ছত্তীসগঢ়ে মাওবাদী বিস্ফোরণে নিহত ৭ জওয়ান

image-1827-1526822435

ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াড়ায়  মাওবাদীদের পাতা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে নিহত হলেন ৪ পুলিস সহ ৭ নিরাপত্তাকর্মী। জখম অারো কয়েকজন। ঘটনাটি ঘটেছে রাজ্যের দান্তেওয়াড়া জেলার চোলনার গ্রামে।

পুলিশ সূত্রে খবর, এ দিন সকাল ১১টা নাগাদ রাজ্য পুলিশের একটি সশস্ত্র বাহিনী চোলনার গ্রামের রাস্তা গিয়ে একটি গাড়িতে করে রুটিন তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। সেই সময় মাওবাদীরা ইমপ্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণে গাড়িটি উড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ছয় জওয়ানের।

বিস্ফোরণের পরই মাওবাদীরা জওয়ানদের  কাছ থেকে পাঁচটি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র লুঠ করে নিয়ে পালায়।

ডিইজি নকশাল অপারেশন সুন্দররাজ পি জানিয়েছেন, চোলনারের কাছে একটি জায়গায় মাইন পুঁতে রেখেছিল মাওবাদীরা। গাড়িটি ওই স্থানের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় বিস্ফোরণের শিকার হয়।

কিছুদিন আগে মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলি ও ছত্তিশগড‌ের বিজাপুরে মাওবাদী সহ ৫০জনকে ভুয়ো স‌ংংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনী হত্যা করেছিল বলে অভিযোগ করেছিল মাওবাদীরা । মাওবাদীদের তরফে হঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল ওই ঘটনার তারা বদলা নেবে।  মনে   করা হচ্ছে এদিন  তারই পাল্টা জবাব দিল তারা।

Ddn-ttaUwAALggw

Advertisements

পেরুর গণযুদ্ধের ৩৮তম বার্ষিকীতে লাল সালাম – চেয়ারম্যান গণসালো লাল সালাম


কোটা সংস্কার: বিজয় হয়েছে, হয়নি / আন্দোলন চলবে

Students-Strike

 ছাত্র-ছাত্রী-যুবদের উত্থান

 কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্র-ছাত্রী-যুবদের বিশাল উত্থান ঘটেছিল। এ ক্ষেত্রে ছাত্রীদের অভূতপূর্ব ভূমিকা রয়েছে।  প্রধানমন্ত্রী ছাত্রীদের তিরস্কার করেছেন এই বলে ‘যদি কোনো অঘটন ঘটতো তার দায়দায়িত্ব কে নিত’ ? নারী অধিকারের নেত্রী বটে! কোন কোন শিক্ষয়ত্রী ছাত্রীদের প্রবল প্রতিবাদী দেখে মন্তব্য করেছেন ‘তখন মনে মনে গর্ব করেছি’। দৃষ্টিভঙ্গির তফাৎ। ঐ রাতে ছাত্র লীগের ক্ষমতা ভেঙ্গে পড়ায় ছাত্রীরা নিরাপদে ছিলেন অবশ্য! ছাত্র-ছাত্রীরা সৌহাদ্যপূর্ণভাবেই প্রতিবাদ জানিয়েছেন, কোন অঘটন ঘটেনি। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনে রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভাব-এটা আন্দোলনের বড় দুর্বলতা। ফলে সরকারী ষড়যন্ত্রটা যথাসময়ে যথার্থভাবে উন্মোচিত হতে পারছে না। এই আন্দোলনে সরকার ও ছাত্র লীগ আওয়ামী পন্থী বুদ্ধিজীবীগণ বিরোধী শক্তি ছিলেন এবং আছেন – এর উন্মোচন ও প্রতিবাদ হওয়া দরকার।

মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংবিধান বিরোধী

 মুক্তিযোদ্ধা কোটা শুধু যে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অপমানজনক তাই নয়, তা সংবিধান বিরোধীও বটে। এতদিন ধরে এটা চলে আসলেও কোনো আইনবিদ বা রাজনীতিক এটা কখনো তুলে ধরেনি। রাষ্ট্রের সংবিধানে শুধু পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুযোগদানের কথা বলা হয়েছে। নতুবা ধর্ম, বর্ণ, জাতি, গোষ্ঠী নির্বিশেষে কোনো বৈষম্য তাদের নিজেদের তৈরি এই সংবিধানও অনুমোদন করে না। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা এইসব ভাতা আর কোটার জন্য যুদ্ধ করেননি। তদুপরি, তাদের লড়াই এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছে যেখানে ব্যাপক জনগণের অধিকাংশের জীবন আগের মতই মানবেতর- এটাও আজ প্রতিষ্ঠিত সত্য। জনগণের প্রকৃত মুক্তি হলে কাউকে এমন কোটার জন্য লড়াই করতে হতো না।

কোটা বাতিল সংবিধানবিরোধী

প্রধানমন্ত্রী বিরাগের বশবর্তী হয়ে সকল কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও কেউ এমন কোন দাবি করেনি। যে দাবি কেউ করেনি, সেরকম এক সংবিধান বিরোধী ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী কীভাবে করেন? সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে পিছিয়ে পড়াদের জন্য বিশেষ সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। প্রতিবন্ধী, আদিবাসী, পিছিয়ে পড়া অঞ্চল- এসব ক্ষেত্রে কোটা বাতিলের কোন অধিকারই প্রধানমন্ত্রীর নেই। এটা কীভাবে অভিনন্দনযোগ্য হয়?

