পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি(লাল পতাকা) নেতার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

chuadanga_map_bangladesh

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (লাল পতাকা) আঞ্চলিক নেতা জুয়েল রানা ওরফে সুজাউদ্দিন ওরফে জয়বাবুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) বিকালে চুয়াডাঙ্গার স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৩ আদালতের বিচারক মো. রোকনুজ্জামান আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় দেন।

জুয়েল রানা চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দলকালক্ষীপুর গ্রামের ইসরাইল হোসেনের ছেলে।

অ্যাডভোকেট বেলাল হোসেন জানান, ২০০৯ সালের ৭ নভেম্বর রাতে জেলার সদর উপজেলার আলোকদিয়া বাসস্ট্যান্ডের যাত্রী ছাউনির পেছন থেকে একটি সাটারগানসহ ধরা পড়ে জয়বাবু। এরপর সদর থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইলিয়াস হোসেন জুয়েল রানাকে আসামি করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করেন।

সূত্রঃ http://bdnews24.com/samagrabangladesh/detail/samagrabangladesh/1325612


মাওবাদীদের অত্যাধুনিক অস্ত্র সম্ভারে বিস্মিত CRPF বাহিনী

40_mm_under_barrel_grenade_launcher_3

সুকমায় মাওবাদী হামলায় ২৬ জন জওয়ানের নিহতের ৪৮ ঘন্টা পরও বিস্ময়ের ঘোর কাটছে না প্রশাসনের ৷ ছক কষে , অতর্কিতে যে ভাবে এই গেরিলা হামলা চালানো হয়েছে , তাতে হতবাক বাহিনীর কর্তারা ৷ তবে , তার থেকেও বেশি হতবাক এই হামলায় ব্যবহৃত অত্যাধুনিক অস্ত্র -শস্ত্র দেখে ! হামলার তদন্ত করে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন , এই প্রথম আইইডি সম্বলিত তীর ব্যবহার করেছে মাওবাদীরা৷ যেমনটা এর আগে কখনও দেখা যায়নি ৷

এছাড়াও , হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে আন্ডার ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার (ইউবিজিএল )৷ যা দিয়ে সিআরপিএফের ৭৪ নম্বর ব্যাটেলিয়নের জওয়ানদের দিকে কমপক্ষে ২০০ টি গ্রেনেড ছুড়েছে তারা ৷ গ্রেনেড গুলি সবই ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এবং যথেষ্ট ক্ষমতাশালী ৷ কয়েকটি গ্রেনেডের অবশিষ্ট পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে , টার্গেট ৯ মিটার (৩০ ফুট ) রেঞ্জের মধ্যে থাকলে , তাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার ক্ষমতা এই গ্রেনেডের রয়েছে ৷ কিন্তু , কী ভাবে বস্তার অঞ্চলের মাওবাদীরা এমন অত্যাধুনিক অস্ত্র হাতে পেল , তা ভেবে পাচ্ছেন না সিআরপিএফ কর্তারা ৷ সিআরপিএফের ডিআইজি ডিপি উপাধ্যায় টেলিফোনে জানিয়েছেন , ‘এই প্রথম আমরা দেখতে পেলাম , মাওবাদীরা আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস ) লাগানো তির ব্যবহার করেছে ৷ এই কৌশল একেবারে নতুন ৷ এই উচ্চ মাত্রার বিস্ফোরক লাগানো তির যেখানে আঘাত হানবে, সেই জায়গার পাশাপাশি আশপাশের এলাকাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে৷ ফলে সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে ৷ ’ সিআরপিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে , তদন্তে নেমে আধা সামরিক বাহিনীর কর্তারা জানতে পেরেছেন , হামলায় কমপক্ষে ১২০টি আইইডি লাগানো তির ব্যবহার করা হয়েছে ৷ ওই তির যে জওয়ানের গায়ে লেগেছে তাঁর পাশাপাশি পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই চালানো জওয়ানও মারাত্মক ভাবে আহত হয়েছেন ৷ পাশাপাশি আন্ডার ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার (ইউবিজিএল ) ব্যবহার করেও আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানদের চমকে দিয়েছে মাওবাদীরা ৷ বাহিনী কর্তার কথায়, ‘এটি অত্যাধুনিক অস্ত্র ৷ বিশেষ প্রশিক্ষণ ছাড়া এটা ব্যবহার করা সম্ভব নয় ৷ যা একমাত্র সেনা বা আধা সেনাদের থাকে ৷ মাওবাদীরা কী করে এই প্রশিক্ষণ পেল , সেটাই ভাবার ৷ ’ সিআরপিএফ কর্তারা মনে করছেন , গত মাসে সুকমায় বাহিনীর জওয়ানদের ওপর হামলা চালিয়ে যে গ্রেনেড লঞ্চারগুলি লুঠ করেছিল মাওবাদীরা , সেগুলি দিয়েই এই হামলা চালানো হয়েছে৷

