আদিবাসীদের কমিউনিস্ট স্কুল উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট দুয়ার্তের

2-communist-party-philippines-ndf-filipino-children

বোমা মেরে লুমাড নামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্কুল উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিলেন ফিলিপাইনের বহুল বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তে। শিক্ষকরা স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাওবাদী কমিউনিস্ট বিদ্রোহী হওয়ার শিক্ষা দেন; এমন অভিযোগ তুলে স্কুলে বোমা হামলার হুমকি দেন তিনি। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দুয়ার্তের এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি মাসেই আইএস-এর পর মাওবাদী কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের নিশানা করবেন বলে জানিয়েছিলেন ফিলিপাইনের এই বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট।

সোমবার টেলিভিশনে প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশজুড়ে সেতু আর স্কুল ধ্বংসের নিন্দা জানান দুয়ার্তে। তবে লুমাডদের স্কুল সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, স্কুলগুলো সরকার নয়, পরিচালিত হয় কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের কথায়। দুয়ার্তে ওই বক্তৃতায় বলেন, ‘লুমাড জনগোষ্ঠীকে বলছি, এইসব ছাড়ুন। আপনাদের অবকাঠামোসহ সবকিছু আমি বোমা মেরে উড়িয়ে দেব’।

উল্লেখ্য অস্ত্রভক্তির জন্য দুয়ার্তের পরিচিতি রয়েছে। গত বছর নভেম্বরে নিজ হাতে গুলি করে হত্যার কথাও স্বীকার করেন দুয়ার্তে। তখন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-কে তিনি জানান, দাভাও শহরের মেয়র থাকাকালে তিনি তিন সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন। ওই শহরে দুয়ার্তে ২০ বছর ধরে নির্বাচিত মেয়র ছিলেন। চলতি মাসে দুয়ার্তে মারাউই সিটির একটি সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সেনাদের উদ্দেশে বলেন, আইএসের সঙ্গে জড়িত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে লড়াইয়ের পর তারা কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের দমনে যুদ্ধে নামবেন।

সূত্রঃ banglatribune


ফিলিপাইনে আইএসের পর প্রেসিডেন্ট দুয়ার্তের টার্গেট মাওবাদী কমিউনিস্টরা

npa-4

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তে জানিয়েছেন, ‘আইএস বোকাদের দমনের পর এবার তার লক্ষ্য কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের উৎখাত করা।’ কয়েকটি হামলার পর কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা বাতিল করে এ লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন বন্দুকভক্ত প্রেসিডেন্ট বলে পরিচিত দুয়ার্তে।

বৃহস্পতিবার দুয়ার্তে মারাউই সিটির একটি সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সেনাদের উদ্দেশে বলেন, আইএসের সঙ্গে জড়িত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে লড়াইয়ের পর তারা কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের দমনে যুদ্ধে নামবেন।

দুয়ার্তে বলেন,  এখানে ওই বোকাদের (আইএস) দমনের পর আমরা নিউ পিপল’স আর্মির বিরুদ্ধে নতুন অভিযান শুরু করব।

নিউ পিপল’স আর্মি হচ্ছে কমিউনিস্ট পার্টি অব দ্য ফিলিপাইনের সশস্ত্র বাহিনী।

দুয়ার্তে আরও বলেন, তাদের আমি আর আলোচনা করতে চাই না। তারা আমাদের অনেক সেনাদের হত্যা করেছে, অনেক পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছে। ভাবতে পারেন বাজারে যাওয়ার সময় দুই সেনাকে হত্যা করা হয়েছে। এটা আমাকে ক্ষুব্ধ করেছে।

চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে নেদারল্যান্ডসে কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারের মধ্যস্ততাকারীদের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসার কথা ছিল। কিন্তু দুয়ার্তের নিরাপত্তারক্ষীদের উপর হামলার পর আলোচনাটি বাতিল করা হয়েছে।

শুক্রবার দুয়ার্তের মুখপাত্র আর্নেস্টো আবেলা সাংবাদিকদের বলেন, মেনে নেওয়ার মতো শর্তে উভয় পক্ষ রাজি না হওয়া পর্যন্ত সবকিছু স্থগিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক দশক ধরেই ফিলিপাইনে কমিউনিস্ট ও মুসলিম বিদ্রোহীরা সশস্ত্র সংগ্রাম করে আসছে। দেশের বিভিন্ন অংশে সরকারি সেনাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে তারা।