‘বঙ্গবন্ধুর বাংলা’য় সর্বদাই বৈষম্য ছিল

এই বিভ্রান্তকারী স্লোগানটি ছাত্রলীগ আন্দোলনে ঢুকিয়ে দিয়েছে। শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগের শাসনামলে একটি উদাহরণও নেই যেখানে বাংলাদেশে বৈষম্য ছিল না ও নেই। এটা ভাবলে ভুল হবে যে, বর্তমান সরকার, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ মুজিবের আদর্শ থেকে সরে গেছে। তারা তাদের আদর্শ ধরেই চলছে। কোটা সংস্কারের ছাত্র আন্দোলনে আক্রমণ, নিপীড়ন ও ষড়যন্ত্র তারই ধারাবাহিকতা, তার ব্যত্যয় নয়।

আন্দোলন বিরোধী নেত্রীকে ‘মাদার’ ঘোষণার নাটক

এ আন্দোলনে পরিস্কারই দুটো পক্ষ ছিল। একটি হলো, সরকার, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ। যারা এ আন্দোলনকে বিরোধিতা করেছে, আক্রমণ করেছে, পুলিশী নিপীড়ন করেছে। অন্যটি হলো, সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী, যারা আন্দোলন করেছেন, নিপীড়িত হয়েছেন ও হচ্ছেন এবং শেষ পর্যন্ত তাদের দাবি আদায় করেছেন। আন্দোলনের চাপে সব কোটা বাতিলের নতুন ষড়যন্ত্রের পর প্রধানমন্ত্রীকে কোন হিসেবে ‘মাদার’ উপাধি দেয়া যেতে পারে? এটা হলো এরশাদের সুদীর্ঘ নয় বছর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের চাপে এরশাদের পতনের পর তাকেই গণতন্ত্রের অতন্ত্র প্রহরী দাবি করার মতো হাস্যকর।

ভিসি’র বাড়িতে হামলা- বাস্তবতা ও বিভিন্ন মত

ভিসি’র বাড়িতে হামলা সম্পর্কে বুর্জোয়া সুশীল ও বুদ্ধিজীবীদের থেকে শুরু করে ‘মূল স্রোত’র রাজনৈতিক দলগুলো নিন্দার ঝড়া তুলেছে। এ সম্পর্কে কেউ এখনো প্রামাণ্যভাবে কিছু বলতে পারছে না। তবে এদেশের ইতিহাসে ’৬৯-এর অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে কোনো গণ ও ছাত্র-অভ্যুত্থানই এতটা সুশীল কখনই ছিল না। বহু আগুন ও ভাঙচুরের মধ্য দিয়েই একেকটা আন্দোলন বিজয় দেখেছে। প্রচলিত মান্য গণ্য বহু ব্যক্তিত্ব, যারা গণবিরোধী রাজনীতির দালালিতে নাম করেছে, গণঅভ্যুত্থানের আগুনে ছাই হয়ে গেছে। যদিও ভিসি-কে শারীরিক হামলা সমর্থনযোগ্য নয়, কিন্তু জনজোয়ার সর্বদা এসব কিছু মেনে এগোয় না। আন্দোলনে পুলিশী আক্রমণ ও ছাত্রলীগের সহিংস হামলার পেছনে ভিসি’র মদদ ছিল না- এটা কেউ বিশ্বাস করবে না। আবার আন্দোলনে স্যাবোটাজ চালানোর জন্যও এ ধরনের কাজ করা হয়ে থাকে। সুতরাং পাইকারী নিন্দার আগে বোঝা প্রয়োজন আক্রান্তটা কে, তার ভূমিকা কী এবং বাস্তবে কী ঘটেছে।

 বিজয় সম্পন্ন হয়নি, আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে

আন্দোলনকে ঘিরে ষড়যন্ত্র চলছে। সুফিয়া কামাল হলের ঘটনা, তিন নেতার গুম প্রচেষ্টা, মামলা প্রত্যাহার না করা, আক্রমণকারী পুলিশ অফিসার ও ছাত্রলীগ নেতাদের গ্রেফতার না করা ও শাস্তি না দেয়া, নতুন আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলা ও বাধাদান প্রভৃতি এরই আলামত। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাও আন্দোলনে বিভ্রান্ত সৃষ্টির চেষ্টা ব্যতীত কিছু নয়। তাই আন্দোলন শেষ হয়নি। নতুন পর্বে প্রবেশ করেছে মাত্র। আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে, ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করার মাধ্যমে। এর বিকল্প নেই।