এই হামলায় সশস্ত্র মাওবাদীদের দলে অন্তত প্রায় ২০০ জন মহিলা ছিল বলে জানা গিয়েছে ৷ এমন হামলায় এত বেশি সংখ্যায় মহিলা এর আগে কখনও দেখা যায়নি ৷ সূত্রের খবর , সোমবার দুপুরে খাওয়ার সময়, মাথায় কাঠের বোঝা নিয়ে একের পর এক মহিলাকে সেখানে আসতে দেখেন জওয়ানরা ৷ ভাবেন , স্থানীয় মহিলারা বোধহয় কাঠ কুড়োতে এসেছেন জঙ্গলে ৷ কিন্ত্ত , চোখের পলক ফেরার আগেই , ওই কাঠের বোঝা থেকে একে -৪৭ বের করে গুলি চালাতে শুরু করে তারা ৷ ভুল ভাঙার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন অধিকাংশ জওয়ান ৷ সিআরপিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে , সুকমার জঙ্গলে হামলা চালানোর পর ১৩টি একে -৪৭ , ৫টি ইনসাস রাইফেল , ২২টি পিস্তল , ৩৪২০টি তাজা কার্তুজ , একে -৪৭ রাইফেলের ৭৫টি গুলি ভর্তি ম্যাগাজিন , ২২টি বুলেট প্রুফ জ্যাকেট , দুটি শক্তিশালী দূরবীন , ৫টি ওয়ারলেস সেট এবং একটি মেটাল ডিটেক্টর লুঠ করে পালিয়ে যায় মাওবাদীরা ৷

সূত্রঃ http://eisamay.indiatimes.com/nation/crpf-is-stunned-by-the-arms-maoists-are-using/articleshow/58396298.cms


