ফিলিপাইন সরকার ও মাওবাদীদের অস্ত্রবিরতি চুক্তি

e23aac650d4cd8d5b65a1674463e0cad-57c1673fc345c

শান্তি আলোচনার পথ সুগম করতে ফিলিপাইন সরকার ও মাওবাদীদের মধ্যে একটি অনির্দিষ্টকালীন অস্ত্রবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। শুক্রবার নরওয়েতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। নরওয়েই মূলত এ চুক্তির ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে কাজ করেছে।
উল্লেখ্য, অনির্দিষ্টকালীন অস্ত্র্র বিরতি চুক্তিতে উপনীত হতে সোমবার থেকে অসলোতে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। শুক্রবার চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আপাতত আলোচনার সমাপ্তি হয়েছে। আগামী ৮-১২ অক্টোবর আবারও দুই পক্ষের আলোচনায় বসার কথা রয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তের শান্তিবিষয়ক উপদেষ্টা জেসুস দুরেজা বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন ঘটনা।’ প্রেসিডেন্ট দুয়ার্তে নিজেও এ চুক্তির প্রশংসা করেছেন বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শান্তি প্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে এবং ছয় মাসের মধ্যে অর্থনেতিক ও সামাজিক সংস্কার নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে কাজ করার জন্য দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে।’
কমিউনিস্ট পার্টি অব ফিলিপাইন ১৯৬৮ সালে ফিলিপাইন সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। সরকারি হিসেবে মতে, এ পর্যন্ত দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৩০ হাজার লোকের প্রাণহানি হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা


খনি প্রযুক্তি ব্যবহার করে আঘাত হানছে মাওবাদীরা

মাওবাদী গেরিলা

মাওবাদী গেরিলা

রাঁচি খনিতে বিস্ফোরণ ঘটানোর পদ্ধতি প্রয়োগ করে হামলা চালাচ্ছে ভারতে মাওবাদীরা। জঙ্গলের পথে পায়ে হেঁটে সন্তর্পণে এগিয়ে আসা যৌথ বাহিনীর একটা বড় অংশকে এক ধাক্কায় উড়িয়ে দিতে বহুলপ্রচলিত বৈদ্যুতিক তারের বদলে ‘কোডেক্স তার’ ব্যবহার করে আঘাত হানার কৌশল ক্রমশ বাড়ছে। ঝাড়খন্ডের লাতেহারে যৌথ বাহিনীর সদ্য শেষ হওয়া অভিযানের শেষে মাওবাদীদের নাশকতার এই নয়া কৌশল টের পেয়েছে পুলিশ।

লাতেহারে সিপিআই (মাওবাদী)-র কোয়েল-শক্মখ জোনের সদর দফতর সরযূ গ্রামের আশপাশে অভিযান চালিয়ে এবার ৪০০০-৪৫০০ মিটার লম্বা কোডেক্স তার উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। গারু থানা এলাকায় চাঁচো গ্রামে অভিযান চালিয়ে এ যাত্রা লুকানো এই তারের হদিস আগে পেয়ে যাওয়ায় অল্পের জন্য বড়সড় হামলার হাত থেকে রেহাই পান নিরাপত্তাকর্মীরা। কিন্তু মাস চারেক আগে লোহারদাগায় ধরধরিয়া জলপ্রপাতের কাছে অভিযান চালিয়ে ফেরার সময়ে একই পদ্ধতিতে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ১০ জন সিআরপি জওয়ান ও এক অফিসারকে হত্যা করে মাওবাদীরা।

খনিতে বিস্ফোরণের এই কৌশল মাওবাদীরা খাটাতে শুরু করায় রীতিমতো উদ্বিগ্ন পুলিশ। ঝাড়খন্ডে খনির ছড়াছড়ির দরুন খনিতে ব্যবহৃত কোডেক্স তার মাওবাদীদের হাতে চলে আসার বিষয়টি পুলিশকর্তারাও স্বীকার করছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই পদ্ধতিতে বিস্ফোরণের ছক এখনও বন্ধ করা যাচ্ছে না। সিআরপি’র ডিআইজি (রাঁচি) বিজেন্দ্রকুমার শর্মা বলেন, ‘‘একসঙ্গে পুলিশ বা আধা-সামরিক বাহিনীর যত বেশি সম্ভব ক্ষতি করার লক্ষ্যে বিস্ফোরণের এই কৌশল সব থেকে বিপজ্জনক। লোহারদাগার বিস্ফোরণ-কান্ডে এর শক্তি মালুম হয়। সেখানে কোডেক্স তারের মাধ্যমে যুক্ত ১৮৯টি বিস্ফোরক এক সঙ্গে ফাটতে শুরু করায় বহু জওয়ান এক সঙ্গে অসহায়ের মত ফাঁদে পড়ে যান।’’ মাওবাদীদের হাতে বিপদের কথা ভেবেই বিস্ফোরক-বিশেষজ্ঞরা এ দেশে খনিতে তরল বিস্ফোরক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। পুলিশেরও ধারণা, তরল বিস্ফোরক মাওবাদীদের হাতে এলেও তা থেকে এত বড় বিপদ ঘটানো সম্ভব হবে না। মাওবাদী-অধ্যুষিত বিভিন্ন জেলায় কর্তব্যরত পুলিশের তরফে বার বার উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের খনির প্রযুক্তি মাওবাদীদের হাতে আসার কথা জানানো হয়েছে। কিন্তু বিপদের ঝুঁকি এখনও কমেনি।

ঠিক কী ভাবে বিশাল পুলিশ-বাহিনীকে ফাঁদে ফেলে কোডেক্স তার? মাওবাদী-দমনে ঝাড়খন্ডের বিশেষ বাহিনী জাগুয়ারের এসপি দেওবিহারী শর্মা এখন লাতেহারের ভারপ্রাপ্ত এসপি। তিনি বলেন, ‘‘বৈদ্যুতিক তারের সাহায্যে মাইন বিস্ফোরণের সীমা তত বেশি নয়। কিন্তু কোডেক্স তারের মাধ্যমে শক-ওয়েভে বিস্ফোরণের সীমানা বিস্তৃত হয়। সেকেন্ডে ৪৫০০ মিটার জুড়ে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তাই এক জায়গায় পুরোটা বিস্ফোরক না-জমিয়ে মাওবাদীরা অল্প-অল্প বিস্ফোরক তারের মাধ্যমে জুড়ে ছড়িয়ে দেয়।’’ লোহারদাগার ঘটনাটিতে কার্পেটের মত বিছানো ১৮৯টি বিস্ফোরক একসঙ্গে ফাটানো হয়েছিল। ৮০০ বর্গ মিটার জুড়ে পাতা ছিল মৃত্যুফাঁদ। লাতেহার ও পলামুতে কিছু দিন আগেও কোডেক্স তারের ফাঁদ টের পায় পুলিশ। এ বার চাঁচো গ্রামে কোডেক্স তারে যুক্ত ৩৫টি বিস্ফোরক-ঠাসা দুধের ক্যানের হদিস মিলেছে।

সূত্রঃ  ইন্টারনেট


চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ১৬ দফা কর্মসূচি

dazibao-1

১৯৬৬ সালের ৮ আগস্ট, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ১৬ দফা কর্মসূচির বিশেষ অংশ তুলে ধরা হলোঃ
-সম্পাদনা বোর্ড

.সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে এক নতুন স্তর

………………..

পার্টির অষ্টম কেন্দ্রীয় কমিটির দশম বর্ধিত অধিবেশনে কমরেড মাও সেতুঙ বলেছিলেন: একটা রাজনৈতিক ক্ষমতাকে উৎপাটিত করতে হলে সর্বদা যা প্রয়োজন তাহলো সর্বপ্রথমে জনমত তৈরি করা, মতাদর্শগত ক্ষেত্রে কাজ করা। বিপ্লবী শ্রেণীর ক্ষেত্রে একথা যেমন সত্য, তেমনি সত্য প্রতিবিপ্লবী শ্রেণীর ক্ষেত্রেও। কমরেড মাও সেতুঙের এই তত্ত্ব প্রয়োগের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে।
যদিও বুর্জোয়া শ্রেণীকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, তথাপি সে শোষক শ্রেণীর পুরাতন ভাবধারা, সংস্কৃতি, রীতিনীতি ও অভ্যাসকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে জনগণকে কলুষিত করতে, তাদের মনকে জয় করতে এবং ফিরে আসতে চেষ্টা করছে। সর্বহারা শ্রেণীকে অবশ্যই ঠিক বিপরীত কাজটাই করতে হবে। মতাদর্শগত ক্ষেত্রে সর্বহারা শ্রেণীকে বুর্জোয়াদের প্রতিটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে মোকাবেলা করতে হবে এবং সমগ্র সমাজের মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য সর্বহারা শ্রেণীর নতুন ধারণা, সংস্কৃতি, রীতিনীতি ও অভ্যাসকে ব্যবহার করতে হবে। ……………….. সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ভিত্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্প এবং উপরিকাঠামোর অন্য সকল অংশকে রূপান্তর করা, যাতে করে ব্যবস্থার সুসংহতকরণ ও বিকাশসাধন সহজতর হয়।

. প্রধান ধারা এবং আঁকাবাঁকা পথ

…………………………

সাংস্কৃতিক বিপ্লব যেহেতু একটি বিপ্লব, সেহেতু অবিসংবাদিতভাবে তাকে প্রতিরোধের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এই প্রতিরোধ প্রধানত আসছে সেই সব ক্ষমতায় আসীন ব্যক্তিদের নিকট থেকে যারা সংগোপনে পার্টিতে ঢুকে পড়েছে এবং পুঁজিবাদী পথে চলেছে। পুরনো সমাজের অভ্যাসগত শক্তি থেকেও এটা আসে। বর্তমানে, এই প্রতিরোধ এখনও বেশ শক্তিশালী ও অনমনীয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব হলো একটি অপ্রতিরোধ্য সাধারণ প্রবণতা। প্রচুর প্রমাণ আছে যে, জনগণ পরিপূর্ণভাবে জাগরিত হয়ে উঠলে এই ধরনের প্রতিরোধ দ্রুত খান খান হয়ে ভেঙে পড়বে।
…………………………………..

. সাহসকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখা এবং জনগণকে দৃঢ়ভাবে জাগিয়ে তোলা

এই মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পরিণতি বা ফলাফল নির্ভর করবে পার্টি নেতৃত্ব সাহসের সঙ্গে জনগণকে উদ্দীপ্ত করতে পারবে কি পারবে না তার উপর।
বর্তমানে, বিভিন্ন স্তরে পার্টি-সংগঠন কর্তৃক সাংস্কৃতিক বিপ্লব আন্দোলনকে নেতৃত্ব দেওয়ার ব্যাপারে চার রকম পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিরাজ করে:

(১) একটি অবস্থা হচ্ছে পার্টিসংগঠনের ভারপ্রাপ্ত কমরেডরা আন্দোলনে দাঁড়িয়ে থেকে সাহসের সঙ্গে জনগণকে কর্মকাণ্ডে উদ্দীপ্ত করে তোলে। তারা সাহসকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দেয়, তারা নির্ভীক কমিউনিস্ট সংগ্রামী এবং চেয়ারম্যান মাও-এর ভাল ছাত্র। বড় হরফের পোস্টার ও বিরাট বিতর্কের তারা সমর্থক।…………..।
(২) বহু ইউনিটে, ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এই বিরাট সংগ্রামে নেতৃত্বের কর্তব্য সম্পর্কে খুবই দুর্বল উপলব্ধি ধারণ করে, তাদের নেতৃত্ব বিবেকসঞ্জাত নয় এবং কার্যকর নয়। এবং এর ফলে তারা নিজেদের অযোগ্য ও দুর্বল অবস্থানে নিয়ে যায়।
(৩) কিছু কিছু ইউনিটে, ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা, যারা অতীতে কোন না কোন ভুলভ্রান্তি করেছে, তারা ভয়ভীতিকে সবার উপরে স্থান দেয়ার ক্ষেত্রে এমনকি বেশি পক্ষপাতি এবং ভয় করে যে জনগণ এই বুঝি তাদের ধরে ফেলবে। প্রকৃতপক্ষে, যদি তারা গুরুত্ব সহকারে তাদের ভুলত্রুটির জন্য আত্মসমালোচনা করে এবং গণসমালোচনা মেনে নেয়, তা হলে পার্টি ও জনগণ তাদের ভুলত্রুটি মার্জনা করবে।
(৪) কিছু কিছু পার্টি ইউনিট এমন সব ব্যক্তিদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় যারা সংগোপনে পার্টির মধ্যে ঢুকে পড়েছে এবং পুঁজিবাদী পথ গ্রহণ করে। এরূপ ক্ষমতায় আসীন ব্যক্তিবর্গ, জনগণ তাদের মুখোশ উন্মোচন করবে, এই ভয়ে খুবই শঙ্কিত এবং এই হেতু তারা গণআন্দোলন দমন করার প্রতিটি সম্ভাব্য অজুহাত খোঁজে। আন্দোলনকে টুঁটি চেপে বিনষ্ট করার প্রচেষ্টায় তারা আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু সরিয়ে দেয় এবং কালোকে সাদা করার মতো কৌশল তারা গ্রহণ করে।……..
সর্বস্তরের পার্টি কমিটিগুলোর কাছে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির দাবি হলো, তারা যেন সঠিক নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সবরকম অধ্যবসায় চালায়, সবার উপর সাহসকে স্থান দেয়, নির্ভীকভাবে জনগণকে উদ্দীপিত করে, দুর্বলতা ও অযোগ্যতা যেখানে আছে তা পরিবর্তন করে, আগেকার ভুলভ্রান্তি সংশোধন করে নিয়ে মনের ভার লাঘব করে সংগ্রামে ইচ্ছুক যারা সেইসব কমরেডদের উৎসাহ দেয় এবং যারা কর্তৃস্থানীয় ব্যক্তি যারা পুঁজিবাদী পথে চলতে চায় তাদেরকে হটিয়ে দেয় এবং এভাবে সর্বহারা বিপ্লবীর নেতৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব করে তোলে।

. আন্দোলনের মধ্যে জনগণকে নিজেদের শিক্ষিত হতে দিন

জনগণ নিজেরাই নিজেদের মুক্ত করবে এটাই মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের একমাত্র পদ্ধতি, তাদের হয়ে অন্য কোন পদ্ধতির মাধ্যমে কিছু করে দেওয়া- এ জিনিষ একেবারেই চলবে না।
জনগণকে বিশ্বাস কর, তাদের উপর নির্ভর কর, তাদের উদ্যোগকে শ্রদ্ধা কর। ভয় দূর কর। বিশৃঙ্খলাকে ভয় পেওনা। চেয়ারম্যান মাও প্রায়ই আমাদের বলেছেন যে বিপ্লব কখনও অতি বেশি মার্জিত, ভদ্রভব্য হয় না, অত পরিমিত হয় না, অত দয়ালু, বিনয়ী, সংযত এবং ঔদার্যপূর্ণ হয় না। এই মহান বিপ্লবী আন্দোলনে জনগণকে নিজেদেরই শিখতে দাও এবং কোন্টা ঠিক আর কোন্টা ভুল ও কোন্ পথটা সঠিক আর কোন্টা বেঠিক, এই পার্থক্যটা তারা নিজেরা বুঝতে শিখুক।

………………..

. পার্টির শ্রেণী লাইন দৃঢ়ভাবে প্রয়োগ করুন

কে আমাদের শত্রু? কে আমাদের মিত্র? বিপ্লবের সামনে এই প্রশ্নটি প্রথম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং একইভাবে এই প্রশ্ন মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সামনেও প্রথম গুরুত্বপূর্ণ।
বামপন্থীদের খুঁজে বার করা এবং বামপন্থী কর্মীদের বিকাশ ঘটানো ও তাদের শক্তিশালী করায় পার্টি নেতৃত্বের যোগ্য হতে হবে; বামপন্থীদের উপর দৃঢ়ভাবে নির্ভর করতে হবে। আন্দোলন চলাকালে সবচেয়ে প্রতিক্রিয়াশীল দক্ষিণপন্থীদের সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা, মধ্যপন্থীদের নিজেদের দিকে নিয়ে আসা এবং বৃহৎ সংখ্যাগরিষ্ঠের সঙ্গে ঐক্য স্থাপন করার জন্য এটাই হচ্ছে একমাত্র পন্থা। যাতে করে আন্দোলন শেষে আমরা ৯৫ শতাংশেরও বেশি ক্যাডারদের সঙ্গে ও ৯৫ শতাংশেরও বেশি জনগণের সঙ্গে ঐক্য অর্জন করতে পারি।
………………..
. জনগণের মধ্যকার দ্বন্দ্বের সঠিক মীমাংসা করুন

দুই ভিন্ন ধরনের দ্বন্দ্বের মধ্যে সুতীক্ষ্ণ পার্থক্য অবশ্যই টানা হবেঃ জনগণের মধ্যকার দ্বন্দ্ব এবং আমাদের ও শত্রুর মধ্যকার দ্বন্দ্ব। জনগণের মধ্যকার দ্বন্দ্বগুলিকে আমাদের ও শত্রুর মধ্যকার দ্বন্দ্বে পরিণত করা যাবে না; আবার আমাদের ও শত্রুর মধ্যকার দ্বন্দ্বকে জনগণের মধ্যকার দ্বন্দ্ব হিসাবে দেখা সমুচিত হবে না।
জনগণের মধ্যে বিভিন্ন মত থাকা স্বাভাবিক। বিভিন্ন মতের মধ্যে লড়াই এড়ানো যাবে না, এবং এ লড়াই প্রয়োজনীয় ও উপকারী। সাধারণ ও পূর্ণ বিতর্কের প্রক্রিয়ায় জনগণই ঠিক করবে কোন্টা সঠিক, যেটা ভুল তাকে তারা সংশোধন করবে এবং ক্রমশঃ ঐকমত্যে পৌঁছবে।
…………………………………..
. যারা বিপ্লবী জনগণকে “প্রতিবিপ্লবী” বলে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে নজর রাখুন