সূত্রঃ আন্দোলন পত্রিকা, কার্ল মার্কসের জন্মদ্বিশতবর্ষ সংখ্যা


ভারতের মাওবাদীদের নতুন অস্ত্রঃ র‍্যাম্বো অ্যারো, রকেট বোম্ব ও পশু বর্জ্য

maxresdefault

র‍্যাম্বো অ্যারো

র‍্যাম্বো চলচ্চিত্রে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আঘাত হানতে নায়ক সিলভেস্টার স্ট্যালোন এর ব্যবহার করা বিস্ফোরক তীর/অ্যারো এর বাস্তব রূপ দিয়েছে ভারতের মাওবাদীরা। এছাড়াও মাওবাদীরা নতুন অস্ত্র উদ্ভাবন করেছে- রকেট বোম্ব ও বিস্ফোরকে পশু বর্জ্যে ব্যবহার এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলার জন্য মাওবাদীরা মারাত্মক মারণাস্ত্র এবং গোলাবারুদ তৈরি করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘র‍্যাম্বো অ্যারো’ এবং ‘রকেট বোম্ব’ যেগুলো নতুন আইইডি অস্ত্রসম্ভারের অংশ। সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে এ সব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

আইইডি হুমকি নিয়ে যৌথ নিরাপত্তা কমান্ডের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, মাওবাদীরা নিরাপত্তা বাহিনীর গোয়েন্দা কুকুরের নজর এড়াতে বোমা তৈরিতে প্রাণীর বর্জ্য ব্যবহার করছে, যাতে সেগুলো শুঁকে খুঁজে বের করতে না পারে।

পিটিআই যে রিপোর্টটি হাতে পেয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, “২০১৭ সালের শুরুর দিকে, নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষিত কুকুরগুলো লুকানো ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) খোঁজার সময় সেগুলোর বিস্ফোরণে মারা গেছে অথবা জখম হয়েছে”।

ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের পেতে রাখা বোমায় সিআরপিএফের দুটো কুকুর মারা যায়। এরপরই ‘অস্বাভাবিক’ এই ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়।

প্রাণীর বর্জ্য দিয়ে আইইডিগুলো লুকিয়ে রাখার কারণে সেগুলো বিস্ফোরিত হয়ে কুকুরগুলো মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইইডি খুঁজে বের করা এবং সেনাদের জীবন রক্ষার জন্য এই কুকুরগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে থাকে।

টহল কুকুরের জন্য নতুন এই হুমকির ব্যাপারে নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক করা হয়েছে।

এলডাব্লিউই থিয়েটারে আইইডি একটা বড় ঘাতক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিগত অনেক বছর ধরেই এই বোমাগুলো বিস্ফোরণে বহু রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর বহু সদস্য নিহত হয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, সিপিআই (মাওবাদী) ক্যাডাররা এখন অস্ত্র তৈরীতে নতুন একটা বিস্ফোরক পদার্থ ব্যবহার করছে যেটাকে বলা হচ্ছে ‘র‍্যাম্বো অ্যারো’।

তীরের মাথায় নিম্নমানের গান পাউডার বা ফায়ার ক্র্যাকার পাউডার লাগিয়ে দেয়া হয়, যেটা টার্গেটে আঘাত করার পর বিস্ফোরিত হয়।

নতুন আইইডির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, র‍্যাম্বো অ্যারোতে খুব বেশি ক্ষতি হয় না কিন্তু মারাত্মক তাপ ও ধোঁয়া সৃষ্টি করে নিরাপত্তা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করে দেয়। এতে করে সেনারা মারাত্মক আহত হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে মাওবাদীরা তাদের অস্ত্রশস্ত্র লুটে নিতে পারে”।

রিপোর্টে বলা হয়, মাওবাদীরা উচ্চ মানের বিস্ফোরক আইইডির পরিবর্তে এই কৌশলের ব্যবহার বাড়াচ্ছে। কারণ উচ্চ মানের বিস্ফোরক ব্যবহার করলে নিরাপত্তা বাহিনীর অস্ত্রগুলো নষ্ট হয়ে যায় এবং সেগুলো ব্যবহার করা যায় না।

রিপোর্টে বলা হয়, গত বছর ২৪ এপ্রিল এ ধরনের কৌশলের ব্যবহার দেখা গেছে। ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলায় মাওবাদীরা সে সময় ভয়াবহ হামলা চালায়। ওই হামলায় ২৫ জন সিআরপিএফ সদস্য নিহত হয় এবং তাদের অস্ত্রশস্ত্রগুলো লুট করা হয়।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ‘র‍্যাম্বো অ্যারো’ ছাড়াও মাওবাদীরা ইম্প্রোভাইজড মর্টার এবং রকেট উদ্ভাবন করেছে।