আদিবাসী মহিলাদের উপর যৌন অত্যাচারের বদলা নিতেই সুকমা হামলা, দাবি মাওবাদীদের

untitled-13_100063

আদিবাসী মহিলাদের উপর নিরাপত্তা বাহিনীর যৌন অত্যাচারের বদলা নিতেই সুকমায় CRPF এর উপর হামলা চালিয়েছে মাওবাদীরা। দ্য হিন্দুকে পাঠানো এক বার্তায় এমনটাই  দাবি করেছে CPI( মাওবাদী) পার্টির দণ্ডকারণ্য জোনাল কমিটির মুখপাত্র ‘বিকল্প’। শুধু সুকমায় ২৬ জন CRPF জওয়ান নিহত হওয়ার ঘটনাই নয়, এর আগে মার্চেও ১২জন CRPF জওয়ান হত্যার কারণ হিসাবেও আদিবাসী মহিলা ও কিশোরীদের উপর নিরাপত্তা বাহিনীর যৌন অত্যাচারের কারণকে দায়ী করেছে মাওবাদীরা। সুকমায় নিহত জওয়ানদের গোপনাঙ্গ  মাওবাদীরা বিকৃত করেছে বলে যে খবর প্রকাশ হয়েছে তা অস্বীকার করেছেন ওই মাওবাদী মুখপাত্র।  জওয়ানদের তারা শত্রু  বলে মনে করেন না বলে জানিয়েছে মাওবাদীরা। সরকার ও বড় পুঁজির হয়ে লড়াই না করার জন্য জওয়ানদের কাছে আবেদন করেছে মাওবাদীরা।  যদিও অন্তত ১৬ জন মহিলাকে নিরাপত্তা বাহিনী যে ধর্ষণ করেছে তা মনে করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।  আদিবাসী মহিলাদের স্তন টিপে দুধ আছে কিনা তাও দেখার  অভিযোগ উঠেছে নিরাপত্তা বাহিনীর উপর। (স্তনে  দুধ থাকলে ধরে নেওয়া হবে তাঁর বাচ্চা আছে সে মাওবাদী নয়!) ছত্তিশগড়ে দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের অত্যাচার চলছে বলে অভিযোগ করেছে একাধিক মানবাধিকার সংগঠনও। ফলে মাওবাদীদের এই অভিযোগ নতুন নয় বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। যদিও ছত্তিশগড় পুলিসের তরফে  নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে করা মাওবাদীদের সব অভিযোগই অস্বীকার করা হয়েছে।

সূত্রঃ satdin.in

 


কলকাতাঃ যথাযথ মর্যাদার সা‌থে কমরেড নারায়ণ সান্যালের স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

‘নারায়ণ সান্যাল’ স্মরণ কমিটির উদ্যোগে আজ ২৭শে এপ্রিল ২০১৭ তারিখে, ভারত সভা হলে, ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের বিপ্লবী ধারার অক্লান্ত যোদ্ধা, মাওবাদী নেতা কমরেড নারায়ণ সান্যাল ওরফে বিজয়’দার স্মরণসভা যথাযথ মর্যাদার সা‌থে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার শুরু‌তে কম‌রেড বিজয়দার প্রতিকৃ‌তি‌তে মাল্যদান ক‌রেন জেল থে‌কে মু‌ক্তি পাওয়া সি‌পিআই(মাওবাদী) পা‌র্টির নেতা কম‌রেড পূ‌র্ণেন্দু ‌শেখর মুখার্জী (সা‌হেবদা), বিপ্লবী সাংস্কৃ‌তিক কর্মী তথা মাওবাদী তা‌ত্ত্বিক কম‌রেড ভারভারা রাও (ভি‌ভি), কম‌রেড গৌর চক্রবর্তী, কম‌রেড তিলক দাশগুপ্ত, কম‌রেড দর্শন পাল, ডাক্তার বিনায়ক সেন, সি‌পিআই(এম-এল) লিবা‌রেশন, সি‌পিআই(এম-এল) নিউ ডে‌মোক্র্যাসী সহ বি‌ভিন্ন সংগ্রামী বাম দ‌লের নেতৃত্ব এবং কম‌রেড বিজয়দার সাথী রাজ‌নৈ‌তিক ও গণআন্দোল‌নের কর্মীরা। কম‌রেডস পূ‌র্ণেন্দু‌শেখর মুখার্জী, তিলক দাশগুপ্ত, গৌর চক্রবর্তী, ভারভারা রাও ‘‌কে নি‌য়ে গ‌ঠিত সভাপ‌তিমণ্ডলী সভার কাজ প‌রিচালনা ক‌রেন।  বক্তব্য রা‌খেন কম‌রেড ভারভারা রাও, কম‌রেড তিলক দাশগুপ্ত, কম‌রেড দর্শনলাল, কম‌রেড সুশীল ঠাকুর, কম‌রেড পার্থসারথী রায়, কম‌রেড পূ‌র্ণেন্দু‌ শেখর মুখা‌র্জি, কম‌রেড গৌর চক্রবর্তী, কম‌রেড কার্তিক পাল, কম‌রেড সুশান্ত ঝা প্রমুখ, গণসঙ্গীত প‌রি‌বেশন ক‌রেন কম‌রেড নী‌তিশ রায় ও অন্যান্য কম‌রেডরা। বক্তারা কম‌রেড বিজয়দার কমিউনিস্ট সুলভ সরল জীবনযাত্রা, নকশালবা‌ড়ির ধারাবা‌হিকতায় বিহা‌রে সংগ্রাম গ‌ড়ে তোলায় তাঁর ভূ‌মিকা, জোতদার‌দের বা‌হিনী কুখ্যাত রণবীর সেনা, সানলাইট সেনাদের বিরু‌দ্ধে প্রতি‌রোধ গ‌ড়ে তোলার ক্ষে‌ত্রে তাঁর সু‌যোগ্য নেতৃত্বদা‌নের কথা, ঐক্যবদ্ধ সি‌পিআই(মাওবাদী) পা‌র্টি তৈ‌রি‌তে তাঁর ভূ‌মিকার কথা তু‌লে ধ‌রেন। কম‌রেড বিজয়দার স্বপ্ন‌কে বাস্তবা‌য়িত কর‌তে ভার‌তের চলমান বিপ্লবী আন্দোলন‌কে এগি‌য়ে নি‌য়ে যাওয়ার শপথ নি‌য়ে, সর্বহারার লড়াই‌য়ের ‘আন্তর্জা‌তিক’ (‘ইন্টারন্যাশনাল’) সঙ্গীত গে‌য়ে সভা শেষ হয়।