সূত্র: আল জাজিরা।


বোকো হারামের চেয়েও ভয়ঙ্কর মাওবাদীরা: যুক্তরাষ্ট্র

498918-jpg_343332_1000x667

নাইজেরিয়ার সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বোকো হারামের থেকেও ভয়ঙ্কর মাওবাদীরা, এক মার্কিন প্রতিবেদনে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। এই রিপোর্ট অনুযায়ী, জঙ্গিহামলার মোকাবিলায় ইরাক এবং আফগানিস্তানের পর তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারত।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, ভয়ঙ্কর জঙ্গি সংগঠনগুলির মধ্যে সবচেয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে আইএস এবং দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তালিবান। তবে বোকো হারামের মতো বিপজ্জনক-ভয়ঙ্কর সংগঠনকেও পিছনে ফেলে দিয়েছে মাওবাদীরা। তাদেরকেই সন্ত্রাসবাদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রাখা হয়েছে।

তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসের মাত্রা গত বছর ৯৩শতাংশ বেড়ে গেছে। যদিও, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যে সন্ত্রাস আরও ৫৪.৮১শতাংশ বেড়েছে। আগে ভারতের স্থানে ছিল পাকিস্তান। এনসিটিআরটি-এর এক রিপোর্ট অনুযায়ী সন্ত্রাসবাদী হামলায় মৃত এবং আহতদের সংখ্যা এখন পাকিস্তানের থেকেও বেশি ভারতের। ……………..

সূত্র: কলকাতা টোয়েন্টিফোর

http://www.bd-pratidin.com/international-news/2017/07/23/250148

 


ভারতে চলতি বছরে পুলিশের চর সন্দেহে ৯৪ জনকে হত্যা করেছে মাওবাদীরা

498909-jpg_343331_1000x667

ভারতে এই বছরে প্রথম ছয় মাসে পুলিশের চর হিসেবে চিহ্নিত করে ৯৪ জনকে হত্যা করেছে মাওবাদীরা ।
বুধবার রাজ্যসভা একথা জানিয়েছে। লিখিত এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হংসরাজ অহির বলেন, ‘২০১৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত বামপন্থী এই চরমপন্থিরা ৯৪ বেসামরিক লোককে হত্যা করেছে।’

তিনি আরো বলেন, এইসব উপজাতীয় লোককে পুলিশের চর হিসেবে চিহ্নিত করে হত্যা করা হয়। বামপন্থী চরমপন্থি সংগঠনটি এই সব বেসামরিক লোকদের হত্যার আগে তাদের ওপর নির্যাতন চালায়।’ হংসরাজ বলেন, ‘এইসব বেসামরিক লোককে গুলি করে, বেদম পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে হত্যা করা হয়।’ পিটিআই।

সূত্রঃ http://indianexpress.com/article/india/94-civilians-killed-by-maoists-this-year-till-june-government-4767971/


কলম্বিয়ায় মার্কসবাদী ইএলএন গেরিলাদের সঙ্গে সংঘর্ষে সেনা কর্মকর্তা নিহত

colombia-eln-guerrillas-train

বোগোটা, ১৭ জুলাই, ২০১৭: কলম্বিয়ায় মার্কসবাদী ইএলএন গেরিলাদের সঙ্গে সংঘর্ষে এক সৈন্য নিহত হয়েছে। রোববার দেশটির সেনাবাহিনী একথা জানিয়েছে।
দেশটির সবচেয়ে বড় বিদ্রোহী গোষ্ঠী ফার্কের সঙ্গে সরকারের শান্তি চুক্তির পর এ ঘটনা ঘটল।

ইএলএন একমাত্র বিদ্রোহী দল যারা এই চুক্তির পরও দেশটিতে বিদ্রোহী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। খবর এএফপি’র।

সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, বাজো কাউকা এলাকায় সেভেনথ আর্মি ইউনিট ফোর্সের সঙ্গে ইএলএন যোদ্ধাদের এ সংঘর্ষ হয়। এতে সেনা কর্মকর্তা জন ফ্রেডি গোমেজ সালাজার নিহত হন।