এতে বলা হয়, রকেট যখন আঘাত করে তখন একটা বিস্ফোরণ হয় এবং প্রচণ্ড শব্দ হয়। এই রকেট থেকে বোঝা যায় মাওবাদীদের অস্ত্রগুলো কতটা ভয়ঙ্কর।

এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্পগুলোতে হামলার জন্য আরেক ধরনের রকেট ব্যবহার করছে মাওবাদীরা।

এলডাব্লিউই গ্রিড এলাকায় নিয়োজিত সেন্ট্রাল আধাসামরিক বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাথে যে রিপোর্ট বিনিময় করা হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্পে হামলার জন্য মাওবাদীরা সম্প্রতি মারাত্মক মারণাস্ত্র ইম্প্রোভাইজড রকেট ব্যবহার করছে। এই অস্ত্রগুলো মাওবাদীদের সক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়েছে।

২০১৫ সালের মে থেকে নিয়ে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছত্তিশগড়ের নারায়ণপুর বিজাপুর এবং কোন্দাগাঁও জেলায় যে সব হামলা হয়েছে, সেখানে এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

বিস্ফোরকগুলো যখন বিস্ফোরিত হয়, তখন বিস্ফোরিত লোহার রিংগুলোর কারণে মারাত্মক হতাহতের ঘটনা ঘটে। আর এতে যে সালফিউরিক অ্যাসিড ও সুগার ক্লোরেড ব্যবহার করা হয়, সে কারণে তাবুসহ ক্যাম্পের অন্যান্য জিনিসপত্র পুড়ে যায়।

রিপোর্টের উপসংহারে বলা হয়েছে যে, “নতুন ধারায় দেখা যাচ্ছে, নকশালরা আইইডি এবং নিক্ষেপযোগ্য রকেটের সুইচ ও মেকানিজমের ব্যাপারে তাদের টেকনিক্যাল দক্ষতা অনেক বাড়িয়েছে”।

সূত্রঃ https://timesofindia.indiatimes.com/india/naxalites-innovate-get-rambo-arrows-and-poop-laced-bombs/articleshow/64056733.cms

https://economictimes.indiatimes.com/news/politics-and-nation/naxalites-latest-arsenal-includes-rambo-arrows-and-poop-laced-bombs/inspired-by-rambo/slideshow/64060367.cms

https://www.telegraphindia.com/india/rambo-arrows-on-maoist-report-228628

http://www.thehindu.com/news/national/maoists-new-weapons-rambo-arrows-rocket-bombs-and-animal-excreta/article23795092.ece

 


কার্ল মার্কসের ২০০তম জন্মদিনে সিপিআই(মাওবাদী)’র পোস্টার

Maoists-posters

মহান কার্ল মার্কসের ২০০তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে গতকাল ৫মে সিপিআই(মাওবাদী) উড়িষ্যার মালকানগিরির বিভিন্ন স্থানে পোষ্টার লাগিয়েছে। এর মধ্যে দোরাগুদা-কুরমানুর সড়কের পাশে অবস্থিত গাছগুলির উপর বেশ কিছু পোষ্টার স্থাপন করা হয় এবং সিপিআই (মাওবাদী)-র কালিমলা এলাকা কমিটির নামে এসব পোস্টার প্রচারিত হয়। এসব পোষ্টারে মাওবাদীরা উল্লেখ করেন যে, সমাজে সমতা আনতে মার্কসের সমাজতন্ত্র দিকনির্দেশনা দেয় এবং তিনি সকলকে জনগণের অধিকারের জন্য লড়াইয়ে যোগদানের জন্য বলেছিলেন। মাওবাদীরা মার্কসের ২০০ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে জনগণকে এই আহবান জানায়।।

সূত্রঃ http://pragativadi.com/panic-grips-malkangiri-after-maoist-posters-resurface-on-karl-marxs-200th-birth-anniversary/


মার্কসবাদের তিনটি উৎস ও তিনটি অঙ্গ

Karl-Marx-jubilee-trier-germany-capitalism-economist-communism

সভ্য দুনিয়ার সর্বত্র বুর্জোয়া বিজ্ঞানের (সরকারী এবং উদারনৈতিক উভয় প্রকার) পক্ষ থেকে মার্কসের মতবাদের প্রতি চূড়ান্ত শত্রুতা ও আক্রোশ দেখা যায়; মার্কসবাদকে তা দেখে একধরনের ‘ক্ষতিকর গোষ্ঠী’ হিসেবে। অবশ্যই অন্য মনোভাব আশা করা বৃথা, কেননা শ্রেণিসংগ্রামের ওপর গড়ে ওঠা সমাজে ‘নিরপেক্ষ’ সমাজবিজ্ঞানের অস্তিত্ব অসম্ভব। সবরকমের সরকারী ও উদারনৈতিক বিজ্ঞানই কোনো না কোনো ভাবে মজুরি-দাসত্বের সমর্থন করে থাকে, আর সে মজুরি-দাসত্বের বিরুদ্ধে ক্ষমাহীন সংগ্রাম ঘোষণা  করেছে মার্কসবাদ। পুঁজির মুনাফা কমিয়ে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো উচিত নয় কি- এই প্রশ্নে মিল মালিকদের কাছ থেকে নিরপেক্ষতা আশা করা, আর মজুরি-দাসত্বের সমাজে বিজ্ঞানের কাছ থেকে নিরপেক্ষতা আশা করা সমান বাতুলতা।