ছত্তিশগড়ে মাওবাদী হামলাঃ হামলাকারীদের মধ্যে ৭০% নারী গেরিলা ছিল

গত সোমবার ছত্তিশগড়ের দক্ষিণ বাস্তার জেলার কালাপথে মাওবাদীদের সাথে বন্দুকযুদ্ধে আহত একজন সিআরপিএফ সৈনিক বলেছে যে, হামলাকারীদের মধ্যে ৭০% ভাগই মাওবাদী নারী গেরিলা ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সৈনিক বলেন যে, ঐ সময় মাওবাদীদের মধ্যে পুরুষের তুলনায় নারীদের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল, যারা AK-47 নিয়ে সিআরপিএফ সৈন্যদের আক্রমণ করেছিল।

আরেকজন সৈনিক বলেন যে, সৈনিকদের হত্যা করার পর নারীরা অস্ত্র লুট করে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

উল্লেখ্য যে, ২৪শে এপ্রিল ছত্তিশগড়ের দক্ষিণ বাস্তার জেলার কালাপথের এলাকায় মাওবাদীদের সঙ্গে প্রচণ্ড এক লড়াইয়ের সময় ২৬ জন সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হয়।

সূত্রঃ http://m.dailyhunt.in/news/india/english/oneindia-epaper-oneindia/chhattisgarh+maoists+attack+70+attackers+were+women-newsid-66871565?ss=fb&s=a


মায়ের কাছে লেখা কমরেড কিষেনজির চিঠি(ইংরেজি থেকে অনুবাদ)

কমরেড কিষেনজি ও তার মা মধুরাম্মা

মা

ভাল আছ ?