সূত্রঃ http://www.bssnews.net/bangla/newsDetails.php?cat=3&id=410375&date=2017-07-17


চারু মজুমদারের সংগৃহীত রচনা সংকলন: ‘ভারতবর্ষের জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব’

500x350_0718bd934ac49f1e112b30cd4cfd4285_charu_majumder

ভারতবর্ষের জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব

 

পঞ্চাশ কোটির এই দেশে জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব সফল হওয়ার অর্থ সমগ্র বিশ্বের সমস্ত সাম্রাজ্যবাদ ও সংশোধনবাদ তার নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে এসে দাঁড়াবে।

এ দেশের জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব সফল করতে হবে বিশ্বের সমস্ত সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরোধীতা করে বিশেষ করে মোকাবিলা করতে হবে সাম্রাজ্যবাদী শিবিরের নেতা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের, যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ যুদ্ধ-পূর্ব যুগের জার্মানী, জাপান ও ইটালীর সমস্ত আক্রমণমুখী রূপকে শুধু গ্রহণ করেনি তাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে অনেক দূল। সারা বিশ্বে আজ তার আক্রমণাত্মক কার্যকলাপ ছড়িয়ে আছে এবং ভারতবর্ষকে সে কুক্ষিগত করছে নয়া ঔপনিবেশিক জালে। ভিয়েতনামের মানুষ এই আক্রমণমুখী সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের নেতৃত্ব করছেন। এই সংগ্রাম চলেছে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে। ভারতবর্ষের সফল বিপ্লব এই সাম্রাজ্যবাদ দানবকে একটা ধ্বংসস্তুপে পরিণত করবে।

এই দেশে জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব সফল করতে হবে মহান অক্টোবর বিপ্লবের দেশ সোভিয়েত ইউনিয়নের সক্রিয় বিরোধীতা করে। কারণ সোভিয়েত রাষ্ট্রের, পার্টির ও সৈন্যবাহিনীর বর্তমান নেতারা সংশোধনবাদী নীতি গ্রহণ করে বুর্জোয়া একনায়কত্ব কায়েম করেছে এবং এশিয়া, আফ্রিকা, লাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে মার্কিন সহযোগিতায় শোষক ও শাসকের ভূমিকা নিয়েছে। ওরা এই ভারতবর্ষে মহান লেনিনের নামে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রধান ফেরিওয়ালা। ওদের তৈরী দালালদের সাহায্যে [ডাঙ্গে চক্র ও নয়াসংশোধনবাদী চক্রের সাহায্যে] ভারতবর্ষকে নিরঙ্কুশ শোষণের ক্ষেত্র বানাচ্ছে এবং সংগ্রামী জনতাকে ধোঁকা দিয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও দেশীয় প্রতিক্রিয়াশীলদের বিশ্বাসী কুকুরদের কাজ করছে। ভারতবর্ষের সফল বিপ্লব শুধু ভারতবর্ষের মাটিতেই সোভিয়েত সংশোধনবাদ ও তাদের দেশী দালালদের মৃত্যুর দিন ঘনিয়ে আনবে না, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তাদের মৃত্যু ঘটবে নিশ্চিত।

আমাদের দেশে জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব সফল করতে হবে মহান চেয়ারম্যানের চিন্তাধারার উপর নির্ভর করে। চেয়ারম্যানের চিন্তাধারাকে কে কতখানি উপলব্ধি করল ও প্রয়োগ করল তারই উপর তিনি বিপ্লবী কিনা তার বিচার হবে। তাছাড়া চেয়ারম্যানের চিন্তাধারা যতখানি কৃষক ও শ্রমিকদের মধ্যে প্রচার ও প্রসার করা হোল তারই উপর বিপ্লবী জোয়ার সৃষ্টি হবে। কারণ চেয়ারম্যানের চিন্তাধারা আজকের যুগের মার্কসবাদ-লেনিনবাদ, তাইই নয় চেয়ারম্যান মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে অনেক উচ্চ পর্যায়ে তুলছেন। তাই বর্তমান যুগ চেয়ারম্যানের চিন্তাধারার যুগে রূপান্তরিত হয়েছে।