সাংস্কৃতিক বিপ্লবের কয়েকটি বিদ্যায়তনে, ইউনিটে ও ওয়ার্ক টিমে, ভারপ্রাপ্ত কিছু ব্যক্তিরা, জনগণের বিরুদ্ধে পাল্টা-আক্রমণ সংগঠিত করেছে, যারা তাদেরকে সমালোচনা করে বড় হরফের পোস্টার সাঁটিয়েছিল। এইসব ব্যক্তিরা এমনকি এরূপ শ্লোগান [ধ্বনি] দেয় যে, কোন ইউনিট অথবা ওয়ার্ক-টিমের নেতাদের বিরোধিতা করার অর্থ কেন্দ্রীয় কমিটির বিরোধিতা করা, পার্টির বিরোধিতা করা তথা সমাজতন্ত্রের বিরোধিতা করা এবং তার অর্থ প্রতিবিপ্লব। এইভাবে এটা অনিবার্য যে, তাদের আঘাত কিছু যথার্থ বিপ্লবী কর্মীদের উপর পড়বে। এটি হচ্ছে উদ্দেশ্যের বিষয়ে একটি ভুল, লাইনের ক্ষেত্রে ভুল, এবং এমন ব্যাপার কখনই চলতে দেওয়া যায় না।
গুরুতর মতাদর্শগত ভুলভ্রান্তিতে ভোগে এরূপ কিছু সংখ্যক লোক, বিশেষ করে কিছু সংখ্যক পার্টি-বিরোধী ও সমাজতন্ত্র-বিরোধী দক্ষিণপন্থী ব্যক্তি গণ-আন্দোলনের কোনরূপ দুর্বলতা ও ভুলভ্রান্তির সুযোগ গ্রহণ করে গুজব ও গালগল্প ছড়ায় এবং জনগণের অন্তর্ভুক্ত কিছু লোককে ইচ্ছাপূর্বক প্রতিবিপ্লবী আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনে নিজেদের নিয়োজিত করে। এধরনের ‘পকেটমারদের’ থেকে সতর্ক হওয়া এবং যথাসময়ে তাদের চালাকী প্রকাশ্যে তুলে ধরে দেখিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
………………………………………..
. ক্যাডার প্রশ্ন

মোটা দাগে ক্যাডারদের নিম্নলিখিত ৪টি বিভাগে সাজানো যায়ঃ
(১) ভাল;
(২) তুলনামূলকভাবে ভাল;
(৩) খুবই গুরুতর ভুল করেছে বটে, কিন্তু
পার্টি-বিরোধী, সমাজতন্ত্র-বিরোধী দক্ষিণপন্থীতে পরিণত হয়নি;
(৪) স্বল্প সংখ্যক পার্টি-বিরোধী, সমাজতন্ত্র-বিরোধী দক্ষিণপন্থী।

সাধারণ অবস্থায় উপরিউক্ত প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগের (ভাল ও তুলনামূলকভাবে ভাল) কর্মীরাই বিপুল সংখ্যাধিক্য।
পার্টি-বিরোধী, সমাজতন্ত্র-বিরোধী দক্ষিণপন্থীদের সম্পূর্ণভাবে উন্মোচন করতে হবে, তাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় আঘাত হানতে হবে, তাদের উচ্ছেদ করতে হবে ….। একইসাথে, তাদের সুযোগ দিতে হবে যাতে তারা জীবনের খাতায় নতুন পাতা উল্টাতে পারে।

. সাংস্কৃতিক বিপ্লব গ্রুপ, কমিটি এবং কংগ্রেস

মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবে বহু নতুন জিনিসের উদ্ভব হতে শুরু করেছে। বহু বিদ্যায়তন ও ইউনিটে সাংস্কৃতিক বিপ্লবী গ্রুপ, কমিটি ও অন্যান্য নানা সাংগঠনিক রূপ জনগণ সৃষ্টি করে নিচ্ছে যা হলো নতুন জিনিস এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন।
এইসব সাংস্কৃতিক বিপ্লবী গ্রুপ, কমিটি, কংগ্রেস- এইগুলি সব সংগঠনের চমৎকার নতুন সব রূপ এবং এইসবের মধ্য দিয়ে জনগণ কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে নিজেদের নিজেরাই শিক্ষিত করে তুলছে। এগুলো জনগণের সঙ্গে পার্টির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সংযোগ রক্ষার চমৎকার সেতু হিসেবে কাজ করছে। এগুলো সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ক্ষমতার সংস্থা।
প্রাচীন ধ্যান-ধারণা, সংস্কৃতি, রীতি ও অভ্যাস, যা হাজার হাজার বছর ধরে শোষকশ্রেণীগুলো চালু রেখেছে, তাদের বিরুদ্ধে সর্বহারা শ্রেণীর লড়াই স্বাভাবিক প্রয়োজনেই দীর্ঘ, দীর্ঘকাল ধরে চলবে। তাই, সাংস্কৃতিক বিপ্লবী গ্রুপ, কমিটি, কংগ্রেস- এইসব সাময়িক সংগঠন মাত্র নয়, এগুলি হলো স্থায়ী জীবন্ত গণসংগঠন। কলেজ, ইস্কুল, সরকার ও অন্য সংগঠনের জন্যই শুধু নয়, বরং কলকারখানা, খনি, অন্যান্য উদ্যোগ, শহর-নগর ও গ্রামগঞ্জেও এগুলো প্রয়োজনীয়।
……………………………………….
১০. শিক্ষা সংস্কার

মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবে একটি খুবই গুরত্বপূর্ণ করণীয় কাজ হলো পুরানো শিক্ষা ব্যবস্থা এবং পুরানো শিক্ষানীতি ও শিক্ষাদান পদ্ধতির রূপান্তর সাধন করা।
এই মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুর্জোয়া বুদ্ধিজীবীদের আধিপত্যের ব্যবস্থার সম্পূর্ণ পরিবর্তন সাধন করতে হবে।
সমস্ত ধরনের বিদ্যালয়ে কমরেড মাও সেতুঙ কর্তৃক তুলে ধরা পলিসির পুরোপুরি প্রয়োগ করতে হবে, যা সর্বহারা রাজনীতিকে সেবা করার শিক্ষা। এবং উৎপাদনমূলক শ্রমের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ সাধন করবে। যার ফলশ্রুতি হিসেবে শিক্ষাপ্রাপ্ত মানুষের নৈতিক, বুদ্ধি-বৃত্তিগত ও দৈহিক বিকাশ ঘটবে এবং সমাজতান্ত্রিক চেতনাসম্পন্ন ও সংস্কৃতিসম্পন্ন শ্রমিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
…………………………..
১১. সংবাদপত্রে নাম ধরে সমালোচনার প্রশ্ন

সাংস্কৃতিক বিপ্লবের গণ-আন্দোলনের পথে বুর্জোয়া ও সামন্তবাদী তত্ত্বের সমালোচনাকে সর্বহারা বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গি এবং মার্কসবাদ-লেনিনবাদ মাও সেতুঙের চিন্তাধারার প্রচারের সঙ্গে ভালভাবে সংযুক্ত করতে হবে ।
যেসব বিশেষ বুর্জোয়া প্রতিনিধি পার্টির ভেতরে গোপনে ঢুকে পড়েছে তাদের বিরুদ্ধে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ‘কর্তৃত্বে আসীন’ বিশেষ প্রতিক্রিয়াশীল বুর্জোয়াদের বিরুদ্ধে সমালোচনা সংগঠিত করতে হবে। এবং এই সমালোচনার অন্তর্ভুক্ত হবে দর্শন, ইতিহাস, রাজনৈতিক অর্থনীতি ও শিক্ষা, সাহিত্য ও শিল্পকলা সম্পর্কিত তত্ত্ব ও কাজ, প্রকৃতি-বিজ্ঞানের তত্ত্ব এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়াশীল অভিমতের বিরুদ্ধে সমালোচনা।
সংবাদপত্রের পৃষ্ঠায় নাম ধরে কারও সমালোচনা করার আগে ঐ পর্যায়ের পার্টি-কমিটিতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে উচ্চতর পার্টি-কমিটির অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করতে হবে।

১২. বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও কর্মকর্তাদের মধ্যকার সাধারণ সদস্যদের প্রতি পলিসি

বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ এবং সাধারণ কর্মকর্তাদের সম্বন্ধে- যতক্ষণ পর্যন্ত তারা দেশপ্রেমিক, সোৎসাহে কাজ করেন, পার্টি ও সমাজতন্ত্র বিরোধী নন এবং কোন বিদেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে বে-আইনী যোগাযোগ রক্ষা করেন না, ততক্ষণ এ আন্দোলনে আমরা তাদের বেলায় ঐক্য-সমালোচনা-ঐক্য- এই নীতি প্রয়োগ অব্যাহত রাখবো। যেসব বৈজ্ঞানিক এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অবদান রেখেছেন, তাদের সম্বন্ধে বিশেষ যত্নবান হতে হবে। ক্রমান্বয়ে তাদের বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গির ও কর্মপদ্ধতির রূপান্তর ঘটানোর কাজে তাদেরকে বিশেষভাবে সাহায্য করার জন্য ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

১৩. শহর ও গ্রামাঞ্চলে সমাজতান্ত্রিক শিক্ষা আন্দোলনের সাথে একীকরণের জন্য ব্যবস্থাবলীর প্রশ্ন
……………………………

গ্রামাঞ্চলে এবং শহরের উদ্যোগগুলিতে, যেখানে পূর্বের ব্যবস্থাদি যথাযথ ও আন্দোলন ভালভাবে চলছে, সেগুলোকে ওলটপালট হতে দেওয়া সমুচিত হবে না, বরং পূর্বের ব্যবস্থাদি অনুযায়ী অব্যাহত রাখাই হবে বিধেয়। যাইহোক, বর্তমান মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবে উত্থাপিত প্রশ্নাদি সঠিক সময়ে জনসাধারণের নিকট আলোচনার জন্য তুলে ধরতে হবে, যাতে করে আরও বলিষ্ঠভাবে সর্বহারা মতাদর্শ উৎসাহিত হয় এবং বুর্জোয়া মতাদর্শের মূলোৎপাটন করে ফেলা যায়।
………………..
১৪. বিপ্লবের উপর দৃঢ় দখল রাখুন এবং উৎপাদনকে উদ্দীপ্ত করুন

মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের উদ্দেশ্য হলো জনগণের মতাদর্শের বিপ্লবীকরণ করা এবং ফলস্বরূপ সমস্ত কর্মক্ষেত্রেই বৃহত্তর, দ্রুততর, অধিকতর ভাল ও আরো বেশি সাশ্রয়ী ফল অর্জন করা। জনগণকে যদি পূর্ণরূপে জাগরিত করা যায়, এবং সঠিক ব্যবস্থাদি গ্রহণ করা যায়, তবে সাংস্কৃতিক বিপ্লব ও উৎপাদন উভয়টিকেই চালানো যায় পারস্পরিক বিঘ্ন সৃষ্টি না করে, পাশাপাশি আমাদের সকল কাজে উচ্চ মানকে নিশ্চিত করে।
আমাদের দেশে সামাজিক উৎপাদিকাশক্তির বিকাশের পক্ষে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি। উৎপাদন বিকাশের বিরুদ্ধে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে স্থাপন করার যেকোন ধারণা হলো ভুল।

১৫. সশস্ত্র বাহিনী

সামরিক বাহিনীর মধ্যে সাংস্কৃতিক বিপ্লব ও সমাজতান্ত্রিক শিক্ষা-আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সামরিক কমিশন ও গণমুক্তি ফৌজের সাধারণ রাজনৈতিক বিভাগের নিদের্শ অনুযায়ী পরিচালিত হওয়া উচিত।

১৬. মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবে মাও সেতুঙের চিন্তাধারা হলো কর্মের পথনির্দেশক

মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবে মাও সেতুঙের চিন্তাধারার মহান লাল পতাকা উচ্চে তুলে ধরা প্রয়োজনীয়। সর্বহারা রাজনীতিকে নির্দেশকের ভূমিকায় রেখেই অগ্রসর হতে হবে। শ্রমিকদের মধ্যে, কৃষকদের মধ্যে, সৈনিকদের মধ্যে, পার্টি-কর্মী ও বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে চেয়ারম্যান মাও সেতুঙের রচনাবলীর সৃজনশীল অধ্যয়ন ও প্রয়োগের আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হবে, এবং কর্মের পথ-নির্দেশক হিসেবে মাও সেতুঙের চিন্তাধারাকে গ্রহণ করতে হবে।
এই জটিল মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবে সর্বস্তরের পার্টি-কমিটিগুলোকে চেয়ারম্যান মাও-এর রচনাবলী অবশ্যই পাঠ ও প্রয়োগ করতে হবে আরও সচেতনতার সঙ্গে ও আরও সৃজনশীলভাবে। বিশেষভাবে, তাদেরকে বারবার সাংস্কৃতিক বিপ্লবের উপর এবং পার্টির নেতৃত্বের পদ্ধতির উপর মাও-এর রচনাবলী অধ্যয়ন করতে হবে। যেমন, ‘নয়া গণতন্ত্র সম্পর্কে’, ‘সাহিত্য ও শিল্প-কলা সম্পর্কে ইয়েনান ফোরামে প্রদত্ত ভাষণ’, ‘জনগণের মধ্যকার দ্বন্দ্বের সঠিক মীমাংসা সম্পর্কে’, ‘প্রচারকার্য সম্পর্কে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জাতীয় সম্মেলনে প্রদত্ত বক্তৃতা’, ‘নেতৃত্বের পদ্ধতির উপর কিছু প্রশ্ন’ এবং ‘পার্টি-কমিটির কর্মপদ্ধতি’ প্রভৃতি পাঠ করতে হবে।


বলিভিয়ায় শ্রমিক-জনতার গণপিটুনিতে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিহত

40182-damprildyf-1472191389

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়ার ধর্মঘটরত ও প্রতিবাদী খনি শ্রমিকরা দেশটির উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অপহরণের পর হত্যার দাবি করেছে বলিভিয়ান সরকার। রোদোলফো ইলানেস ও দেহরক্ষীদের বৃহস্পতিবার অপহরণ করা হয়েছিল। কর্মকর্তারা জানান, লা পাজের দক্ষিণে পান্ডুরো শহরে সড়ক পথে মন্ত্রীর গাড়ি থামিয়ে তাকে অপহরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) স্থানীয় সময় রাতে এ ঘটনা ঘটে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্লোস রোমেরো জানান, সবকিছু পরিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইলানেসকে ‘নৃশংস ও কাপুরুষোচিত’ আক্রমণে হত্যা করা হয়েছে।

স্থানীয় লা রাজন পত্রিকা প্রতিরক্ষামন্ত্রী রেইমি ফেরেইরাকে উদ্বৃত করে জানিয়েছে, ইলানেসকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পিটিয়ে হত্যার সময় পুলিশ বা কর্তৃপক্ষের কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই খনি শ্রমিকও নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার থেকে খনি শ্রমিকরা পান্ডুরো মহাসড়ক অবরোধ করে আসছে।

এক সময় প্রেসিডেন্ট মোরালেজের অন্যতম সমর্থক দ্য ন্যাশনাল ফেডারেশন অব মাইনিং কো-অপারেটিভস অব বলিভিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।

খনি শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে, শ্রমিকদের আরও সুযোগ বৃদ্ধি, বেসরকারি কোম্পানিতে কাজের সুযোগ ও বড় ধরনের ইউনিয়ন করার অধিকার।

অপহৃত থাকা অবস্থায় বলিভিয়ান রেডিওকে তিনি জানান, অপহরণকারীরা তার মুক্তির জন্য একটি শর্ত দিয়েছিল। শর্তটি ছিল সরকারকে নতুন আইন নিয়ে খনি শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে।

উপ-মন্ত্রীর মৃত্যু দেশটির প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেজ কে ‘গভীরভাবে প্রভাবিত’ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

এর আগে গত মঙ্গলবার বলিভিয়ায় খনি শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় দেশটির পানডুরো শহরের প্রত্যন্ত এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে খনি শ্রমিকরা।

খনি আইন সংশোধন করে শ্রমিকদের অধিকার বাড়ানো সহ ১০ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করে তারা। এসময় পুলিশ বাধা দিলে তাদের মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ। অন্তত ২৫ জন পুলিশ এ ঘটনায় আহত হয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। বিক্ষোভ দমনে এক পর্যায়ে শ্রমিকদের ওপর পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

সম্প্রতি খনি শ্রমিকদের অধিকার আরও সুসংহত করাসহ ১০ দফা দাবি নিয়ে খনি আইনের সংস্কারে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় জাতীয় খনি সমবায় ফেডারেশন – ফেনকমিন। কিন্তু এ বিষয়ে সরকারের তাদের সমঝোতা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ খনি শ্রমিকরা।
f8fab9913c34aea1bc51454627297d7b-57c0077008c9d

সূত্র: বিবিসি।


“মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব” (GPCR)- মানবেতিহাসে গণবিপ্লবের সর্বোচ্চ চূড়া

নিপীড়িত জনগণ ও নিপীড়িত জাতিসমূহ নিজেদের মুক্তির জন্য কোনোমতেই সাম্রাজ্যবাদ ও তার পদলেহী কুকুরদের ”শুভবুদ্ধির” উপর ভরসা করে বসে থাকবেন না, কেবলমাত্র নিজেদের ঐক্যকে সুদৃঢ় ক’রে এবং অটলভাবে সংগ্রাম চালিয়েই তাঁরা বিজয় অর্জন করতে পারেন।
মাও সেতুঙ, আগষ্ট, ১৯৬৩