… … মার্কসের সমগ্র প্রতিভাটাই এইখানে যে মানবসমাজের অগ্রণী ভাবনায় যেসব জিজ্ঞাসা আগেই দেখা দিয়েছিল তিনি তারই জবাব দিয়েছেন। তাঁর মতবাদের উদ্ভব হয়েছে দর্শন, অর্থশাস্ত্র এবং সমাজতন্ত্রের মহাচার্যেরা যে শিক্ষা দান করেছিলেন, তারই প্রত্যক্ষ ও অব্যবহিত অনুবর্তন হিসেবে।

মার্কসের মতবাদ সর্বশক্তিমান, কারণ তা সত্য। এ মতবাদ সুসম্পূর্ণ ও সুসমঞ্জস, এর কাছ থেকে লোকে একটা সামগ্রিক বিশ্বদৃষ্টি লাভ করে যা কোনোরকম কুসংস্কার, প্রতিক্রিয়া অথবা বুর্জোয়া জোয়ালের কোনো রূপ সমর্থনের সঙ্গে আপোস করে না। উনিশ শতকের জার্মান দর্শন, ইংরেজী অর্থশাস্ত্র এবং ফরাসী সমাজতন্ত্র রূপে মানবজাতির যা শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি তার ন্যায়সঙ্গত উত্তরাধিকারী হল মার্কসবাদ।

মার্কসবাদের এই তিনটি উৎস এবং সেই সঙ্গে তার তিনটি অঙ্গ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা যাক।

১. মার্কসবাদের দর্শন হল বস্তুবাদ। ইউরোপের সমগ্র আধুনিক ইতিহাস ধরে এবং বিশেষ করে অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে, ফ্রান্সে যখন সবরকমের মধ্যযুগীয় জঞ্জালের বিরুদ্ধে, প্রতিষ্ঠান ও ধ্যানধারণায় নিহিত ভূমিদাস প্রথার বিরুদ্ধে বদ্ধপরিকর সংগ্রাম জ্বলে উঠেছিল, তখন থেকে বস্তুবাদই দেখা দিয়েছে একমাত্র সঙ্গতিপরায়ন দর্শন হিসেবে, যা প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের সমস্ত শিক্ষায় বিশ্বস্ত এবং কুসংস্কার, ভণ্ডামি প্রভৃতির শত্রু। গণতন্ত্রের শত্রুরা তাই বস্তুবাদকে ‘খণ্ডন করার’ জন্য, তাকে ধূলিসাৎ ও ধিক্কৃত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছে এবং সমর্থন করেছে নানা ধরনের দার্শনিক ভাববাদ যা সর্বদাই পর্যবসিত হয় কোনো না কোনো ভাবে ধর্মের সংরক্ষণে অথবা সমর্থনে।

মার্কস ও এঙ্গেলস অতি দৃঢ়তার সঙ্গে দর্শনিক বস্তুবাদকে সমর্থন করেছেন এবং এই ভিত্তি থেকে যেকোনো বিচ্যুতিই যে কী দারুণ ভুল তা বারবার ব্যাখ্যা করে দেখিয়েছেন। তাঁদের মতামত সবচেয়ে পরিষ্কার করে এবং বিশদে ব্যক্ত হয়েছে এঙ্গেলসের ‘ল্যুডভিগ ফয়েরবাখ’ এবং ‘অ্যান্টি-ড্যুরিং’ রচনায়। ‘কমিউনিস্ট ইশতেহার’-এর মতো এ বইদু’খানিও প্রত্যেকটি সচেতন শ্রমিকের নিত্যপাঠ্য।

অষ্টাদশ শতাব্দীর বস্তুবাদেই কিন্তু মার্কস থেমে যাননি, দর্শনকে তিনি অগ্রসর করে গেছেন। এ দর্শনকে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন জার্মান চিরায়ত দর্শনের সম্পদ দিয়ে, বিশেষ করে হেগেলীয় তন্ত্র দিয়ে, যা আবার পৌঁছিয়েছে ফয়েরবাখের বস্তুবাদে। এই সব সম্পদের মধ্যে প্রধান হল দ্বান্দ্বিকতা অর্থাৎ বিকাশের পূর্ণতম, গভীরতম, একদেশদর্শিতাবর্জিত তত্ত্ব, যে মনুষ্যজ্ঞানে আমরা পাই নিরন্তর বিকাশমান পদার্থের প্রতিফলন তার আপেক্ষিকতার তত্ত্ব। জরাজীর্ণ ও পুরনো ভাববাদের ‘নব নব’ প্রত্যাবর্তনের সমস্ত বুর্জোয়া দার্শনিক শিক্ষা সত্ত্বেও- রেডিয়ম, ইলেকট্রন, মৌলিক পদার্থের রূপান্তর, প্রকৃতিবিজ্ঞানের আধুনিকতম আবিষ্কার- মার্কসের দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের চমৎকার প্রমাণ।