আমাদের ভারতবর্ষে জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব সফল করতে হবে দেশের ভেতরে আমলাতান্ত্রিক ও মুৎসুদ্দি পুঁজির বিরুদ্ধে এবং ব্যাপক গ্রামাঞ্চলে সামস্ত শোষণের বিরুদ্ধে। পঞ্চাশ কোটি মানুষের এই দেশে যেহেতু গ্রামে বাস করেন ৪০ কোটি লোক এবং যেহেতু তাদের উপর সামন্ত শোষণই প্রধান, তাই আমাদের দেশের আজও প্রধান বিরোধ গ্রামের কৃষক শ্রেণীর ও জমিদার শ্রেণীর মধ্যে। এই বিরোধের মীমাংসা হতে পারে একমাত্র গ্রামাঞ্চলে, শ্রমিক নেতৃত্বে কৃষকের সশস্ত্র বাহিনীর সাহায্যে মুক্ত অঞ্চল গড়ার মধ্য দিয়ে। আমাদের যুগে এ কাজ সর্ব বৃহৎ ও সর্ব প্রধান কাজ হিসাবে দেখা দিয়েছে কারণ ভারতবর্ষে আজ বিপ্লবী আন্দোলনের জোয়ার এসেছে এবং চেয়ারম্যানের নির্দেশিত এই পথ কৃষক ও বিপ্লবী জনতার মধ্যে ক্রমেই বেশী বেশী করে প্রবেশ করছে।

আমাদের দেশে বিপ্লব করতে হবে আমলাতান্ত্রিক ও মুৎসুদ্দি পুঁজির প্রতিভূ কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে যারা যুদ্ধোত্তর যুগের গণ-অভুত্থান দেখে ভয় পায় এবং সমস্ত শ্রেণীর সহযোগিতায় সা¤্রাজ্যবাদীদের সাথে রফা করে। ভারতবর্ষের তথাকথিত কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা সক্রিয় সহযোগিতা করল এই সব প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির সাথে, কখনও আপসের নামে, কখনও সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা মারফৎ। তারা কলঙ্কিত করেছে কায়র বীরদের পুনাপ্রাভায়ালার সংগ্রামীদের, তেলেঙ্গানার অসম সাহসীক বীর এবং বাংলা ও অন্যান্য দেশের শত শত শহীদদের রক্তে রঞ্জিত লাল পতাকা। আজ ভারতবর্ষের প্রতিটি রাজনৈতিক পার্টি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ, সোভিয়েত সংশোধনবাদ ও দেশীয় প্রতিক্রিয়াশীলদের সক্রিয় সহযোগী ও বিপ্লবের শত্রু। তাই ভারতবর্ষের নয়া-গণতান্ত্রিক বিপ্লব সফল হতে পারে একমাত্র শ্রমিক নেতৃত্বে এবং চেয়ারম্যানের চিন্তাধারার সাহায্যে।