রাষ্ট্রীয় দমন ও নিরাপত্তা বাহিনীর কম্বিং অপারেশনের মধ্যেও জনগণ বনভূমির ভাই বোনদের রক্ষা করছে। সরকারের দমনমুলক ব্যবস্থা বাড়ছে, জনগণের আন্দোলনেরও ঘটছে ক্রম অগ্রগতি । এখানে সব কিছুই সুন্দর। তুমি নিশ্চয়ই হায়দারাবাদে ছাত্রদের লক্ষ্য করেছ। ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, কাকাতিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আন্দোলন, দশকব্যাপী যুবকদের আত্মত্যাগ এমনকি আত্মহত্যা সত্বেও তেলেঙ্গানা ঘোষনা করা হয়নি। আমরা একটি আলাদা তেলেঙ্গানার জন্য সমর্থন দিয়েছিলাম। এর চেয়েও বেশি একটি গণতান্ত্রিক তেলেঙ্গানা, গণতান্ত্রিক দন্ডকারন্য, গণতান্ত্রিক লালগড়। এমনকি একটা আলাদা গুর্খাল্যান্ডের জন্যও আমরা লড়াই করছি। একটি আলাদা রাজ্যের আকাঙ্ক্ষা যতক্ষন না বাস্তবায়ন হয়, সংগ্রাম চলবে। তেলেঙ্গানা ইস্যুতে সব রাজনৈতিক দলগুলো কুট কৌশল খেলছে।কিন্তু শুরু থেকেই আমরা একটি আলাদা তেলেঙ্গানার জন্য দাবি তুলেছি, লড়াই করেছি – একটি গণতান্ত্রিক তেলেঙ্গানার জন্য। এই ইস্যুকে ডাইভার্ট করার জন্য কংগ্রেস পার্টি অন্তঃকোন্দল শুরু করে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রি রোজাইয়ার নেতৃত্বে রাজ্যে বিনামুল্যে চাল বিতরন শুরু হয়। কিন্তু এসবের কোন কিছুই আলাদা তেলেঙ্গানার জন্য মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে দমাতে পারেনি। এই ইস্যুর মোড় ঘুরানোর জন্য তারা সবাই মিলে হাংগামা শুরু করে, মুসলিমদের জন্য চার শতাংশ আসন সংরক্ষনের দাবি জানায়। নিজেদের বাচানোর জন্য কংগ্রেস, বিজেপি, আর ডি পি একই নৌকায় উঠে পড়ে।

এ সময়ে প্রধান মন্ত্রী মনমোহন সিং, পুলিশ মন্ত্রী চিদাম্বরাম ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও কাকাতিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সহিংস আন্দোলনের মুখে আলাদা তেলেঙ্গানার প্রতি ইতিবাচিক সাড়া দেন। কিন্তু কথা রাখার কোন প্রচেষ্টাই তারা নেয়নি। আমরা আমাদের অধিকারের জন্য যে সংগ্রাম তারই অংশ হিসেবে তেলেঙ্গানাকে সমর্থন করি। সরকার আমাদের সমর্থন দেখে আন্দোলনকে বিনাশ করতে চায়। লালগড়ের মতোই ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত শক্তি মোতায়েন করে। জনগণ জানে মাওবাদীদের সমর্থন কি ? শাসকদের হিংস্র থাবা থেকে জনগনের ইতিহাস, মুসলিম, হিন্দু, আদিবাসী, দলিত সর্বোপরি হায়দারাবাদকে রক্ষাকরা আন্দোলনের পবিত্র দায়িত্ব। গণতান্ত্রিক তেলেঙ্গানা ও একটি ফেডারেল ইন্ডিয়ার জন্য সংগ্রামই মাওবাদীদের লক্ষ্য।

রাষ্ট্র আমাদের উপর যুদ্ধ ঘোষনা করেছে। দলিতদের হাতে জমি, আদিবাসীদের হাতে জমির দাবীতে আন্দোলনের ক্রমঅগ্রগতি ঘটছে। মনমোহন সিং, নবিন পট্টনায়ক ও চিদাম্বরাম ওড়িশ্যা, ছত্তিসগড় ও ঝাড়খন্ডের হাজার হাজার একর জমি টাটা, জিন্দাল ও পসকোকে বরাদ্দ দিয়েছে। যখন চল্লিশ হাজার একর জমি বহুজাতিক কোম্পানিকে দিয়ে দেয়া হয়, জনগন বহুবিধ সংগ্রামে নেমে পড়ে এমনকি ভুমির জন্য নিজেদের রক্ত ঝরাতে বাধ্য হয়। আমরা সেই জনগনের সাথে। তুমি নিশ্চয় অবগত আছ, আমাদের নেতৃত্বে আদিবাসীদের অধিকার রক্ষায় জনযুদ্ধ এগিয়ে যাচ্ছে।