দার্শনিক বস্তবাদকে গভীরতর ও পরিবিকশিত করে মার্কস তাকে সম্পূর্ণতা দান করেন, প্রকৃতি বিষয়ক জ্ঞানকে প্রসারিত করেন মানবসমাজের জ্ঞানে। বৈজ্ঞানিক চিন্তার সর্বশ্রেষ্ঠ মহাকীর্তি হল মার্কসের ঐতিহাসিক বস্তুবাদ। ইতিহাস ও রাজনীতি বিষয়ক মতামতে যে বিশৃঙ্খলা ও খামখেয়ালের রাজত্ব এযাবৎ চলে আসছিল তার বদলে দেখা দিল এক আশ্চর্য রকমের সর্বাঙ্গীণ ও সুসমঞ্জস বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব, যা দেখাল কী করে উৎপাদন-শক্তিসমূহের বিকাশের ফলে আমাদের সমাজজীবনে একটি ব্যবস্থা থেকে উদ্ভব হয় উচ্চতর ব্যবস্থার- দৃষ্টান্তস্বরূপ, কী করে সামন্ততন্ত্র থেকে বিকশিত হয় পুঁজিবাদ।

মানুষের জ্ঞান যেমন মানুষের অস্তিত্ব-নিরপেক্ষ প্রাকৃতিক জগতের অর্থাৎ বিকাশমান পদার্থের প্রতিফলন, তেমনি সমাজের  অর্থনেতিক ব্যবস্থার প্রতিফলনই হল মানুষের সামাজিক জ্ঞান (অর্থাৎ দার্শনিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক ইত্যাদি বিভিন্ন মতামত ও তত্ত্ব)। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলি হল অর্থনৈতিক বনিয়াদের উপরিকাঠামো। দৃষ্টান্তস্বরূপ দেখা যাবে যে, আধুনিক ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলির রাজনৈতিক রূপ যত বিভিন্ন হোক, তার কাজ হল প্রলেতারিয়েতের ওপর বুর্জোয়া প্রভুত্ব সংহত করা।

মার্কসের দর্শন হল সুসম্পূর্ণ দার্শনিক বস্তুবাদ- তা থেকে মানবসমাজ এবং বিশেষ করে শ্রমিকশ্রেণি তার জ্ঞানাঞ্জন-শলাকা লাভ করেছে।

২. অর্থনৈতিক ব্যবস্থাই হল বনিয়াদ, তার ওপরেই রাজনৈতিক উপরিকাঠামো দণ্ডায়মান- একথা উপলব্ধির পর মার্কস তাঁর সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দেন এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অধ্যয়নে। মার্কসের প্রধান রচনা ‘পুঁজি’-তে আধুনিক, অর্থাৎ পুঁজিবাদী সমাজের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পর্যালোচিত হয়েছে। মার্কসের পূর্বেকার চিরায়ত অর্থশাস্ত্রের উদ্ভব হয়েছিল পুঁজিবাদী দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে বিকশিত দেশে- ইংলন্ডে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করে অ্যাডাম স্মিথ ও ডেভিড রিকার্ডো শ্রমের মূল্য-তত্ত্বের সূত্রপাত করেন। মার্কস তাঁদের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যান। তিনি এ তত্ত্বকে আমূলরূপে সুসিদ্ধ ও সুসঙ্গতরূপে বিকশিত করেন। তিনি দেখান যে, পণ্যের উৎপাদনে সামাজিকভাবে আবশ্যক যে শ্রমসময় ব্যয় হয়েছে, তা দিয়েই তার মূল্য নির্ধারিত হয়।

বুর্জোয়া অর্থনীতিবিদেরা যেখানে দেখছিলেন দ্রব্যের সঙ্গে দ্রব্যের সম্পর্ক (এক পণ্যের সঙ্গে অন্য পণ্যের বিনিময়), মার্কস সেখানে উদ্ঘাটিত করলেন মানুষে মানুষে সম্পর্কে। পণ্যবিনিময়ের মধ্যে যোগাযোগ। মুদ্রার অর্থ হল সে যোগসূত্র ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হচ্ছে, বিভিন্ন উৎপাদকদের গোটা অর্থনৈতিক জীবন অবিচ্ছিন্ন হয়ে সংযুক্ত হচ্ছে একটি অখ- সমগ্রতায়। পুঁজির অর্থ এই যোগসূত্রের আরো বিকাশ: মানুষের শ্রমশক্তি পরিণত হচ্ছে পণ্যে। জমি, কলকারখানা ও শ্রমের হাতিয়ারপাতির মালিকের কাছে মজুরি-শ্রমিক তার শ্রমশক্তি বিক্রি করে। শ্রমদিনের এক অংশ সে খাটে তার সপবিার ভরণপোষণের খরচা তোলার জন্য (মজুরি), বাকি অংশটা সে খাটে বিনামজুরিতে, সৃষ্টি করে পুঁজিপতির জন্য বাড়তি মূল্য, পুঁজিপতি শ্রেণির মুনাফার উৎস ও সম্পদের উৎস।