 

field_1492447i

“মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব” (GPCR)- মানবেতিহাসে গণবিপ্লবের সর্বোচ্চ চূড়া

মানবেতিহাসে শ্রেণি-শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে অসংখ্য মহান মহান সব বিদ্রোহ হয়েছে। সংখ্যায় তত না হলেও গণ-বিপ্লবের সংখ্যাও কম নয়। অনেক বিপ্লব সফল হয়েছে। অনেকগুলো শাসকদের তরবারি ও গুলির আঘাতে রক্তস্রোতের মধ্য দিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু এরকম বিপ্লব কখনো মানবজাতি দেখেনি। মহান মাও সেতুঙের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক চীনে যেটি পরিচালিত হয়েছিল। সময়কালটি ছিল ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭৬ সাল- তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত। দশ বছর ধরে চলা এ বিপ্লব “মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব” (জিপিসিআর-GPCR) বা সংক্ষেপে “সাংস্কৃতিক বিপ্লব” নামে পরিচিত হলেও তা ছিল এক বিশাল ও মহান রাজনৈতিক বিপ্লব। এর অর্থ হলো, এর দ্বারা নিপীড়িত শ্রেণি, যে নিজেই তখন শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত, সে শাসনক্ষমতার একাংশে অধিষ্ঠিত নিপীড়ক প্রতিক্রিয়াশীল শ্রেণিকে উচ্ছেদ করে সেসব জায়গার ক্ষমতা দখল করে নিয়েছিল। বিস্ময়ের শেষ থাকে না যখন দেখা যায় যে, এ বিপ্লব করেছিল ক্ষমতাসীন একটি পার্টি সমাজতান্ত্রিক একটি দেশে সেই দেশের প্রধান নেতা মাও সেতুঙের নেতৃত্বে ক্ষমতাসীনদেরই একাংশের বিরুদ্ধে। যদিও বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদী ও প্রতিক্রিয়াশীলরা একে মাও সেতুঙের কুক্ষিগত ক্ষমতা রক্ষার একটি প্রাসাদ চক্রান্ত হিসেবে এর বিরুদ্ধে হাজারো মিথ্যা প্রচার চালিয়েছে, কিন্তু এটি যে কোটি কোটি মানুষের এক বিশাল উত্থান ছিল, এবং তা-যে অর্থনীতি ও রাজনীতিতে, বিশেষত শিক্ষা ও সংস্কৃতিগত ক্ষেত্রে সমাজ ও রাষ্ট্রে এক বিপুল পরিবর্তন ও রূপান্তর ঘটিয়েছিল তা তারা লুকাতে পারেনি। এটি হজম করতে বিশ্বের সকল রাজনীতিক ও রাষ্ট্রর-তো বটেই, কমিউনিস্ট ও সমাজতন্ত্রী বলে পরিচিত ও বিশ্বাসী প্রগতিশীল মানুষদের জন্যও কঠিন ছিল। তাদের সবার কাছেই তা ছিল অভূতপূর্ব ও অশ্রুতপূর্ব এক বিষয়। সমাজতান্ত্রিক এক দেশে, যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এক দীর্ঘস্থায়ী ২২ বছরের গণযুদ্ধের ভেতর দিয়ে, এবং পরে আরো ১৭ বছর ধরে চলা সমাজতান্ত্রিক রূপান্তরের দ্বারা যার ভিত্তি হয়েছিল প্রতিষ্ঠিত, তেমন একটি দেশের ক্ষমতাসীন নেতাদের এক বড় অংশ গণ-বিপ্লবের শত্রু হিসেবে ধুলিসাৎ হলো। কোটি কোটি ছাত্র-তরুণ স্কুল-কলেজ ছেড়ে মাও-উদ্ধৃতি ও হাতে লেখা বড় অক্ষরের পোস্টার নিয়ে নেমে পড়লো রাস্তায়, ছড়িয়ে পড়লো কারখানা মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলে। তাদের পিছু ধরেই নামলো বিপ্লবের আসল কারিগর শ্রমিক শ্রেণি ও কৃষক সমাজ- আরো বিপুল বৃহৎ সংখ্যায়। স্বয়ং মাও তাদেরকে রাজধানী বেজিং-এর তিয়েন আন মেন স্কোয়ারে সাক্ষাৎ দিলেন নিজে এই “রেড গার্ড” সংগঠনগুলোর প্রতীকী ব্যান্ড নিজ বাহুতে বেঁধে। প্রথমে ১০ লক্ষ, পরে ১ অক্টোবর বিপ্লব বার্ষিকীতে ২০ লক্ষ, এবং সবমিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ তরুণ জীবনের চরম উত্তেজনায় ও অবিশ্বাস্য শৃঙ্খলায় তাঁকে প্রত্যক্ষ করলো ও তাঁর সামনে দিয়ে প্যারেড করে গেলো। তারা ঝঞ্ঝার মত সারা দেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কারখানা, নগর পরিচালনা সংস্থা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে হানা দিয়ে ক্ষমতাসীন পার্টি-নেতা ও আমলাদেরকে গণআদালতের মুখোমুখি করলো। আর যাদেরকে মনে হলো পুরনো মূল্যবোধ, ধ্যান ধারণা, রীতি ও সংস্কৃতির ধারক তাদেরকে ক্ষমতাচ্যুত করলো। গঠন করলো নতুন ক্ষমতার সংস্থা “বিপ্লবী কমিটি”। তাদের নেতৃত্বে দেশের প্রতিটি সেক্টরে নতুন নতুন সব সমাজতান্ত্রিক ‘জিনিষ’-এর উদ্ভব ঘটলো। নতুন মূল্যবোধ গড়ে উঠতে লাগলো। মানুষের মধ্যে নতুন সম্পর্ক স্থাপিত হলো। এই হলো সাংস্কৃতিক বিপ্লব।
’৬৯-এ গিয়ে মাও ও তাঁর নেতৃত্বে নতুন চীনা পার্টি ঘোষণা করলো, প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো সমাজতান্ত্রিক চীনেও পুঁজিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে প্রক্রিয়া চলছিল তাকে নস্যাৎ করে দিয়ে বিপ্লব মহান বিজয় অর্জন করেছে। কিন্তু মাও জানালেন, এটাই শেষ নয়। যারা চীনকে পুঁজিবাদের দিকে নিয়ে যেতে চায় তারা শেষ হয়নি। কে জিতবে- সমাজতন্ত্র না পুুঁজিবাদ- তার চূড়ান্ত মীমাংসা হয়নি। তাই বিপ্লব অব্যাহতভাবে চালিয়ে যেতে হবে। সেটা বোঝা গেল দু’বছর না যেতেই। যে নেতাদের মনে হয়েছিল সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পক্ষে, তাদেরই একটি অংশ লিন পিয়াও-এর নেতৃত্বে বিপ্লব সমাপ্ত করে দেবার পরিকল্পনা করে। এই পরিকল্পনা যখন ব্যর্থ হয়ে যায় তখন তারা মাওকে হত্যা ও কুদ্যেতা’র মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের প্রচেষ্টা নেয়। এই ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করার কর্মকান্ডে আবার বিপ্লবের প্রথম পর্বের ধিকৃত পুঁজিবাদের পথগামীরা জায়গায় জায়গায় পদে উঠে আসে। তাদের একাংশ ১৯৭৬ সালে তেং শিয়াও পিং-এর নেতৃত্বে মাথা জাগানো ও মাও-কে বিরোধিতার নতুন প্রয়াশ পায়। মাও পুনরায় এই “ডান বিচ্যুতিপন্থী হাওয়া”র বিরুদ্ধে লড়াই-এ পার্টিকে আহ্বান রাখলেন। দুর্ভাগ্য, এই লড়াই-এর কোন সমাপ্তির আগেই মাও বার্ধক্য-জনিত কারণে মারা যান। সেটা ১৯৭৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর।