মা !
তোমার মতো আরো লাখ লাখ মায়ের জন্য, আদিবাসী এলাকায় বিরাজমান বঞ্চনা ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করছি। সমতলে আমাদের প্রাকৃতিক বেগুন অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে, বিটি বেগুন তার স্থান দখল করে নিচ্ছে। যখন আমরা এর বিরোধিতা করলাম, আমাদের বিরুদ্ধে গ্রীনহাণ্ট অপারেশন শুরু করা হল। সরকার মিডিয়াকে বুঝাচ্ছে, মার্চ ২৫-২৬ এ আমি অন্য আরো কমরেডদের সাথে এনকাঊন্টারে নিহত হয়েছি। আমি, আমার কমরেডরা নিরাপদে আছি। জনগন আমাদের রক্ষা করছে, চোখে চোখে রাখছে।

মা !
কেদোনা।
কেবল তুমি একা নও।ওহ ! ভারতের কোটি কোটি মা !

আমরা নিরাপদে আছি, ভাল আছি। তোমার সব সন্তানরা আজ এক মহাযুদ্ধে। যদি আমরা এই যুদ্ধে জয়ী হই, এক মহা সুর্যোদয় হবে – শান্ত বাতাস, কোন প্রকার দমন নির্যাতন ব্যতীত এক অভাবনীয় নতুন পরিবেশ। সম্প্রতি অরুন্ধতী রায় ছত্তিসগড়ের দণ্ডকারণ্য ঘুরে গেছেন, বনভুমির তোমার অনেক সন্তানদের সাথে দেখা করেছেন এবং তাদের নিয়ে লিখেছেন যাতে বাইরের পৃথিবী তাদের ব্যাপারে জানতে পারে। মা, তুমি যদি আমাদের লক্ষ্য সম্পর্কে জানতে চাও, ওটা পড়তে পার।

মা !

আমি আছি।
লাল সালাম, লাল সালাম।
আমি আছি।যখনই সুযোগ পাই, তোমাকে লিখব।

তোমার
কোটি। ভেনু, ময়না, রাজ রেড্ডি ও হাজারো সন্তানের পক্ষে।

মূল সূত্রঃ https://asongfornextday.wordpress.com/2016/11/24/a-letter-from-comrade-kishenji-to-his-mother/

বাংলায় অনুবাদঃ সাইফুদ্দিন সোহেল

 


সুকুমায় মাওবাদী হামলাঃ CRPF আধিকারিকদের বক্তব্য

দুপুরে খাওয়ার জন্য সাময়িক বিরতি। ঠিক সেই সময়েই মাওবাদীদের গুলিবৃষ্টিতে একে একে লুটিয়ে পড়লেন সুকমায় টহলরত সিআরপিএফ জওয়ানরা। এমনটাই জানা যাচ্ছে তদন্তে।

মঙ্গলবার সিআরপিএফ-এর এক আধিকারিক জানান, সুকমা জেলার বুরকাপাল ও চিতাগুফা সংযোগকারী প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের সময় নিরাপত্তা প্রদান করাই দায়িত্ব ছিল সিআরপিএফ-এর ওপর। এর জন্য মোতায়েন করা হয়েছিল প্রায় ১০০ জন বা এক কোম্পানি জওয়ান।

সোমবার সুকমার বুরকাপাল অঞ্চলে সদ্য নির্মিত সাড়ে পাঁচ কিমি দীর্ঘ সড়কে নিরাপত্তা দিতে টহল দিতে বেরিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর ৩৬ জন জওয়ান। এমন সময়ে প্রায় ৩০০ মাওবাদী জওয়ানদের চারদিক থেকে ঘিরে অতর্কিত হামলা চালায়। খাবারের সময় হওয়ায় হামলায় একেবারে অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন জওয়ানরা। মাওবাদীদের কাছে অত্যাধুনিক অস্ত্র ছিল, যার ফলে জওয়ানদের বাঁচার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়ে। ঘটনায় নিহত হয় ২৬ জন জওয়ান।