মার্কসের অর্থনৈতিক তত্ত্বের মূলকথা হল এই বাড়তি মূল্যের তত্ত্বটা। শ্রমিকের মেহনতে গড়া এই পুঁজি শ্রমিকদের পিষ্ট করে, ক্ষুদে মালিকদের ধ্বংস করে এবং সৃষ্টি করে বেকার বাহিনীর। শিল্পের ক্ষেত্রে বৃহদাকার উৎপাদনের জয়যাত্রা অবিলম্বেই চোখে পড়ে, কিন্তু কৃষির ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার দেখা যাবে: বৃহদাকার পুঁজিবাদী কৃষির প্রাধান্য বাড়ছে, যন্ত্রপাতির নিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে, কৃষকের অর্থনীতি এসে মুদ্রা পুঁজির ফাঁসে আটকে যাচ্ছে, তারপর নিজের পশ্চাৎপদ টেকনিকের বোঝায় ভেঙ্গে পড়ছে ও ধ্বংস পাচ্ছে। কৃষিতে ক্ষুদ্রাকার উৎপাদনের যে ভাঙ্গন তার রূপগুলো অন্যরকম, কিন্তু ভাঙনটা তর্কাতীত সত্য।

ক্ষুদ্রাকার উৎপাদনকে ধ্বংস করে পুঁজি শ্রম-উৎপাদনশীলতার বৃদ্ধি ঘটায় এবং বড় বড় পুঁজিপতিদের সঙ্ঘগুলির একচেটিয়া প্রতিষ্ঠা সৃষ্টি করে। উৎপাদনটাও উত্তরোত্তর সামাজিক হতে থাকে- লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটি মজুর বাঁধা পড়ে একটি প্রণালীবদ্ধ অর্থনৈতিক ব্যবস্থায়- অথচ যৌথ শ্রমের ফল আত্মাসাৎ করে মুষ্টিমেয় পুঁজিপতি। বৃদ্ধি পায় উৎপাদনের নৈরাজ্য, সংকট, বাজারের জন্য ক্ষিপ্ত প্রতিযোগিতা, এবং ব্যাপক জনসাধারণের জীবনধারণের অনিশ্চয়তা।

পুঁজির কাছে শ্রমিকদের পরাধীনতা বাড়িয়ে তুলে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা সম্মিলিত শ্রমের মহাশক্তি গড়ে তোলে।

পণ্য অর্থনীতির ভ্রƒণাবস্থা থেকে, সরল বিনিময় থেকে শুরু করে তার সর্বোচ্চ রূপ বৃহদাকার উৎপাদন পর্যন্ত মার্কস পুঁজিবাদের বিকাশ পর্যালোচনা করেছেন।

এবং নতুন পুরনো সবরকম পুঁজিবাদী দেশের অভিজ্ঞতায় মার্কসের এ মতবাদের সঠিকতা বছরের পর বছর বেশি বেশি মজুরের কাছে পরিষ্কার হয়ে উঠছে।

সারা দুনিয়ায় পুঁজিবাদের জয় হয়েছে, কিন্তু এ জয় শুধু পুঁজির ওপর শ্রমের বিজয়লাভের পূর্বাভাস।

৩. ভূমিদাস প্রথার পতনের পর ঈশ্বরের দুনিয়ায় ‘মুক্ত’ পুঁজিবাদী সমাজের আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গেই একথা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে, মেহনতী মানুষের ওপর পীড়ন ও শোষণের একটি নতুন ব্যবস্থাই হল এ মুক্তির অর্থ। সে পীড়নের প্রতিফলন ও প্রতিবাদ স্বরূপ নানাবিধ সমাজতান্ত্রিক মতবাদ অবিলম্বে দেখা দিতে শুরু করে। কিন্তু আদিম সমাজতন্ত্র ছিল ইউটোপীয় সমাজতন্ত্র। পুঁজিবাদী সমাজের তা সমালোচনা করেছে, নিন্দা করেছে, অভিশাপ দিয়েছে, স্বপ্ন দেখেছে তার বিলুপ্তির, উন্নততর এক ব্যবস্থার কল্পনায় মেতেছে, আর ধনীদের বোঝাতে চেয়েছে শোষণ নীতিবিগর্হিত কাজ।