পার্টির কেন্দ্রে মাওপন্থী নেতারা যখন ৬ অক্টোবর,’৭৬ কেন্দ্রীয় কমিটির সভার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন, তখনই অপ্রত্যাশিতভাবে ঐ ডানপন্থীরা হুয়া-কুয়ো ফেংকে সামনে রেখে একটি কুদ্যেতা ঘটায়। মাওপন্থী ও জিপিসিআর-পন্থীদের গ্রেফতার করে। সত্যিকার মাওপন্থীরা বিভ্রান্তিতে কিছুটা সিদ্ধান্তহীন থাকলেও বহু নগর ও শহরে বিদ্রোহ হয়, যাকে ক্ষমতাসীনরা রক্তাক্ত পথে দমন করে। হাজার হাজার মাওপন্থীকে গ্রেফতার ও গায়েব করে দেয়া হয়। নব্য ক্ষমতাসীনরা কিছুদিন নিজেদেরকে মাওপন্থী হিসেবে দেখানোর ভড়ং করে, আর নিজেদের ক্ষমতাকে সুসংহত করে। ১৯৭৮ থেকে তারা খোলস খুলতে থাকে। ১৯৮১ সালে মাও-পত্নী কমরেড চিয়াং চিং ও চ্যাং চুন চিয়াওসহ জিপিসিআর-এর মহান মাওবাদী বিপ্লবীদের বিচারের প্রহসন করে এই দু’জনকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিশেষত কমরেড চিয়াং চিং মাও ও জিপিসিআর-এর জয়গান গাইলেও চীনের পথকে আর পরিবর্তন করতে পারেননি। সেই চীন আজ বিশ্বের অন্যতম প্রধান শ্রমিক শোষণের দেশ, সা¤্রাজ্যবাদের পুঁজির অন্যতম প্রধান বিনিয়োগকারী দেশ, এক নতুন সাম্রাজ্যবাদ অভিমুখী পুঁজিবাদী দেশ। দশ বছর ধরে চলা সাংস্কৃতিক বিপ্লব যদিও এভাবে পরাজয় বরণ করতে বাধ্য হয়, কিন্তু তার যে মহিমা তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। সেই শিক্ষা নিয়ে বিশ্বের মাওবাদীরা পরে নিজেদেরকে নতুনভাবে সংগঠিত করে।
এই মহান বিপ্লবের তত্ত্ব ও কাহিনী, ঘটনা ও বিবরণ, সমাজে তার প্রবল আলোড়নমূলক প্রভাব ও রূপান্তর- সেসব অল্প কথায় বর্ণনা করা সম্ভব নয়। সেসবের উত্তরাধিকার বিশ্বের মাওবাদীরা এবং তাদের সবচেয়ে অগ্রসর সুসংহত আন্তর্জাতিক ফোরাম ‘রিম’ (বিপ্লবী আন্তর্জাতিকতাবাদী আন্দোলন) ও তার অংশগ্রহণকারী পার্টিগুলো। তারা বিগত বহু বছর যাবৎ অসংখ্য সাহিত্য ও দলিলাদির মাধ্যমে জিপিসিআর-এর তত্ত্ব ও কার্যক্রম, ইতিহাস ও অবদানকে প্রচার করেছে। বিশেষত অধুনা বিলুপ্ত রিম-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত আন্তর্জাতিকতাবাদী পত্রিকা ‘এ ওয়ার্ল্ড টু উইন’(বিশ্ব বিজয়) তার বিভিন্ন সংখ্যায় বিভিন্ন নিবন্ধের মাধ্যমে সেসব প্রকাশ করেছে। কিন্তু মাওবাদী কমিউনিস্টরাই যে শুধু সাংস্কৃতিক বিপ্লবের কাহিনী ছড়িয়ে দিয়েছে তা নয়। সাংস্কতিক বিপ্লব সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায়, অর্থনীতি ও নিপীড়িত জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায়, সংস্কৃতি ও শিক্ষায়, চিকিৎসা প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এতসব অভূতপূর্ব রূপান্তর নিয়ে আসে যা পৃথিবীতে কেউ কখনো চিন্তা করেনি। ফলে মাওবাদীরা ছাড়াও বিশ্বের বহু কোণা থেকে অসংখ্য আগ্রহী সত্যাসন্ধানী অগ্রসর মানুষ, পণ্ডিত জ্ঞানী লেখক চিন্তাবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীরা জিপিসিআর-এর উপর অসংখ্য পুস্তক ও নিবন্ধ রচনা করেছেন। একইসাথে জিপিসিআর-এর অপব্যাখ্যা ও অপপ্রচার চালিয়ে লিখিত ও প্রচারিত মিডিয়া বিষয়াদি ও পুস্তকাদির সংখ্যা আরো বেশি।
চীনের সাচ্চা সমাজতন্ত্র ও মাও-পরবর্তীতে তার পুঁজিবাদে অধঃপতনকে বুঝতে হলে জিপিসিআর-কে জানা ও বোঝার কোন বিকল্প নেই। বহু আন্তরিক বিপ্লবী-যে চীনের অধঃপতনের পর চীনের পুঁজিবাদের পথগামীদের দোসর হয়ে গেল, অথবা তাদের মিথ্যা ও ব্যাখ্যা দ্বারা নিজেদের বিভ্রান্ত হতে দিল, তার কারণ এখানেই নিহিত। কেন তারা মাও-পরবর্তী চীনকে সমাজতন্ত্র বলেই গান গেয়ে চললো? কারণ, তারা সোভিয়েতের অধঃপতন থেকে শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। আরেকটি বিরাট অংশ এই শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হলো নিজেদের মাওপন্থী দাবি করেও জিপিসিআর ‘অনেক বাড়াবাড়ি করেছে’- এই যুক্তি দেখিয়ে। পৃথিবীর এমন কোন বিপ্লব কি রয়েছে যেখানে ‘বাড়াবাড়ি’ হয়নি? মাও ‘বাড়াবাড়ি’ সম্পর্কে তার “হুনান রিপোর্ট”-এ বলেছিলেন, যাকে সবারই পড়া উচিত। মাও আরো বলেছিলেন সীমা অতিক্রম না করলে কোন ভুলকে কাটানো যায় না। জিপিসিআর-যে যথেষ্ট পরিমাণে বাড়াবাড়ি করেনি তার প্রমাণ তো আমরা চীনের বিয়োগান্তক হারানোর মধ্য দিয়েই পেয়েছি।
সোজা হিসেব দেখিয়ে দেয় যে, জিপিসিআর চলাকালে চীন ছিল মাও-এর নেতৃত্বে এক মহান সমাজতান্ত্রিক দেশ। শুধু তাই নয়, জিপিসিআর এই প্রথম মার্কসবাদের তত্ত্ব ভা-ারে সংযোজন করেছে সেই তত্ত্ব যা দ্বারা সমাজতান্ত্রিক সমাজে কীভাবে বিপ্লব অব্যাহত রাখা যাবে। কীভাবে তাকে পুঁজিবাদী পথগামীদের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে। কীভাবে তাকে বিশ্ব বিপ্লবের ঘাঁটি হিসেবে রক্ষা করে বিশ্বব্যাপী কমিউনিজম প্রতিষ্ঠার দিকে এগিয়ে নেয়া যাবে। এই তত্ত্ব সংযোজনের মাধ্যমেই মাও কমিউনিস্ট মতবাদকে তার তৃতীয় স্তরে উত্তরণ ঘটান। যাকে আমরা মাওবাদ বলে থাকি, আর আমাদের সমগ্র মতবাদটিকে আখ্যায়িত করি মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ (মালেমা) হিসেবে। ষাট-সত্তর দশকের বহু বিপ্লবী-যে পরে সত্যিকার কমিউনিস্ট বিপ্লব ও তত্ত্বে থাকতে পারেনি তার কারণ মাওবাদে আমাদের মতবাদের বিকাশটিকে ধারণ না করা। জিপিসিআর যে মতবাদিক বিকাশের ভারকেন্দ্র। আমাদের দেশেও আমরা এমন বহু লোক পাবো, বহু পণ্ডিত পাবো, যারা জিপিসিআর ও মাওবাদকে জানা ও বোঝার চেষ্টা করেনি, তাকে অধ্যয়ন করেনি, বা তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক শত্রুর প্রচারে বিভ্রান্ত থেকেছে।
এটা হলো তত্ত্বের দিক। কিন্তু জিপিসিআর-এর ঘটনার ইতিহাস ও সমাজের রূপান্তরকে আরো কিছুটা তুলে ধরা যায় যখন আমরা এই মহান বিপ্লব সূচনার ৫০-তম বার্ষিকী উদযাপন করছি। শুধু আমরাই নই, সারা বিশ্বের মাওবাদী ও প্রকৃত সমাজতন্ত্রী বিপ্লবীরাই সেটা করছেন। তা করছেন এই তত্ত্ব দ্বারা নিজেদের সজ্জিত করার জন্য। যাতে আগামী বিপ্লবগুলোকে আমরা এই সবচেয়ে অগ্রসর বিপ্লবী চেতনা ও মতবাদ দ্বারা পরিচালিত করতে পারি। এছাড়া জিপিসিআর তর্পণের আর কোন উদ্দেশ্য থাকতে পারে না। বিপ্লবের পাথেয় খোঁজা ছাড়া বিপ্লবের স্মৃতিচারণ অর্থহীন।