এই নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব সংগঠিত ও সফল করতে হলে চাই শ্রমিক শ্রেণীর পার্টি কমিউনিস্ট পার্টি ও তার রাজনৈতিক মতাদর্শ হবে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ ও তার সর্বোচ্চ রূপ মাও সেতুঙ এর চিন্তাধারা। কিন্তু এই পার্টি কিভাবে গড়ে উঠবে? বিভিন্ন তথাকথিত মার্ক্সিষ্ট সদস্যরা চেয়ারম্যান মাও সেতুঙ-এর চিন্তাধারা মানেন বলে তাদের পার্টির নেতৃত্বেও বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে আসলেই কি আমরা তাদের একত্রিত করে ঘোষণা করবে। যে একটি মাওবাদী পার্টি গঠিত হল? নিশ্চয়ই না। কারণ শুধু বিদ্রোহের পতাকা ওড়ালেই মাওবাদী পার্টি গড়ে ওঠে না। সেই বিদ্রোহী কমরেডদের চেয়ারম্যানের চিন্তাধারাকে বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে এবং সেই প্রয়োগের মারফৎ শ্রমিক ও কৃষক ক্যাডার তৈরী করতে হবে। তবেই আমরা বলবো একটি সঠিক মাওবাদী পার্টি গড়ার পথে এগোচ্ছি। পুরাতন রাজনৈতিক কর্মীরা অবশ্যই এই পার্টিতে থাকবেন কিন্তু মূলত এই পার্টি গড়ে উঠবে শ্রমিক কৃষক ও মেহনতী মধ্যবিত্ত শ্রেণীর যুবকদের দ্বারা, যাঁরা শুধু মুখে চেয়ারম্যানের চিন্তাধারাকে মানবেন না, জীবনে তার প্রয়োগ করবেন, ব্যাপক জনতার মধ্যে প্রচার ও প্রসার করবেন এবং গ্রামাঞ্চলে সশস্ত্র সংগ্রামের ঘাঁটি বানাবেন। সেই নতুন পার্টি শুধু বিপ্লবী পার্টিই হবে না; তারা হবে জনতার সশস্ত্র বাহিনী এবং জনতার রাষ্ট্রশক্তি। এই পার্টির প্রত্যেকটি সভ্যকে সংগ্রাম করতে হবে সামরিক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে। এই রকম একটি পার্টি গড়ার কাজে আমাদের এখনই হাত দিতে হবে। সারা ভারতবর্ষব্যাপী এরকম পার্টি গড়া আজকেই হয়ত সম্ভব নয় কিন্তু তাতে হতাশ হলে চলবে না। যতটুকু এলাকায় এরকম পার্টি গড়া যায় সেইটুকু এলাকা নিয়েই কাজ শুরু করতে হবে সংখ্যালঘু হওযার ভয় আমাদের ত্যাগ করতে হবে এবং চেয়ারম্যানের চিন্তাধারার উপর দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে অগ্রসর হতে হবে। আমাদের কাজ সহজ নয়, অত্যন্ত কঠিন। আমাদের সংগ্রাম বিশ্বের সমস্ত সংগ্রামী মানুষের মনে নতুন উৎসাহ সৃষ্টি করবে। এইভাবে আমরা সফলভাবে ভিয়েতনামের বীর যোদ্ধাদের সাহায্য করতে পারবো। এই রকম একটি বিপ্লবী পার্টি পারে সফলভাবে সশস্ত্র সংগ্রাম পরিচালনা করতে এবং পারে ব্যাপকতম যুক্তফ্রণ্ট গড়ে তুলতে – যে দুটোর সাহায্যে বিপ্লব সাফল্যমণ্ডিত হবে।

যাঁরা ভাবছেন যে তথাকথিত মার্কসবাদী পার্টিগুলো থেকে ব্যাপকতম অংশকে আমাদের পক্ষে টেনে আনাই প্রধান কাজ এবং এ কাজ করতে পারলেই বিপ্লবী পার্টি গড়ে উঠবে তারা আসলে আর একটা নির্বাচনের পার্টি গড়ার কথাই ভাবছেন সচেতনভাবে বা অচেতনভাবে। কারণ তারা ভুলে যাচ্ছেন যে এইসব তথাকথিত মার্কসবাদী পার্টিগুলোর সভ্যদের হয়তো বিপ্লবী হওয়ার মতো গুণ আছে এখনও, কিন্তু যে প্রয়োগের মধ্য দিয়ে তারা গেছেন তা হল খাঁটি সংশোধনবাদ এবং সেই প্রয়োগের ফলে তারা তাদের বিপ্লবী গুণগুলি অনেকাংশেই হারিয়েছেন এবং তাদের নতুন প্রয়োগ শিক্ষার ভিতর দিয়ে নতুন করে বিপ্লবী হতে হবে। তাই পুরাতন পার্টি সভ্যদের উপর ভরসা করে বিপ্লবী পার্টি গড়া যায় না। নতুন পার্টি তৈরী হবে সম্পূর্ণ নতুন বিপ্লবী শ্রমিক-কৃষক ও মধ্যবিত্ত যুবকদের চেয়ারম্যানের চিন্তাধারায় শিক্ষিত করে বিপ্লবী প্রয়োগ মারফৎ।

বিপ্লবী পার্টি গড়ার প্রাথমিক শর্ত হচ্ছে গ্রামাঞ্চলে সশস্ত্র সংগ্রাম গড়ে তোলা। এ কাজে হাত না দেওয়া পর্যন্ত বিপ্লব শুধু মুখে স্বীকার করা হোল। সুতরাং চেয়ারম্যানের ভাষায় তাঁরা হলেন কথায় বিপ্লবী (revolutionary in words)। আমাদের বিপ্লবী পার্টি গড়ে উঠবে কাজে বিপ্লবীদের (revolutionary in deeds) দ্বারা। এভাবে না দেখলে পার্টি হবে একটি কচকচির আড্ডাখানা (debating society)। যেমন বর্ধমান প্লেনাম হলো একটি কচকচির আড্ডাখানা।

