বলয়’। সুকমা, বস্তারের যেখানেই যান হিদমা, তাঁর সঙ্গে যায় ওই চারটি ‘বলয়’। পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হলে বাইরের ‘বলয়’-এর অনেকের মৃত্যু হয়। কিন্তু হিদমা’র বলয়টি অক্ষত থাকে। নেতৃত্বকে রক্ষা করতে এটাই গেরিলা যুদ্ধের রণকৌশল।

সূত্রঃ https://www.anandabazar.com/national/who-is-hidma-why-he-is-most-wanted-dgtl-1.865247


‘জেএনইউ’ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সম্মিলিত বাম মোর্চা’র বিপুল জয়

WhatsApp_Image_2018-09-16_at_14.11.04

টানটান লড়াইয়ের অবসান। দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদে নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখল বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। চারটি শীর্ষ আসনই তাঁদের দখলে গিয়েছে। ফলাফলে কার্যত একচ্ছত্র প্রভাব দেখিয়েছে চার বাম সংগঠন এসএফআই, আইসা, ডিএসএফ ও এআইএসএফ৷

জেএনইউতে বাম ছাত্র সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে বিজেপির ছাত্র সংগঠন বার বার প্রশ্ন তুলেছে, বার বার বলতে চেযেছে ক্ষমতাসীন বাম ছাত্র সংগঠন এ দেশের জাতীয়তাবাদী ভাবধারায় বিশ্বাস রাখে না। জেএনইউর ছাত্র নেতাদের পুলিশ দিয়ে হেনস্তার অভিযোগও একাধিক বার উঠেছে। সেদিক থেকে এবার জেএনইউর ছাত্র সংসদের নির্বাচন ঘিরে টান টান উত্তেজনা ছিল সম্মিলিত বাম মোর্চা ও বিজেপির ছাত্র সংগঠন এভিবিপির মধ্যে।তবে শনিবার বিকেলের পরেই পরিষ্কার হয়ে যায় এবারও জেএনইউতে বাম ছাত্র সংগঠনের প্রাধান্যই বজায় থাকবে,এবং শেষ পর্যন্ত সভাপতি,সহ সভাপতি,সাধারণ সম্পাদক ও সহকারী সম্পাদক সব কটি পদেই বাম প্রার্থীরা জয়ী হয়। এসএফআই,এআইএসএফ,আইসা ও ডিএসএফ যৌথভাবে প্রার্থী দেয়।বামেরা জয়ী হওয়ায় জেএনইউতে রবিবার সকাল থেকেই চলছে লাল আবিরেরে হোলি। তবে উত্সব মত্ততায় না ভেসে দেশের কঠিন সময়ে ছাত্রদের চেতনায় শান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিরা।খোদ দিল্লির বুকে বিজেপি ছাত্র সংগঠনের এই পরাজয় গেরুয়া বাহিনীর বড় ধাক্কা বলেই মনে করা হচ্ছে।

সূত্রঃ satdin.in