* মাও কেন জিপিসিআর পরিচালনা করতে উদ্বুদ্ধ হলেন? কারণটি মাও-এর নিজ বক্তব্য থেকেই জানা যাক। তিনি এর আগে চীনা পার্টির বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্বে জেঁকে বসা পুঁজিবাদী বিচ্যুতির বিরুদ্ধে সংগ্রামে বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন। যেমন, শিক্ষা আন্দোলন, শুদ্ধি আন্দোলন, পদচ্যুত করা ইত্যাদি। বড় পদচ্যুতির ঘটনাটি ঘটেছিল সামরিক বাহিনীর প্রধান পেং তে-হুয়াই-এর বিরুদ্ধে ১৯৫৯ সালে। পেং “গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড” নামে গণকমিউন প্রতিষ্ঠার কর্মসূচিকে বিরোধিতা করেছিলেন এবং তার মাধ্যমে চীনে সমাজতন্ত্রকে এগিয়ে নেয়ার বিরোধিতা করেছিলেন। আসলে তখনো বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলন পুরোপুরিভাবে জানতো না যে কীভাবে সমাজতন্ত্র পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে অধঃপতিত হয়। কিন্তু ১৯৫৬ সালে ক্রশ্চেভীয় সংশোধনবাদের দ্বারা সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েতে পুঁজিবাদ প্রতিষ্ঠার পর তার কারণ কী তা নিয়ে মাও সেতুঙ গভীরভাবে গবেষণা করতে শুরু করেন। পার্টিতে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গৃহীত হয়। এমনকি ’৬০-দশকের প্রথমার্ধে চীনা পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক “ওয়ার্ক টিম” গঠন করে শুদ্ধি ও শিক্ষা আন্দোলন চালাতে গিয়েও দেখা গেল তারও নেতৃত্বে পুঁজিবাদের পথগামীরা ঢুকে পড়েছে। এর ফল হলো মারাত্মক বিপরীত। যেখানে প্রয়োজন ছিল পুঁজিবাদের পথগামীদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, সেখানে দেখা গেল তাদের পক্ষ হয়ে পার্টির বামপন্থী ও জনগণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চলছে। এর কারণ হলো, যারা সেই শিক্ষা ও শুদ্ধি আন্দোলন করবেন সেই সব কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যেই পুঁজিবাদী চেতনা গেড়ে বসেছিল। এরই সারসংকলন করে মাও জিপিসিআর-এর ডাক দিলেন, যার মূল উপায় ছিল নিচে থেকে লক্ষ-কোটি তরুণ ও জনগণকে জাগরিত করা, সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তাদেরকে শিক্ষিত করা, তাদের এই উত্থানকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মদদ দেয়া এবং এই গণ-উত্থানের দ্বারা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত পুঁজিবাদের পথগামী কর্তৃস্থানীয় ব্যক্তিদের ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করা। সর্বোপরি সমাজের সর্বস্তরে চিন্তার রূপান্তর ঘটানো। আর এসবের মধ্য দিয়ে অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতির সকল ক্ষেত্রে “সমাজতান্ত্রিক নতুন জিনিষ”-এর সৃষ্টি করা।
সোভিয়েত ইউনিয়নে পুঁজিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর চীনের পুঁজিবাদের পথগামীরা এতটাই বেপরোয়া হয়ে গিয়েছিল যে, পিকিং-এর একজন ডেপুটি মেয়র উ-হান “হাই জুই-এর পদচ্যুতি” নামের এক নাটকে পেং তে-হুয়াই-এর সাফাই গায়। প্রয়োজন পড়লো তার কঠোর সমালোচনা করা। কিন্তু মাও কাউকে নিজ পক্ষে পেলেন না। অবশেষে মাও-পতœী চিয়াং চিং-এর গাইডেন্সে তরুণ নেতা ইয়াও ওয়েন ইউয়ান একটি সমালোচনা পত্র লিখলেন। এটি রচনার মধ্য দিয়ে মাও তার অনুসারী এই তরুণ নেতৃবৃন্দকে বিপ্লবী রাজনীতিতে শিক্ষিত করেও তুলতে চাইলেন। কথিত আছে রচনাটি প্রায় ১১ বার সংশোধন করা হয়েছিল স্বয়ং মাও-এর পরামর্শে। কিন্তু এটি পিকিং-এ কোথাও প্রকাশ করা গেল না। কারণ, খোদ পিকিং মেয়র পেন চেন তাতে বাধ সাধলো, যাকে মদদ দিচ্ছিল লিউ শাও চি ও তেং শিয়াও পিং-এর মতো শীর্ষ নেতারা। অবশেষে লেখাটি নভেম্বর, ’৬৫-এ সাংহাই থেকে প্রকাশিত হলো। রচনাটি প্রকাশ হতেই শীর্ষ পুঁজিবাদের পথগামীরা সতর্ক হয়ে গেলো। মাও নিজে প্রতি-আক্রমণে গেলেন। কেন্দ্রীয় কমিটিতে যখন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তুললেন তখন তিনি প্রথমে সংখ্যালঘু ছিলেন। মাও-এর সংগ্রামের পর তিনি সংখ্যাগুরু হলেন এবং কেন্দ্রীয় কমিটি ১৬ মে সার্কুলার নামের দলিলটি প্রকাশ করলো। মাও যাকে বলেছিলেন সাংস্কৃতিক বিপ্লবের “ইঙ্গিত”।
কেন্দ্রীয় কমিটি এটি পাশ করলেও উচ্চ পদগুলোতে তখনো ডানপন্থীরা বহাল ছিল। মাও জুন ও জুলাই মাসের প্রায় ৫০ দিন পিকিং থেকে সরে থাকলেন। ডানপন্থীরা গুজব রটালো মাও অসুস্থ, শিগগির মারা যাবেন। সা¤্রাজ্যবাদীরা তাতে মদদ দিলো। চীন সীমান্তে সা¤্রাজ্যবাদীদের শক্তির মহড়া চললো। এই সময়েই ২৫ জুলাই ইয়াংসী নদীতে স্রোতের বিপরীতে মাওকে সেই ৭৩ বছর বয়সে কয়েক কিলোমিটার সাঁতার কাটতে দেখা গেল, এবং সেই ছবি সারা দুনিয়ায় প্রচারিত হলো। ডানপন্থীরা এবার সত্যিই ভয় পেয়ে গেলো। আগস্টে মাও রাজধানীতে ফিরেই কেন্দ্রীয় কমিটির সভা ডাকলেন। সেখানে তিনি ৫ আগষ্ট প্রকাশ করলেন যে, “হেডকোয়ার্টারে তোপ দাগো” লিখিত বড় হরফের পোস্টারটি তার নিজেরই লেখা ছিল।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ১৬ মে সার্কুলারের পরই তাতে উদ্বুদ্ধ হয়ে পিকিং-এ সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ঢেউ শুরু হয়ে যায়। প্রথমে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও কর্মচারী সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বড় হরফের পোস্টার সাঁটায়। তাদেরকে দমনের জন্য অপচেষ্টা হলেও দ্রুত এই বড় হরফের পোস্টার আন্দোলন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এমন কোন জায়গা ছিল না যেখানে সেই পোস্টার পড়েনি। “হেড কোয়ার্টারে তোপ দাগো” পোস্টারের পর লিউ শাওচি ও তেংশিয়াওসহ বড় বড় নেতাদের নাম ধরে ছাত্ররা পোস্টার সাঁটাতে লাগলো। দলে দলে তরুণদের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সংগঠন ‘রেড গার্ড’ (লাল রক্ষী) গড়ে উঠলো।
৮ আগস্ট কেন্দ্রীয় কমিটি ১৬-দফা সার্কলার প্রকাশ করে, যা ছিল সাংস্কৃতিক বিপ্লবের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ও গাইড। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটিতে মাও-এর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। কিন্তু এবার ডানপন্থীরা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পক্ষের শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়ে তাতে নৈরাজ্য সৃষ্টি এবং সত্যিকার বামপন্থীদেরকে টার্গেট করার অপচেষ্টা করলো। সাংহাই-এ তারা ক্ষমতার বেশ কিছু জায়গায় শক্ত কর্তৃত্ব স্থাপন করলো। মাও চ্যাং চুন চিয়াও-কে পিকিং থেকে সাংহাই পাঠালেন পরিস্থিতি বিপ্লবীদের অনুকূলে আনার জন্য। সেখানকার শ্রমিক নেতা ওয়াং হুং ওয়েনের সহযোগিতায় শ্রমিক উত্থানের মধ্য দিয়ে সাংহাই-এর ক্ষমতার সংস্থাগুলো দখলে নেয়া হলো জানুয়ারি, ’৬৭-এ। যাকে “জানুয়ারি ঝড়” বলা হয়ে থাকে।
সাংস্কৃতিক বিপ্লব ছড়িয়ে পড়লো নগর থেকে গ্রামাঞ্চলে। সর্বত্র এক বিপুল উত্থান ও রূপান্তরের জোয়ার বইতে লাগলো। যাকে সুসংহত করা হয় ’৬৯ সালের ৯ম পার্টি কংগ্রেসে।