বর্ধমানে কি হয়েছে? যে সোভিয়েত শাসকচক্র আজ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের গণমুক্তি সংগ্রামের এক নম্বর শত্রু হয়ে গেছে এবং প্রকাশ্যভাবে জাতীয় বিপ্লবগুলি ধ্বংস সাধনের চেষ্টা করছে সেই সোভিয়েত রাষ্ট্রে ধনতন্ত্রের কতখানি বিকাশ হয়েছে তাই নিয়ে জোর বিতর্ক চালান হোল। শ্রমিকশ্রেণীর একনায়কত্ব ধ্বংস করে যেখানে বুর্জোয়া একনায়কত্ব কায়েম হয়ে গেছে সেখানে ধনতন্ত্রের বিকাশ নিয়ে জোরতর্ক করা হচ্ছে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করা এবং প্রধান শত্রুর বিরুদ্ধে সংগ্রামকে ভোঁতা করে দেওয়া। তাই বর্ধমানে যা ঘটেছে তাতে, দুনিয়াব্যাপী সংশোধনবাদীরা খুশী হয়েছে এবং তাদের চক্রান্ত সফল হয়েছে। বর্ধমানে একজনও এই সংশোধনবাদী বিশ্বাসঘাতকদের সম্পর্ক ত্যাগ করেনি।

তাই পার্টির ভেতরে যে বিপ্লবী শক্তি আছে তার উপর ভরসা করলে আমরা বিপ্লবী পার্টির বাইরে লক্ষ লক্ষ বিপ্লবী নওজোয়ানদের প্রতি। তবেই সত্যিকারের বিপ্লবী পার্টি গড়ে উঠবে এবং সশস্ত্র সংগ্রামের বিপ্লবের ঘাঁটি আমরা তৈরী করতে পারবো।

কমরেডস, আমাদের দায়িত্ব অনেক। বিশ্বের সমস্ত প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি আমাদের দেশকে ঘাঁটি করেছে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুক্তি সংগ্রামকে ধ্বংস করার কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহার করছে। ভারতবর্ষকে তারা কামানের খোরাক সংগ্রহের প্রধান কেন্দ্র করতে চাচ্ছে মহান চীনের বিরুদ্ধে আক্রমণের। সেই ষড়যন্ত্রই করে গেলো দলত্যাগী কোসিগিন-ট্রিটো আর চেষ্টার বোলজ নয়া-দিল্লীতে ইন্দিরা গান্ধীর সাথে বসে। তাই তো আমাদের দেশে বিপ্লব করা একটা বিরাট আন্তর্জাতিক দায়িত্ব। তাই নকশালবাড়ীর ছোট্ট স্ফূলিঙ্গ সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ণ এশিয়ার সংগ্রামী জনগণকে উৎসাহিত করে, উৎসাহিত করে বিশ্ব বিপ্লবের নেতা মহান চীন পার্টির নেতাদের, উৎসাহিত করে পৃথিবীর সমস্ত দেশের বিপ্লবী জনতাকে। এক পবিত্রতম আন্তর্জাতিক দায়ীত্ব আমাদের মাথায় এবং আমরা এই দায়ীত্ব পালন করবোই। মূল্য দিতে হবে অনেক, কিন্তু মূল্য দিতে ভয় পায় না বিপ্লবীরা চেয়ারম্যানের শিক্ষা: আমাদের লড়বার হিম্মত রাখতে হবে-জেতবার হিম্মত রাখতে হবে (We must dare to fight and dare to win)। চেয়ারম্যান এখনও বেঁচে আছেন। জয় আমাদের হবেই।

চেয়ারম্যান মাও সেতুঙ-জিন্দাবাদ।

দীর্ঘ-দীর্ঘদিন ধরে তিনি বেঁচে থাকুন!

ভারতবর্ষের নয়া-গণতান্ত্রিক বিপ্লব-জিন্দাবাদ!

দেশব্রতী”, ১৬ই মে, ১৯৬৮

 


ফিলিপিন্সে মাওবাদী হামলায় প্রেসিডেন্ট গার্ডের ৫ সৈন্য আহত

maoist