কিন্তু সত্যিকারের উপায় দেখাতে ইউটোপীয় সমাজতন্ত্র পারেনি। পুঁজিবাদের আমলে মজুরি-দাসত্বের সারমর্ম কী তা সে বোঝাতে পারেনি, পুঁজিবাদের বিকাশের নিয়মগুলি কী তাও সে আবিষ্কার করতে পারেনি, খুঁজে পায়নি সেই সামাজিক শক্তি বা নতুন সমাজের নির্মাতা হবার ক্ষমতা ধরে।

ইতিমধ্যে সামন্ততন্ত্র, ভূমিদাসত্বের পতনের সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপের সর্বত্র এবং বিশেষ করে ফ্রান্সে যেসব উত্তাল বিপ্লব শুরু হয়ে গিয়েছিল, তা থেকে উত্তরোত্তর পরিষ্কার হয়ে ওঠে যে, শ্রেণীসমূহের সংগ্রামই হল সমস্ত বিকাশের ভিত্তি ও চালিকাশক্তি।

মরিয়া প্রতিবন্ধকতা ছাড়া ভূমিদাস-মালিক শ্রেণির ওপর রাজনৈতিক স্বাধীনতার একটি বিজয়লাভও সম্ভব হয়নি। পুঁজিবাদী সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে মরণপণ সংগ্রাম বিনা কোনো পুঁজিবাদী দেশই ন্যূনাধিক মুক্ত ও গণতান্ত্রিক ভিত্তিতে গড়ে ওঠেনি।

মার্কসের প্রতিভা এইখানে যে এ থেকে তিনি সেই সিদ্ধান্তে উপনীত হন ও তাকে সুসঙ্গতরূপে বিকশিত করেন, যা পাওয়া যায় বিশ্বইতিহাসের শিক্ষা থেকে। সে সিদ্ধান্ত হর শ্রেণিসংগ্রামের মতবাদ।

যেকোনো নৈতিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক বচন, ঘোষণা ও প্রতিশ্রুতির পেছনে কোনো না কোনো শ্রেণির স্বার্থ আবিষ্কার করতে না শেখা পর্যন্ত লোকে রাজনীতির ক্ষেত্রে চিরকাল প্রতারণা ও আত্মপ্রতারণার নির্বোধ বলি হয়ে ছিল এবং চিরকাল তাই থাকবে। পুরনো ব্যবস্থার রক্ষকদের কাছে সংস্কার ও উন্নয়নের প্রবক্তারা সর্বদাই বোকা বনবে যদি তারা একথা না বোঝে যে, যত অসভ্য ও জরাজীর্ণ মনে হোক না কেন, প্রত্যেকটি পুরনো প্রতিষ্ঠানই টিকে আছে কোনো না কোনো শাসক শ্রেণির শক্তির জোরে। এবং এই সবশ্রেণির প্রতিরোধ চূর্ণ করার শুধু একটি উপায় আছে: যে শক্তি পুরনোর উচ্ছেদ ও নতুনকে সৃষ্টি করতে পারে- এবং নিজের সামাজিক অবস্থানহেতু যা তাকে করতেই হবে- তেমন সব শক্তিকে আমাদের চারপাশের সমাজের মধ্যে থেকেই আবিষ্কার করে তাকে দীক্ষিত ও সংগ্রামের জন্য সংগঠিত করে তোলে।

 যে মানসিক দাসত্বের মধ্যে নিপীড়িত শ্রেণিগুলির সকলে এতদিন বাঁধা পড়ে ছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসার পথ প্রলেতারিয়েত পেয়েছে একমাত্র মার্কেসের দার্শনিক বস্তুবাদ থেকে। একমাত্র মার্কসের অর্থনৈতিক তত্ত্বেই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে সাধারণ পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মধ্যে প্রলেতারিয়েতের সত্যিকার অবস্থাটা কী।… … …

সূত্রঃ আন্দোলন পত্রিকা, কার্ল মার্কসের জন্মদ্বিশতবর্ষ সংখ্যা

 


ছত্তিশগড়ে মাওবাদী হামলায় নিহত ২ পুলিশ, আহত কয়েকজন

naxal_030511

ছত্তিশগড়ের গরিয়াবাধে মাওবাদীদের হামলায় নিহত হয়েছে দুই জওয়ান। ঘটনাটি ঘটেছে গরিয়াবাঁধের আলমোরা পাহাড় এলাকায়।
timesofindia.indiatimes.com জানাচ্ছে, আজ দুপুর ২.২৫ এর দিকে মাওবাদী দমনে অভিযানে নেমেছিল সিআরপিএফ ৬৫ ব্যাটেলিয়ন ও ছত্তিসগড়ের জওয়ানদের একটি দল। হঠাৎই তাদের উপর ব্যাপক IED হামলা চালায় মাওবাদীরা। এতে নিহত হয় দুই জওয়ান। এই ঘটনায় কয়েকজন জওয়ান আহত হয়েছেন। তাঁদের ধাওয়ালপুল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।