* সাংস্কৃতিক বিপ্লব যে পরিবর্তনগুলো এনেছিল সমাজের সকল ক্ষেত্রে, সেসব বিস্তৃতভাবে জানার উপায় হলো বিদেশী বিশেষজ্ঞ, যারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে কাছে থেকে দেখেছেন, এর উপর গবেষণা করেছেন, এবং যারা বেশির ভাগই কমিউনিস্ট নন, তাদের রচিত গুরুত্বপূর্ণ পুস্তক ও লেখা থেকে। এখানে শুধু সংক্ষেপে অল্প কিছু দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হলো।
শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে হাজার বছরের চেতনা ও ধারাকে উল্টে ফেলা হয়। “চার পুরনো”Ñ পুরনো রীতি, অভ্যাস, সংস্কৃতি ও ধ্যান-ধারণার বিরুদ্ধে সংগ্রাম গড়ে তোলা হলো। লিন বিরোধী সংগ্রামের সময় হাজার বছরের কনফুসিয় ধ্যান-ধারণার বিরুদ্ধে তীব্র সংগ্রাম চালানো শুরু হয়। পুরনো সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সম্পর্কে মাও বলেছিলেন, সেটার নাম দেয়া উচিত জমিদার, স¤্রাট, সেনাপতি, সৌন্দর্য মন্ত্রণালয়। এখন তাদেরকে উচ্ছেদ করে মঞ্চ দখল করলো শ্রমিক কৃষকের বীরত্ব কাহিনী ও বীরেরা।
শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটানো হয় শিক্ষা বর্ষকে সংক্ষিপ্ত করা, উচ্চশিক্ষায় ভর্তির নিয়ম বদলে শ্রমিক-কৃষকের সাথে একাত্মতাকে প্রধান মানদন্ড করে। পুস্তকের শিক্ষাকে উৎপাদন সংগ্রাম ও শ্রেণি সংগ্রামের সাথে সংযুক্ত করা হলো। বিশ্ব বিদ্যালয় গুলোর পরিচালনায় যুক্ত হলেন বিপ্লবী শ্রমিক ও সৈনিকেরা।
শিল্প ও কৃষির ব্যবস্থাপনায় বুর্জোয়া ব্যক্তি-পরিচালনার বদলে শ্রমিক ও কৃষকদেরকে ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করা হয়। শ্রমিক/কৃষক, টেকনিশিয়ান ও অফিসার- এই তিনের সমন্বয়ে “একের ভিতরে তিন” পদ্ধতির বিকাশ করা হয়।
ক্ষমতার সংস্থা হিসেবে “বিপ্লবী কমিটি”র বিকাশ ঘটানো হয়। যাতে পার্টি, বাহিনী ও গণসংগঠন- এই তিনের প্রতিনিধি থাকবে এবং এখানেও “একের ভিতর তিন” পদ্ধতির বিকাশ সাধন করা হয়। জনগণের “চার বড় অধিকার” নিশ্চিত করা হয়- বড় হরফের পোস্টার সাঁটানো, বিরাটাকারের সমালোচনা করা, ব্যাপক বিতর্ক করা ও ব্যাপক স্বাধীনতা। এই বৃহৎ চার অধিকার এবং বিপ্লবী কমিটির ক্ষমতার সংস্থায় জনগণের অংশগ্রহণ যেকোন বুর্জোয়া গণতন্ত্রের চেয়ে যে বহু বহু গুণের উন্নত গণতান্ত্রিক অধিকার জনগণকে দিয়েছিল তা বলাই বাহুল্য। আর এ কারণেই তেং চক্র ক্ষমতায় গিয়ে প্রথমেই তা হরণ করে নেয়।
মার্কস বলেছিলেন, পুঁজিবাদ থেকে কমিউনিজমে উত্তরণ হতে হলে পুঁজিবাদের ৪ ধরনের সম্পর্কের সকলগুলোর রূপান্তর প্রয়োজন। এগুলোকে “৪ সকল” বলা হয়ে থাকে। সেগুলো হলো- (১) সাধারণভাবে সকল শ্রেণি পার্থক্য বিলোপ; (২) যে উৎপাদন সম্পর্কগুলোর উপর এগুলো দাঁড়িয়ে রয়েছে সে সকল-এর বিলোপ; (৩) এই উৎপাদন সম্পর্কসমূহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সকল সামাজিক সম্পর্কের বিলোপ; এবং (৪) এই সামাজিক সম্পর্কসমূহ থেকে জন্ম নেয়া সকল ধারণাসমূহের বিপ্লবীকরণ। সাংস্কৃতিক বিপ্লব ছিল এই মার্কসীয় নির্দেশ প্রয়োগের এক জীবন্ত উদাহরণ।

আজ যখন আমরা জিপিসিআর-এর ৫০-তম বার্ষিকী উদযাপন করছি তখন আমাদেরকে আজকের বিশ্ব পরিস্থিতিতে তুলে ধরতে হবে মানবজাতির এক নতুন সমাজ-গঠনে এই বিস্ময়কর অগ্রগতি ও পরীক্ষা-গবেষণার সাহসী যুগান্তকারী অধ্যায়কে। আজকে সেই অগ্রসর দৃষ্টান্ত তুলে ধরার মধ্য দিয়েই আজকের অন্ধকারকে সংগ্রাম করতে হবে। সমাজতন্ত্র-কমিউনিজমের সবচেয়ে অগ্রসর তত্ত্ব ও চেতনা দ্বারা আমাদের সজ্জিত হতে হবে। যাতে আগামী দিনের বিপ্লবে নতুন প্রজন্মকে পথ দেখানো যায়। বিশ্বের সেই উজ্জল ভবিষ্যতের পথেই আমাদেরকে চলতে হবে।


অবশেষে শান্তিচুক্তি করলো কলম্বিয়া সরকার ও মার্কসবাদী গেরিলা দল ফার্ক

colombia-farc-la_calle.jpg_1718483346

অবশেষে শান্তিচুক্তি করলো কলম্বিয়া সরকার ও মার্কসবাদী গেরিলা দল ফার্ক । প্রায় ৫০ বছর ধরে ফার্কের সঙ্গে কলম্বিয়ার সরকারের বিরোধ চলে আসছিলো।

কিছুদিনের মধ্যেই দুই পক্ষ কিউবার রাজধানী হাভানায় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছে। যেখানে ২০১২ সাল থেকে ৪ বছর ধরে দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা হয়ে আসছে।

গত জুনে কলম্বিয়া সরকার ও ফার্ক গেরিলারা দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। যার ফলশ্রুতিতে এ শান্তিচুক্তি হলো। গত ৫ দশক ধরে চলা এ যুদ্ধে অন্তত ২ লাখ ২০ হাজার ‍মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বাস্তুহারা হয়েছেন আরো লাখো লাখো মানুষ।

শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে ফার্ক গেরিলারা তাদের অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করবে। চুক্তির পরপরই ফার্ক পক্ষের শান্তি আলোচক রদ্রিগো গানডা টুইট করেন, ‘যখন আলোচনা মাধ্যমে তুমি শান্তি পাবে, সেখানে কোনো জয় পরাজয় থাকে না। কলম্বিয়া জিতেছে, মৃত্যু পরাজিত হয়েছে।’

বুধবার ফার্ক গেরিলা নেতা টিমেলিয়েন জিমেনেজে সন্ধ্যা ৬টায় টুইট করে জানান দেন আলোচনার মাধ্যমে শান্তিচুক্তির দ্বারপ্রাপ্তে পৌঁছানোর কথা। দেশটির প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোসও দেশবাসীকে ঐতিহাসিক ও খুব গুরুত্বপূর্ণ খবর জানানোর অঙ্গীকার করেন।

১৯৬৪ সাল থেকে দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে বামপন্থি ফার্ক গেরিলারা। লাতিন আমেরিকায় ফার্ক-কলম্বিয়া সরকারের লড়াইই সবচেয়ে পুরনো গৃহযুদ্ধ।

সূত্রঃ বিবিসি

বাস্তারে নিহত অর্জুন কুখ্যাত মাওবাদী কমান্ডার না নিরীহ কিশোর? উঠছে প্রশ্ন

img-n

কয়েকদিন আগে ছত্তিশগড়-ওডিশা সীমানা এলাকায় ছত্তিশগড়ে RSG ও STF এর সংঘর্ষে নিহত হয় এক মাওবাদী কমান্ডার। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী নিহত মাওবাদীর পরিচয় দেওয়া হয় কুখ্যাত মাওবাদী কমান্ডার  অর্জুন। অথচ scroll.in এ প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী নিহত অর্জুনকে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী, ছত্তিশগড় লিগ্যাল এডের  ইষা খান্ডেলওয়াল। প্রতিবেদন অনুযায়ী বছর খানেক ধরে অর্জুনের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামালা  চালিয়েছে পুলিস। একের পর এক হাজিরার দিনে আদালতে হাজিরও হয়েছিল অর্জুন। আগামী ৩০ অগস্ট আদালত হয়তো অর্জুনকে বেকসুর খালাসও করে দিত বলে মনে করেন ইষা। তার আগেই বাস্তারের এক নিরীহ তরুণকে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হল বলে মনে করা হচ্ছে।


Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 11,738 other followers