বাহিনীর ঐ আধিকারিক জানান, জওয়ানদের কাছে থাকা বিপুল পরিমাণ আধুনিক অস্ত্র লুঠ করে নিয়ে যায় মাওবাদীরা। এ সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জিম্মায় থাকা ১৩টি একে সিরিজের অ্যাসল্ট রাইফেল, ৫টি ইনস্যাস রাইফেল, ৩৪২০ রাউন্ড গুলি, একে রাইফেলের ৭৫টি ম্যাগাজিন, ইনস্যাস রাইফেলের ৩১টি ম্যাগাজিন, ৬৭টি তাজা ইউজিবিএল কার্তুজ, ২২টি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, ২টি বাইনোকুলার, ৫টি ওয়্যারলেস সেট এবং একটি ডিপ সার্চ মেটাল ডিটেক্টর লুঠ করে মাওবাদীরা।

ওই আধিকারিক জানান, প্রথমে মাওবাদীরা লঞ্চার দিয়ে মুহূর্মুহূ গ্রেনেড ছুড়ে জওয়ানদের বিভ্রান্ত করে দেয়। তারপর, লুকিয়ে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে ঝাঁঝরা করে দেয়। বাহিনীর অনুমান, ওই গ্রেনেড তারা এই সুকমাতেই গত ১১ মার্চের হামলা থেকে লুঠ করেছিল। সেই হামলায় ১২ জন জওয়ান নিহত হয়েছিলেন।

তবে মাওবাদী আক্রমণের সময় নিয়ে বাহিনীর মধ্যেই দেখা দিয়েছে মতান্তর। কেউ বলছেন, জওয়ানরা খাওয়া সারার পরমুহূর্তেই গুলি চালায় মাওবাদীরা। আবার কয়েকজন সেনা আধিকারিক জানিয়েছেন, বেলা ১২-৩০র সময় মাওবাদীরা আক্রমণ হানার সময় কয়েকজন জওয়ান খাওয়া শেষ করতে পারেননি। সিআরপিএফ সূত্রে খবর, ঘটনায় অত্যাধুনিক আন্ডার-ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার ব্যবহার করে মাওবাদীরা। মনে করা হচ্ছে, গত ১১ মার্চ সুকমায় ১১ জন জওয়ানকে হত্যার পরে তাঁদের হেফাজত থেকেই অস্ত্র লুঠ করেছিল মাওবাদীরা। তবে সোমবারের হানায় বহু প্রচলিত আইইডি বিস্ফোরকের বদলে গুলি ও গ্রেনেডের আঘাতেই নিহত হয় ২৬ জন সিআরপিএফ জওয়ান।

বাহিনীর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘আমাদের বাহিনীর কাছাকাছি বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী ঘোরাঘুরি করছিলেন। তাঁদের কয়েকজনকে মানব-ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মাওবাদীরা।’ গ্রামবাসীদের সাহায্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রতিটি পদক্ষেপ খুঁটিয়ে নজর রাখছিল মাওবাদীরা, মনে করছেন তদন্তকারী অফিসাররা। সুকমার যে অঞ্চলে এই ঘটনা ঘটে, তা মাওবাদীদের দক্ষিণ বস্তার বিভাগীয় কমিটির শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত যার নেতৃত্বে রয়েছে মাওবাদী কম্যান্ডার রঘু। এলাকাটি মাওবাদী জগরগুন্ডা এরিয়া কমিটির অধীনে রয়েছে, যার সর্বময় মাওনেতা পাপা রাও। সিআরপিএফ কর্তাদের দাবি, সোমবারের হানায় নেতৃত্ব দিয়েছে মাওবাদী পিএলজিএ বাহিনী, যার সর্বেসর্বা মাও কম্যান্ডার নেতা হিদমা।

সূত্রঃ http://eisamay.indiatimes.com/nation/sukma-attack-crpf-jawans-were-having-lunch-when-maoists-ambushed-them/articleshow/58363510.cms